[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

হযরত আমর বিন আল জামুহ এর জীবনী ।। Sahabi Amor Bin Jamuh Jiboni

 হযরত আমর বিন আল জামুহ (রাঃ) এর জীবনী

“এই বৃদ্ধ লোক তাঁর খোঁড়া পা নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করার সংকল্প করেন।” হযরত আমর জাহিলোী যুগে ইয়াসরিবের বিশিষ্ট নেতাদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি বনী সালামার প্রধান নেতা ছিলেন। তাছাড়াও তিনি একজন দানবীর ছিলেন এবং আরবদের সাহসী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন । তৎকালীন আরবদের সম্মানিত ব্যক্তিদের একটি প্রথা ছিল তারা প্রত্যেকে নিজের ঘরে একটি মূর্তি রাখত। সকাল-সন্ধ্যা মূর্তিটির পূজা করত এবং এর সন্তুষ্টির জন্যে পশু জবাই করত। আর বিপদে পড়লে মূর্তিটির প্রার্থনা করত এবং তার নিকটে সাহায্য চাইত । হযরত আমর পর পর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে যে মূর্তিটি তাঁর ঘরে রাখতেন তার নাম ছিল মানাত। মূল্যবান কাঠ দিয়ে তিনি মূর্তিটি তৈরি করেন এবং এই মূর্তির পেছনে অনেক অর্থ ব্যয় করতেন। এর জন্যে উন্নত সুগন্ধি ব্যবস্থা করতেন। সর্বোপরি তিনি একে অনেক ভালোভাবে পরিচর্যা করতেন ।

হযরত আমর তাঁর জীবনের ষাট বছর শিরকের ওপর অতিবাহিত করেছেন। তখন মদিনাতে প্রথম সুসংবাদ প্রদানকারী হযরত মুসয়াব বিন উমাইর আহ্বানে মদিনায় একের পর এক করে সবাই মুসলমান হতে লাগল। তাঁর দাওয়াতে মদিনাতে দিনে দিনে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে লাগল। হযরত আমর পরিমানের-এর তিন ছেলেও তাঁর হাতে মুসলমান হয়ে গেলেন। তাঁরা হচ্ছেন মুআউয়াজ, মুয়াজ ও খাল্লাদ । এ তিন জনের সাথে তাঁদের মায়েরাও মুসলমান হয়ে গেছেন। অথচ হযরত আমর পর তাঁদের ঈমান আনার ব্যাপারে কিছুই জানতে পারেননি ।
হযরত হিন্দ রাদিআল্লাহ হযরত আমর স্ত্রী ছিলেন। তিনি দেখলেন ধীরে ধীরে মদিনাতে ইসলামের প্রভাব বাড়তে লাগল এবং তাঁর স্বামী ব্যতীত মদিনার অধিকাংশ মান্যগণ্য নেতাগণ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তখন মদিনার পরিবেশ এমন ছিল যে, খুব কম লোকই ইসলামের বিরোধিতা করত। তাছাড়া হযরত আমর স্ত্রীদের মধ্যে হযরত হিন্দ তাঁকে বেশি ভালোবাসতো ! আর এই কারণে তিনি তাঁর ব্যাপারে খুবই চিন্তিত ছিলেন। কেননা যদি হযরত আমর সম কাফের অবস্থায় মারা যান তাহলে তাঁকে জাহান্নামে যেতে হবে । ওই দিকে হযরত আমর তাঁ ছেলেদের নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। তাঁরা যদি আবার মুসয়াব বিন উমাইরের ফাঁদে পড়ে নিজেদের বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলে। তাঁর চিন্তার কারণ ছিল মুসয়াব বিন উমাইর যেভাবে অল্প দিনেই মদিনার অনেক লোকের হৃদয়কে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে সুতরাং তাঁর ছেলেদের হৃদয় পরিবর্তন হতে আর কতক্ষণ লাগবে। যদিও তার এই চিন্তা অনেক আগেই সত্যের রূপ নিয়েছে, কিন্তু সে সম্পর্কে তিনি সামান্যটুকুও জানতে পারেননি। হঠাৎ একদিন তিনি তাঁর স্ত্রী হিন্দাকে বললেন: তোমার ছেলেদেরকে ওই ব্যক্তি থেকে সতর্ক করবে যাতেকরে ভুলেও তারা তার সাথে দেখা না করে। তিনি ওই ব্যক্তি দ্বারা মুসয়াব (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করলেন। তাঁর স্ত্রী বললেন: আপনার কথা শুনলাম এবং মেনে নিলাম, কিন্তু আপনার ছেলে মুয়াজ তাঁর কথা শুনলে আপনার সমস্যা কোথায়? তিনি বললেন: তোমার জন্য আফসোস্! আমার ছেলে নিজের বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করবে অথচ আমি জানব না?

তাঁর প্রতি তাঁর স্ত্রীর মনে দয়া হলো, তাই তিনি বললেন: না তা কখনো হতে পারে না, কিন্তু আপনার ছেলে মুয়াজ তার এক সভায় উপস্থিত ছিল এবং সে যা বলেছে তা থেকে কিছু কথা মুখস্থ করে রেখেছে । তিনি বললেন: তাকে আমার নিকটে ডেকে আন......। যখন তাঁর ছেলে উপস্থিত হলো তিনি বললেন: এই লোক যা বলেছে তা থেকে আমাকে কিছু শুনাও। তাঁর ছেলে তেলাওয়াত করতে শুরু করলেন-
الحَمدُ لِلَّهِ رَبِّ العَلَمِينَ . الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ . اهْدِنَا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ ، صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيهِم غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيْهِم وَلَا الضَّالِّينَ . অর্থ- পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করলাম । সকল প্রশংসা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্য । যিনি দয়ালু ও দয়াময় । যিনি বিচার দিনের মালিক । আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি আর তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি ।
তুমি আমাদেরকে সরল পথ দেখাও।
তাদের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ ।
তাদের পথ না যারা অভিশপ্ত আর পথভ্রষ্ট।

সূরা ফাতিহা শুনার পর হযরত আমর বললেন: আহ! কতই না সুন্দর বাণী আর প্রতিটি বাক্যকে কতই না উত্তম অলংকারে সাজানো হয়েছে। তাঁর প্রতিটি কথা কি মতো সুন্দর? তাঁর ছেলে হযরত মুয়াজ বললেন : বাবা; বরং এর থেকেও সুন্দর। আপনি কি তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণ করবেন; অথচ আপনার পুরো জাতি তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণ করেছে। এ কথা শুনে তিনি কিছুক্ষণ চুপ ছিলেন। এরপর তিনি মুখ খুললেন । তিনি বললেন: আমি আমার দেবতা মানাতের সাথে পরামর্শ না করে কিছুই করব না । তাঁর ছেলে বললেন বাবা! এটি কি বলবে? এটিতো কাঠের মূর্তি, সেতো বধির কিছু শুনেও না আর কিছু বলতেও পারে না । তিনি ধমকের সুরে বললেন: আমি তোমাকে বললাম: আমি তাকে ছাড়া কিছুই করব না ।
ছেলে ও স্ত্রীর সাথে কথোপকথন শেষ করে হযরত আমর মূর্তির কাছে গেলেন। ওই দিকে তার স্ত্রী ও তাঁর ছেলে বুদ্ধি করে মূর্তির পেছনে একজন বৃদ্ধা মহিলাকে বসিয়ে রেখেছে, যাতেকরে তিনি যখন মূর্তিকে কোনো কিছু জিজ্ঞেসা করবেন তখন ওই মহিলা তাঁর কথার জবাব দিবে, এতে করে তিনি ধারণা করবেন যে তাঁর মূর্তিই তার কথায় সাড়া দিয়েছে। হযরত আমর জির মূর্তির সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসলেন। তিনি তার অনেক প্রশংসা করলেন এবং তার কাছে খুব বেশি অনুরাগী হয়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন। তিনি বলতে লাগলেন- “হে মানাত! এতে কোনো সন্দেহ নেই মক্কা থেকে আমাদের নিকটে আগমনকারী এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি অবশ্যই জ্ঞাত। যে শুধু তোমার ক্ষতি চায়......... এবং তোমার ইবাদত করতে আমাদেরকে নিষেধ করে........।

অথচ আমি তার কথামতো তার হাতে বায়াত হতে অপছন্দ করি। আর এই কারণে আমি তোমার সাথে পরামর্শ করতে এসেছি; সুতরাং তুমি আমাকে পরামর্শ দাও। কিন্তু তার মতো আবেগভরা প্রার্থনাতেও মূর্তির মুখ থেকে কোনো উত্তর বের হলো না । তিনি আবার মূর্তিকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন- তুমি মনে হয় আমার ওপর রাগ করেছ.......। আমি এরপর থেকে তোমার কষ্ট হবে এমন কোনো কাজই করব না। কিন্তু এতে কোনো সমস্যা নেই, আমি কিছু দিন তোমার থেকে দূরে সরে থাকব তাহলে তোমার রাগ কমে যাবে । হযরত আমর -এর ছেলেরা দেখল তাঁদের বাবার সাথে মূর্তির নিবিড় সম্পর্ক। মূর্তির সাথে তাঁর সম্পর্ক এমনভাবে বাড়তে লাগল মনে হয় তিনি যেন মূর্তির একটি অংশ হয়ে গেছেন। কিন্তু মতো কিছুর পরেও যখন তিনি মূর্তির থেকে কোনো কথার জবাব পাননি তখন ধীরে ধীরে মূর্তির ওপর থেকে তাঁর বিশ্বাস উঠে যেতে লাগল। আর এটাই তাঁর ঈমানের পথকে সুগম করে দিল ।

হযরত আমর -এর ছেলেরা একরাতে তাঁদের বন্ধু মুয়াজ বিন জাবাল- এর সাথে মূর্তির ঘরে প্রবেশ করেন। তাঁরা সেটি নিয়ে বনী সালামার ময়লা আবর্জনার স্তূপে রেখে আসলেন। এই কাজটি তাঁরা এতই গোপনে করেছে যে, কেউ টের পায়নি। এরপর তাঁরা সেখান থেকে নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসেন। সকাল বেলা যখন হযরত আমর জি তাঁর মূর্তিকে অভিবাদন জানাতে গেলেন। কিন্তু তিনি মূর্তিকে না দেখে হতাশ হয়ে গেলেন। তিনি বললেন: তোমাদের ধ্বংস হোক! কে আমাদের প্রভুর সাথে এই রাতে শত্রুতা করেছে?, কিন্তু কেউ তাঁর কথার কোনো উত্তর দিল না। তারপর তিনি ঘরের ভেতরে-বাইরে সব জায়গায় মূর্তিটি খুঁজতে লাগলেন । খুঁজতে খুঁজতে তাকে মাথাভাঙ্গা অবস্থায় ময়লার গর্তে পেলেন। তিনি তাকে গর্ত থেকে তুলে ভালোভাবে গোসল করিয়ে সুগন্ধি মেখে পূর্বের স্থানে রাখলেন । তিনি মূর্তিটিকে বললেন: জেনে রাখ, আল্লাহর শপথ! আমি যদি জানতাম কে তোমার সাথে এমন করেছে তাকে অবশ্যই আমি অপদস্থ করতাম ।

দ্বিতীয় রাতেও সেই সকল যুবকেরা একই কাজ করলেন। গত দিন সকালের মতো আজও হযরত আমর ঘুম থেকে উঠে তাঁর মূর্তিটি খুঁজতে লাগলেন । খুঁজতে খুঁজতে তাকে ময়লা মাখা অবস্থায় ময়লার গর্তে পেলেন । তিনি তাকে গর্ত থেকে তুলে ভালো করে গোসল করিয়ে সুগন্ধি মেখে পূর্বের স্থানে রাখলেন । যুবকেরা প্রতি রাতেই কোনো না কোনো স্থানে মূর্তিটিকে ফেলে রাখতেন। প্রতি রাতে এই ঘটনা বার বার হওয়ার কারণে হযরত আমর খুব বিরক্ত হয়ে গেলেন। শেষে তিনি বুদ্ধি করে ঘুমানোর আগে একটি তরবারি মূর্তিটির গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে বললেন: হে মানাত, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না কে তোমার সাথে এমন করে। আমি তোমাকে এই তরবারিটি দিয়ে গেলাম; সুতরাং তুমি যদি সঠিক হয়ে থাক তাহলে তুমি এর দ্বারা তোমার শত্রুকে প্রতিহত করবে। এরপর তিনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেলেন ৷

যখন যুবকেরা নিশ্চিত হলো যে, হযরত আমর ঘুমিয়ে গেছেন তাঁরা মূর্তিটির কক্ষে প্রবেশ করলেন। তাঁরা তার তরবারিটি নিয়ে নিলেন। এরপর তাঁরা সেটিকে বাইরে এনে একটি মৃত কুকুরের সাথে বেঁধে বনূ সালামার ময়লা আবর্জনার কূপে ফেলে দিলেন আ সেই তরবারিটা তার গলায় ঝুলিয়ে দিলেন। হযরত আমর ঘুম থেকে উঠে তাঁর মূর্তিটি পেলেন না। তিনি তাকে খুঁজতে বের হয়ে গেলেন। খুঁজতে খুঁজতে সেটিকে ময়লা আবর্জনার কূপে একটা মৃত কুকুরের সাথে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখলেন। অথচ মূর্তিটির গলায় তরবারিটা ঝুলছিল । তিনি এই অবস্থায় দেখে মূর্তিটিকে আর কূপ থেকে উঠালেন না । তিনি সেটিকে রেখে চলে এলেন এবং কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন-
অর্থ-
وَاللَّهِ لَو كُنتَ الهَا لَم تَكُن أَنتَ وَكلْبٌ وسَطَ بِمُر في قري
আল্লাহর শপথ যদি তুমি প্রভু হতে
মধ্যকূপে কুকুর আর তুমি থাকতে না এক সাথে ।
এরপর হযরত আমর ইসলাম গ্রহণ করতে আর দেরি করলেন না ।

হযরত আমর ইসলাম কবুল করে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেন। তিনি ঈমান আনার পর তার পূর্বের অবুঝ শিশুর মতো করা শিরকগুলোর জন্যে লজ্জিত হতেন। আর মনে মনে হাসতেন এই ভেবে যে, ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে তিনি বধির, বোবা একটি মূর্তির পূজা করেছেন। তাই ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি নিজের জান-মাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতে শুরু করলেন এবং সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল -এর আদেশ পালনে নিয়োজিত থাকতেন ।
এর কিছুদিন পর উহুদের যুদ্ধের ডাক আসে। তিনি দেখলেন তাঁর তিন ছেলেই আল্লাহর শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি তাঁদেরকে দেখলেন তাঁরা আল্লাহর পথে নিজের জান-মাল কোরবানি করে শাহাদাত অর্জনের অপেক্ষা করছিল। আর এই দৃশ্য দেখে তাঁর মনেও শাহাদাত অর্জনের ইচ্ছা জাগে । যদিও তিনি এখন খুবই বৃদ্ধ। তাঁর সকল পুত্র তাঁকে নিষেধ করতে লাগলেন।' তাঁরা তাঁকে বললেন: আল্লাহ আপনাকে ওযর দিয়েছেন। তাহলে কেন আপনি নিজ আত্মাকে সেই কাজে কষ্ট দিবেন যা থেকে আল্লাহ আপনাকে মুক্ত রেখেছেন। তাদের এই কথা শুনার পরে তিনি খুব রাগান্বিত হলেন। তিনি রাসূল - কে গিয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার এই ছেলেরা আমাকে ঘরে বন্দি করে রাখতে চায়। তারা বলে আমি না কি অক্ষম। অথচ আমি এর দ্বারা জান্নাতে যাওয়ার আসা করছি।

রাসূল তাঁদেরকে বললেন: তোমরা তাকে যেতে দাও, হতে পারে আল্লাহ তাঁকে শাহাদাত দান করবেন। রাসূল -এর নির্দেশ অনুসারে তাঁরা তাকে যেতে দিল ৷ যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে আসলে তিনি তাঁর স্ত্রীদের থেকে চির বিদায় নিলেন। এরপর তিনি কা'বার দিকে মুখ করে আকাশের দিকে হাত তুলে বললেন: হে আল্লাহ! আমাকে তুমি শাহাদাত দান কর, আমাকে ব্যর্থ করে আমার পরিবারে ফিরিয়ে দিও না ৷ এরপর তিনি জিহাদের দিকে রওয়ানা দিলেন। তাঁর সাথে তাঁর তিন ছেলে ও তাঁর গোত্রের অনেক লোক রওয়ানা দিল ।

যখন যুদ্ধের ময়দান উত্তপ্ত হয়ে গেল মানুষেরা রাসূল কে ছেড়ে দূরে চলে যেতে লাগল। তখন হযরত আমর প্রথম সারিতেই ছিলেন। তাঁর এক পা খোঁড়া ছিল আর তাই তিনি তাঁর সুস্থ পায়ের ওপর ভর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন- আমি জান্নাতের প্রত্যাশী.... আমি জান্নাতের প্রত্যাশী... আর তাঁর পেছনে তাঁর ছেলে খাল্লাদ ছুটে যাচ্ছিলেন।
তিনি ও তাঁর ছেলে খাল্লাদ শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত রাসূল -কে ঘেরাও দিয়ে রেখেছেন। তাঁরা তরবারির আঘাত প্রতিহত করতে করতে এক সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি ও তাঁর ছেলে খাল্লাদ একই সময়ে শাহাদাত বরণ করেন।

যুদ্ধ শেষে রাসূল উহুদের শহীদদেরকে দেখতে লাগলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বলতে লাগলেন- তোমরা তাদেরকে রক্ত মাখা অবস্থায় কবর দাও কেননা আমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য দিব। তারপর রাসূল বললেন: যে মুসলমান আল্লাহর রাস্তায় আঘাতপ্রাপ্ত হবে সে কাল কিয়ামতের দিন রক্তঝরা অবস্থায় উঠবে, এর রং হবে জাফরানের রঙের মতো আর এর ঘ্রাণ হবে মিসকে আম্বরের মতো । রাসূল সালামাহ আরো বললেন: আমর বিন আল জামুকে আব্দুল্লাহ বিন আমরের সাথে দাফন কর কেননা তারা দুনিয়াতে খুব ভালো বন্ধু ছিল । আল্লাহ তাআলা যেন আমর বিন জামুর ওপর সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর কবরকে নূরে নূরে ভরে দেন।

তথ্য সূত্র
১. আল ইসাবা - ২য় খণ্ড, ৫২৯ পৃ.। ২. সিফাতুস্ সফওয়া - ১ম খণ্ড, ২৬৫ পৃ.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.