সাহাবী হযরত জায়েদ আল খায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবনী ।। Jayed Al Khair - Sahabider Jiboni
হযরত জায়েদ আল খায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবনী
“তাঁর ইসলাম গ্রহণ ও মৃত্যু মাঝে সময় মতো কম ছিল যে, তিনি কোনো ছোট পাপেও জড়িত হননি” সকল মানুষ খনির মতো, যারা জাহিলী যামানায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইসলামেও তারা শ্রেষ্ঠ ।
[হযরত মুহাম্মদ]
এখন আমরা একজন মহান সাহাবীর জীবনের দুইটি অংশ আলোচনা করব। যার প্রথমটি ছিল জাহিলী জীবন আর দ্বিতীয়টি ছিল ইসলামী জীবন। এই মহান সাহাবীর নাম জায়েদুল খায়েল যাকে লোকেরা জায়েদুল খায়ের নামে ডাকতো । ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূল তাঁকে এই নামে ডেকেছেন । তার প্রথম জীবনী আরবী সাহিত্যে বর্ণিত আছে। হযরত শায়বানী, বনূ আমেরের এক শায়েখ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তখন খুব অনাবৃষ্টি ও খরা রৌদ্র চলছিল যার কারণে সকল ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পশুদের স্তন শুকিয়ে গেছে। আমাদের মধ্য থেকে এক লোক তার পরিবার নিয়ে হিরা নামক এলাকায় চলে গেল । সে তাদেরকে সেখানে রেখে গেল আর বলে গেল আমি ফিরে আসা পর্যন্ত তোমরা এখানে অবস্থান করবে । তারপর সে কসম করে বলে, আমি হয় তোমাদের জন্য কিছু উপার্জন করে ফিরে আসব না হয় মৃত লাশ হয়ে ফিরব। এরপর সে কিছু পাথেয় নিয়ে তার যাত্রা শুরু করল। সে সারা দিন হাঁটতে থাকে । এমন সময় সে একটি তাঁবু দেখতে পেল। তাঁবুটির পাশে একটি ঘোড়ার শাবক বাঁধা ছিল। তাঁবুটির দরজা ছিল বন্ধ। সে তা দেখে মনে মনে বলতে লাগল- এটি হচ্ছে প্রথম গনীমত ।
সে তাঁবুটি লক্ষ্য করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগল । কিন্তু যখন সে তাঁবুতে প্রবেশ করবে এমন সময় সে শুনতে পেল কে যেন তাকে বলছে: তুমি ওটিকে ছেড়ে দিয়ে নিজের জান বাঁচাও। একথা শুনে শাবকটি না ধরে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করল । এরপর লোকটি সাত দিন একটানা হাঁটার পর সে এমন এক জায়গায় উপস্থিত হয় যেখানে উটের খামার ছিল। আর এর পাশেই একটি বিশাল তাঁবু ছিল। তখন লোকটি মনে মনে বলল: এখানে অবশ্যই উট পাওয়া যাবে এবং কোনো মানুষের বসতি অবশ্যই এখানে আছে । সে তাঁবুটির দিকে তাকাল তখন ছিল পড়ন্ত বিকাল। সে সেখানে একজন বৃদ্ধ শায়েখকে দেখতে পেল। সে আস্তে আস্তে তার পেছনে গিয়ে বসে যাতেকরে বৃদ্ধ লোকটি কোনোভাবে টের না পায়। সে সেখানে লুকিয়ে থাকল । এর কিছুক্ষণ পরেই সূর্য ডুবে গেল। তখন সেখানে এক অশ্বারোহী আগমন করেন। লোকটি এত লম্বা ও মোটা ছিল যে, সে কখনো এমন লোক আর দেখেনি। ওই লোকটির সাথে দুইজন গোলাম হাঁটছিল। তাঁর সাথে অন্তত এক শত উট ছিল । ওই ব্যক্তি একটি মোটা-তাজা উটের দিকে ইশারা করে তার এক গোলাম কে বললেন: এই উট থেকে দুধ দোহন কর এবং তা শায়েখকে পান করাও ।
গোলামটি দুধ দোহন করে একটি পাত্র পরিপূর্ণ করল। গোলামটি দুধের পাত্র শায়েখের সামনে রেখে চলে গেল। শায়েখ সেখান থেকে এক চুমুক বা দুই চুমুক পান করে রেখে দিল । শায়েখ যখন দুধ রেখে দিল তখন ওই লোকটি যে এসে লুকিয়ে ছিল সে পাত্রটি নিয়ে পুরো দুধটি পান করে শেষ করে ফেলল। তারপর পাত্রটিকে যথাস্থানে রেখে দিল। গোলামটি ফিরে এসে পাত্রটি খালি দেখে তার মালিককে গিয়ে বলল: হে মালিক! তিনি তো পাত্রের সবটুকু দুধ পান করেছেন । মালিক লোকটিকে আরেকটি উটের দিকে ইশারা করে বললেন: এই উট থেকে দুধ দোহন কর। গোলামটি দুধ দোহন করে শায়েখের সামনে রেখে চলে গেল। শায়েখ সেখান থেকে এক চুমুক বা দুই চুমুক পান করে রেখে দিল । আবারও ওই লুকিয়ে থাকা ব্যক্তি পাত্র থেকে অর্ধেক দুধ পান করে পাত্রটি যথাস্থানে রেখে দেয়। কেননা পুরোটা শেষ করলে হয়তো সন্দেহ করবে তাই অর্ধেক পান করে বাকিটুকু রেখে দিল । তারপর মালিক লোকটি তাঁর গোলামদেরকে একটি বকরি জবাই করার আদেশ দিলেন। তারা বকরি জবাই করে কাবাব করে তা থেকে শায়েখকে দিলেন এবং নিজেরাও খেলেন ৷ খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা তিনজনই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেলেন।
লুকিয়ে থাকা লোকটি বলল: তারপর আমি উটের পালের দিকে গেলাম এবং সেখান থেকে একটি উট নিয়ে আমি খুব দ্রুত সামনের দিকে ছুটতে লাগলাম । আমি সারা রাত ধরে চলতে থাকি। যখন সকাল হলো আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম আমাকে কেউ অনুসরণ করছে কিনা। দেখলাম, না কেউ আমার পিছু নেয়নি। তারপরও আমি আমার উট চালিয়ে যেতে লাগলাম। যখন সূর্য অনেক উপরে উঠে যায় আমি আমার যাত্রাবিরতি করি । হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে দেখতে পাই আমার পেছনে কে যেন বাজ পাখির মতো তেড়ে আসছে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম একটি ঘোড়ায় চড়ে এক আরোহী আসছেন, কিন্তু তখনো আমি তাকে চিনতে পারিনি। যখন তিনি আরো নিকটে আসলেন আমি তাকে চিনতে পারলাম; তিনি আর অন্য কেউ নই তিনি স্বয়ং আমার নিয়ে আসা সেই উটের মালিক । আমি সাথে সাথে উটটি বেঁধে ধনুক থেকে একটি তীর বের করে নিই। তীর দেখে লোকটি থেমে গেলেন। তিনি বললেন: তুমি উটটি দিয়ে দাও। আমি বললাম: কখনো না, কেননা আমি আমার স্ত্রীদেরকে ক্ষুধার্ত অবস্থা রেখে এসেছি এবং তাদেরকে বলে এসেছি, আমি হয় তোমাদের জন্য কিছু নিয়ে আসব অথবা আমি মৃত হয়ে ফিরব।
তিনি বললেন: অবশ্যই তুমি মারা যাবে। তাড়াতাড়ি উট দিয়ে দাও হতভাগা । আমি বললাম: আমি কখনো উট ফিরিয়ে দিব না।
তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হউক, তুমি প্রতারিত প্রবঞ্চিত । তারপর তিনি আবার বললেন: তুমি আমাকে উট বেঁধে রাখার রশিটি দেখাও । আমি তাঁকে রশিটি দেখালাম। লোকটি রশিটি লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করলেন। তীরটি রশিটির মাঝে এমনভাবে গেঁথে গেল মনে হয় কেউ তা রশিতে নিজ হাতে রেখেছে। আমি তা দেখে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। তিনি আমার নিকটে আসলেন এবং আমার তরবারি এবং তীরগুলো নিয়ে নিলেন । তিনি আমাকে বললেন: তুমি আমার পেছনে চড়ে বস । আমি তার পেছনে চড়ে বসলাম । তিনি আমাকে বললেন: তোমার কি ভাবছ আমি তোমার সাথে কেমন ব্যবহার করব? আমি বললাম: আমার ধারণা আপনি আমাকে কঠিন শাস্তি দিবেন। তিনি বললেন: কেন? আমি বললাম: কেননা আমি আপনার সাথে যে অপরাধ করেছি, আপনাকে যে কষ্ট দিয়েছি। অবশেষে আল্লাহ আমার উপরে আপনাকে বিজয় দান করেছেন। তিনি বললেন: তোমার ধারণা আমি তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করব, তোমাকে শাস্তি দিব অথচ ওই রাতে তুমি মুহালহেলের পাশে বসে খেয়েছ এবং পান করেছ। (মুহালহাল হচ্ছে লোকটির বাবা)। আমি মুহালহেলের নামা শুনে বললাম: আপনি কি জায়েদুল খায়েল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: তাহলে আপনি বন্দির সাথে উত্তম ব্যবহার করুন ।
তিনি বললেন: তোমার কোনো চিন্তা নেই ।
তিনি আমাকে তাঁর থাকার স্থানে নিয়ে গেলেন । তিনি আমাকে বললেন: আল্লাহর শপথ! যদি এই উট আমার হতো অবশ্যই আমি তা তোমাকে দিয়ে দিতাম, কিন্তু এই উটটি আমার বোনের। তুমি আমার নিকটে থাক। অচিরেই আমি যুদ্ধ করব সেখান থেকে যা পাই তা তোমাকে দিয়ে দিব । বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি মাত্র তিন দিন পর তিনি বনূ নুয়াইমের ওপর আক্রমণ করেন এবং সেখানে একশত উটের কাছাকাছি গনীমত পেলেন। তিনি সবগুলো উট আমাকে দিয়ে দিলেন। আমি যাতে ঠিক ঠাক মতো পৌঁছতে পারি সে জন্যে তিনি আমার সাথে কিছু লোকও দিলেন। অবশেষে আমি হিরাতে এসে পৌছি।
প্রিয় পাঠক! এতক্ষণ পর্যন্ত আপনি যে ঘটনাটি পড়লেন এই ঘটনায় একশত উট দানকারী সেই মহান ব্যক্তিই ছিলেন হযরত জায়েদুল খায়েল যিনি জায়েদুল খায়ের নামে পরিচিত। এই হচ্ছে তাঁর জাহিলী যামানার ইতিহাস। জাহিলী যামানাও তাঁর ব্যবহার এত সুন্দর ছিল। এত বড় দানবীর ছিলেন তিনি । এবার ইসলামে প্রবেশ করার পর তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া সেই ইতিহাস আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরব। যখন জায়েদ মসলা -এর কানে রাসূল -এর নতুন দ্বীন প্রচারের কথা পৌঁছলো, তিনি তাঁর বাহন প্রস্তুত করে তাঁর গোত্রের সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে ডেকে ইয়াসরেব (মদিনা) গিয়ে মুহাম্মদ -এর সাথে সাক্ষাৎ করার কথা বললেন। তাঁর সাথে অনেক ব্যক্তি যেতে প্রস্তুত হলেন। তাঁরা বিশাল একটি বাহিনী হয়ে গেলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুররুবনু সাদুস, মালিক বিন জুবাইর, আমের বিন জুওয়ান আরো অন্যান্যরা। মদিনায় পৌঁছার পর তারা মসজিদের সামনে বাহন রেখে মসজিদের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালেন ।
মসজিদে পা রাখার সাথে তাঁদের চোখ রাসূল -এর দিকে গেল। রাসূল তখন মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তাঁরা রাসূল - এর ভাষণ শুনার জন্য বসে গেলেন। তাদেরকে একটি বিষয় খুব অবাক করেছে যে, রাসূল এর কথাগুলো সাহাবীরা একেবারে চুপ-চাপ থেকে পূর্ণ মনযোগ দিয়ে শুনছেন। তাঁরা আরো দেখল রাসূল -এর কথাগুলো সবার হৃদয়কে কিভাবে কেড়ে নিচ্ছে। রাসূল তাদেরকে দেখতে পেয়ে মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমরা উজ্জা ও আরো অন্যান্য যে সকল মূর্তির পূজা কর তাদের থেকে আমি তোমাদের জন্য উত্তম । তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যে কালো উটের পূজা কর তা থেকে আমি তোমাদের জন্য উত্তম । রাসূল -এর এ কথাগুলো জায়েদ -এর দলের মাঝে দুই রকম প্রভাব সৃষ্টি করে। তাঁদের কতিপয় লোক ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হলো আর কতিপয় লোক কথাগুলো অপছন্দ করে চলে গেল । তাদের মধ্যে দুইটি ভাগ হয়ে যায় তাদের কিছু লোক জান্নাতে যাওয়ার পথ ধরল এবং কিছু লোক জাহান্নামে যাওয়ার পথ ধরল ।
তাদের মধ্যে রুবনু সাদুস বলল: আমি দেখছি লোকটি সারা আরবের মালিকত্ব নিয়ে নিবে। আল্লাহর শপথ! আমি এই ব্যক্তিকে কখনো আমার মালিক হতে দিব না। তারপর সে সিরিয়ায় চলে গেল এবং মাথার চুল ফেলে দিয়ে খ্রিস্টান হয়ে বৈরাগ্য জীবন শুরু করে দিল। কিন্তু ওইদিকে জায়েদ ও তার কিছু সাথির অবস্থা ছিল অন্য রকম । যখন রাসূল -এর ভাষণ শেষ হয় তিনি মুসলমানদের মাঝে গিয়ে বসেন। তিনি অনেক সুন্দর চেহারার লোক ছিলেন এবং অনেক লম্বা ছিলেন। তিনি এতই লম্বা ছিলেন যে, ঘোড়ায় চড়লে তার পা মাটিতে এসে লাগত । তাঁর শরীরের গঠনও অনেক সুন্দর ছিল । তিনি সুন্দর করে বসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই আর আপনি আল্লাহর রাসূল । রাসূল তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বললেন: তুমি কে? তিনি বললেন: আমি জায়েদুল খায়েল ।
রাসূল তাঁকে বললেন: না; বরং আজ থেকে তোমার নাম জায়েদুল খায়ের। তারপর বললেন: সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ তাআলার যিনি তোমাকে নিয়ে এসেছেন এবং তোমার হৃদয়কে ইসলামের জন্যে নরম করে দিয়েছেন। তখন থেকে তিনি জায়েদুল খায়েলের পরিবর্তে জায়েদুল খায়ের নামে পরিচিতি লাভ করেন। তারপর রাসূল তাঁকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। রাসূল -এর সাথে উমর (রঃ)-সহ আরো কিছু সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন। বাড়িতে যাওয়ার পর হেলান দিয়ে বসার জন্য রাসূল তাঁর দিকে বালিশ এগিয়ে দিলেন, কিন্তু তিনি রাসূল -এর সামনে হেলান দিয়ে বসাটা বেয়াদবী মনে করলেন; তাই তিনি বালিশটি ফেরত দিলেন। রাসূল সালাবা তাঁকে তিন বার বালিশটি এগিয়ে দিলেন । তিনি প্রতি বারই রাসূল -কে সেটি ফিরিয়ে দিলেন। মজলিসে সবাই বসার পর রাসূল সালাবার জায়েদ -কে উদ্দেশ্য করে বললেন : আমার নিকটে যত লোকের প্রশংসা করা হয়েছে তাদেরকে যখন আমি দেখেছি তখন প্রশংসিত গুণগুলো পুরোটা কারো মাঝে পায়নি। তবে তোমার যা প্রশংসা শুনেছি তা সবটাই তোমার মাঝে দেখতে পাচ্ছি।
তারপর রাসূল সালাহার বললেন: তুমি এরূপ কিভাবে হয়েছ? তিনি বললেন: আমি সবসময় ভালো কাজ করা পছন্দ করতাম এবং যারা ভালো কাজ করত তাদেরকে পছন্দ করতাম। যখন আমি কোনো ভালো কাজ করতাম তখন সেটির সওয়াব পাওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস করতাম এবং যদি না করতে পারতাম তাহলে খুব আফসোস করতাম । রাসূল বললেন: এটি হচ্ছে আল্লাহর দান, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। তিনি বললেন: সকল প্রশংসা সে আল্লাহ তাআলার যিনি আমাকে তাঁর ও তাঁর রাসূলের পছন্দ মতো সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি নবী করীম -এর দিকে ফিরে বললেন: আপনি আমাকে তিন শত অশ্বারোহী যোদ্ধা দিন, আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে আমি রোমে আক্রমণ করব এবং তা থেকে বিজয় নিয়ে ফিরব। রাসূল তাঁর কথা শুনে তাকবীর দিলেন এবং বললেন: হে জায়েদ! তোমার সকল কল্যাণ আল্লাহর জন্য ........... | তারপর জায়েদের সাথে আসা সকল লোক ইসলাম গ্রহণ করেন ।
যখন জায়েদ নজদে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করেন রাসূল তাঁকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান এবং বললেন: লোকটি অবশ্যই দুঃসাহসী । যদি সে মদিনার মহামারী থেকে রক্ষা পায় তাহলে সে অনেক বড় কিছু হতে পারবে! মদিনাতে তখন জ্বরের মহামারী শুরু হয়েছে। আর সেই মহামারীতে হযরত জায়েদ -ও আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বললেন: আমাকে কায়েসদের এলাকায় থেকে সরিয়ে নাও কেননা তাদের সাথে আমাদের শত্রুতা আছে আর তাই আমি চাই না আমার কারণে কোনো মুসলমান নিহত হউক ।
তিনি তাঁর এলাকা নজদের দিকে চলতে লাগলেন, কিন্তু জ্বর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তিনি মনে মনে তাঁর গোত্রের লোকদের সাথে দেখা করার আশা করেন যাতেকরে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে পারেন, কিন্তু তাঁর আশা আর পূর্ণ হয়নি। অবশেষে তিনি পথেই তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ ও মৃত্যু মাঝে সময় মতো কম ছিল যে, তিনি কোনো ছোট পাপেও জড়িত হননি ।
তথ্য সূত্র
১. আল ইসাবাহ্ - ১ম খণ্ড, ৫৭২ পৃ. ।
২. আল ইসতিআ'ব – ১ম খণ্ড, ৫৬৩ পৃ.
৩. আল আগানী - (সূচিপত্র দ্রষ্টব্য)।
৪. তাযীবু ইবনি আসাকির - (সূচিপত্র দ্রষ্টব্য)।
৫. সামতুল লালিই - (সূচিপত্র দ্রষ্টব্য)।
৬. খ্যানাতুল আদাব লিল বাগদাদী - ২য় খণ্ড, ৪৪৮ পৃ.।
৭. যাইলুল মুযীল - ৩৩ পৃ.
৮. সিমারুল কুলুব - ৭৮ পৃ.।
৯. আশ্ শি'র ওয়াশ্ শুআরা - ৯৫ পৃ.
১০. হুলিয়াতুল আওলিয়া - ১ম খণ্ড, ৩৭৬ পৃ.
১১. হুসনুস্ সাহাবা - ২৪৮ পৃ. ৷