[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) এর জীবনী ।। Sahabi Abu Ibnul Jarrah er Jiboni

 হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) এর জীবনী

“প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে আর এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি আবু উবায়দা।” [তাঁর শানে রাসূল -এর উক্তি]

তিনি ছিলেন উজ্জ্বল সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট হালকা-পাতলা ও বেশ লম্বা। তিনি এমন ছিলেন যাঁকে দেখলে চক্ষু ঠাণ্ডা হতো, যাঁর সাক্ষাতে হৃদয় সান্ত্বনা পেত আর অন্তর প্রশান্তি পেত ।
তিনি অনেক নম্র ভদ্র ছিলেন এবং অনেক লাজুক ছিলেন, কিন্তু যখন তিনি কোনো কঠিন কাজ সমাধান করতে যেতেন তখন তিনি সিংহের মতো সাহসী ও শক্তিশালী হয়ে যেতেন ।
যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল ধারালো তরবারির ন্যায়। তাঁর সাহসিকতা এমন ছিল যাঁকে মানুষ সাহসিকতার উদাহরণ হিসেবে পেশ করত ৷ তিনি হচ্ছেন উম্মতে মুহাম্মদীর আমীন (আমানতদার) ‘আমের বিন আব্দুল্লাহ বিন আল জাররাহ' । যিনি সবার কাছে আবু উবায়দা নামে পরিচিত ছিলেন । তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর বলেন: কোরাইশদের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি যাঁরা সবচেয়ে উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, উত্তম ব্যবহারের অধিকারী ও অত্যন্ত লাজুক। যদি তাঁরা কোনো কথা বলেন তবে মিথ্যা বলেন না। আর যদি কেউ তাঁদেরকে কোনো কথা বলে তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেন না। তাঁরা হচ্ছেন আবু বকর সিদ্দিক, উসমান বিন আফ্ফান ও আবু উবায়দা বিন জাররাহ।
হযরত আবু উবায়দা শুনিয়া তার প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের সারিতে ছিলেন। হযরত আবু বকর ইসলাম গ্রহণ করার পরের দিন তাঁর হাতেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। হযরত আবু বকর তাঁকে ও আব্দুর রহমান, উসমান বিন মাজউন, আরকাম বিন আবুল আরকামকে নিয়ে রাসূল -এর নিকটে যান । তাঁরা রাসূল -এর সম্মুখে তাঁদের ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন । হযরত আবু উবায়দা ইসলাম গ্রহণ করার পর যতদিন মক্কায় অবস্থান করেছেন ততদিন তাঁকে কাফেরদের পক্ষ থেকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তিনি অন্য সাধারণ মুসলমানদের সাথে এমন কষ্ট-যাতনা, দুঃখ- বেদনা সহ্য করলেন যে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মের অনুসারীরা সহ্য করেনি। মতো কষ্ট ভোগ করার পরও তিনি কখনো ইসলাম থেকে সামান্য বিচ্যুত হননি। কঠিন মসিবতেও তাঁর ধৈর্য ছিল পাহাড়সম। তিনি প্রতিটি কাজে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বাস্তবায়ন করতেন । কিন্তু বদরের যুদ্ধে আবু উবায়দা-কে এতো বেশি কষ্টে পতিত হতে হলো যে, যা কেউ ধারণাও করতে পারেনি।

মরণজয়ী যোদ্ধা যাঁরা আর যুদ্ধ থেকে ফিরে আসতে চাইত না হযরত আবু উবায়দা তাদের মতো শত্রুদের কাতারকে ভেদ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলেন। তাঁর আক্রমণ দেখে মুশরিকরা প্রচণ্ড ভয় পেল। অবস্থা এমন হয় যে, তিনি যার দিকে ছুটতেন সে অন্যদিকে দৌড়ে পালিয়ে যেত। তিনি এমনভাবে যুদ্ধ করতে লাগলেন যেন মৃত্যুই তাঁর একমাত্র কাম্য। কিন্তু এক লোক বার বার তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াল। সে সবদিক দিয়ে মুশরিকদের মাঝে আর তাঁর মাঝে প্রাচীরের মতো অবস্থান নিল। তার কারণে আবু উবায়দা কোনোভাবেই সামনের দিকে যেতে পারছিলেন না। তিনি যতই সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করতে ছিলেন সে তাকে তত কঠিনভাবে তাঁর পথ রোধ করতে লাগল ।

অবশেষে আবু উবায়দা ইসলামের পক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্যে ওই লোকটির মাথায় তরবারি দিয়ে এক আঘাত করে দুখণ্ড করে দিলেন। এতে করে লোকটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিন্তু প্রিয় পাঠক! আপনি কি জানেন আবু উবায়দা কার মাথায় তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেছেন? হ্যাঁ সে আর কেউ নই, স্বয়ং আবু উবায়দার জন্মদাতা পিতা আব্দুল্লাহ বিন জাররাহ। আল্লাহর রাস্তায় তাঁর বাবা যখন বাধা হয়ে দাঁড়িছে তখন তিনি নিজ হাতেই তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেছেন। কতটুকু ঈমানের বলে বলীয়ান হলে তিনি এ কাজ করতে পেরেছেন তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না !!!
তাঁর এই কাজের প্রশংসা করে মহান আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করলেন- لَّا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَاذَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا وَابَاءَهُم أوْ أَبْنَاءَهُم أَوْ إِخْوَانَهُم أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أَوْلَابِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الإيْمَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوجِ مِنهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِى مِنْ تَحْتِهَا الانْهارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أَوْلَابِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ- “(হে রাসূল) আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে এমন কোনো জাতিকে আপনি পাবেন না যে, তারা এমন লোক ভালোবাসে যারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, যদিও তারা তাদের পিতা, ছেলে, ভাই কিংবা নিজেদের গোত্রের লোক হয়ে থাকে.............” । [সূরা মুজাদালা-২২]

ইসলামের জন্য নিজ হাতে পিতাকে হত্যা করা হযরত আবু উবায়দা -এর জন্য আশ্চর্যজনক কিছুই নয়। কেননা তাঁর ঈমান এত বেশি ছিল তাঁর জন্য এটি কোনো ব্যাপারই ছিল না। যার কারণে রাসূল তাঁকে এই উম্মতের 'আমীন' (বিশ্বস্ত) বলে ঘোষণা করেন। হযরত মুহাম্মদ বিন জাফর বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূল -এর নিকটে খ্রিস্টানদের এক দল লোক আগমন করে । তারা বলল: হে আবুল কাসেম! আপনি আপনার সাহাবীদের থেকে এমন একজন লোক আমাদের মাঝে প্রেরণ করুন, যিনি আমাদের মাঝে আমাদের সম্পদগুলো বণ্টন করে দিবে। কেননা আপনারা মুসলমানরা আমাদের অতি প্রিয়ভাজন । রাসূল বললেন: তোমরা আমার নিকটে বিকালে এসো, আমি তোমাদের সাথে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে প্রেরণ করব । হযরত উমর বলেন: আমি সেই দিন যোহরের নামাজে তাড়াতাড়ি গিয়েছি কেননা আমি ধারণা করেছি আমিই সেই ব্যক্তি হব ।

নামাজ শেষে রাসূল মামাহার তাঁর ডানে বামে তাকাতে লাগলেন। আমি একটু মাথা উঁচু করে বসেছি যাতে করে তিনি আমাকে দেখেন। আমার দিকে তাকানোর পূর্বেই রাসূল আবু উবায়দাকে দেখে তাঁকে ডাকেন । রাসূল বললেন: তুমি এদের সাথে গিয়ে তাদের মাঝের সমস্যাটি সঠিকভাবে সমাধান করে আস । আমি বললাম: আবু উবায়দা ‘রাসূল -এর বলা' সেই গুণের অধিকারী হয়ে গেল। হযরত আবু উবায়দা শিক্ষা শুধু বিশ্বস্তই ছিলেন না; বরং তাঁর মাঝে বিশ্বস্ততার মূল শক্তি প্রকাশিত হতো। আর বিভিন্ন ঘটনার দ্বারা তা প্রকাশিত হয়েছে। তেমনি একটি ঘটনা- রাসূল একদল লোককে কোরাইশদের এক কাফেলার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্যে প্রেরণ করেন। হযরত আবু উবায়দাকে তাঁদের আমীর বানালেন। রাসূল -এর পক্ষ থেকে তাঁদের খাদ্য হিসেবে শুধু এক ব্যাগ খেজুর দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রতিদিন তাঁর সাথিদেরকে একটি করে খেজুর দিতেন। তাঁরা ওই খজুরটিকে বাচ্চারা যেমন মায়ের স্তন চুষতে থাকে তেমন করে চুষতে থাকতেন এরপর পানি পান করতেন। এভাবে ভ্রমণে একটি খেজুর দিয়ে তাঁরা সারা দিন কাটিয়ে দিতেন। তাঁর বিশ্বস্ততার আরেকটি ঘটনা- উহুদের যুদ্ধের সময় যখন মুসলমানরা মুশরিকদের আক্রমণে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছিলেন, তখন তিনি সেই দশ জনের মধ্যে একজন ছিলেন, যাঁরা রাসূল -কে চারদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। যাতেকরে মুশরিকদের কোনো আক্রমণ রাসূল -এর গায়ে আঘাত না হানতে পারে । কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেখা গেল, রাসূল -এর দাঁত মোবারক ভেঙ্গে গেছে এবং তাঁর মাথায় লোহার দুইটি টুকরা ঢুকে গেছে। হযরত আবু বকর লোহার টুকরা দুইটি বের করার জন্য এগিয়ে গেলেন ।

হযরত আবু উবায়দা বললেন: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি একাজ আমাকে করতে দিন। হযরত আবু বকর তা তাঁকে করতে দিলেন। তিনি ভাবলেন যদি আমি এটি হাত দিয়ে খুলতে যাই তাহলে রাসূল কষ্ট পাবেন। তাই তিনি দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে টান দিলেন এতে লোহার একটি টুকরা বের হয়ে গেল, কিন্তু সাথে তাঁর সামনের একটি দাঁতও পড়ে গেল । তিনি আবার দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে টান দিলেন এতে লোহার দ্বিতীয় টুকরাটিও বের হয়ে গেল আর সাথে সাথে তাঁর সামনের দ্বিতীয় দাঁতটিও পড়ে গেল । হযরত আবু বকর বললেন: দাঁত ভেঙে যাওয়া লোকদের মধ্যে হযরত আবু উবায়দা সবচেয়ে উত্তম লোক ছিলেন।

প্রিয় পাঠক! কারণ তাঁর দাঁত অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো ভাঙ্গেনি; বরং তাঁর দাঁত রাসূল -এর খেদমতে ভেঙ্গেছিল। হযরত আবু উবায়দা রাসূল -এর সাথে সব যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। হযরত আবু বকর -এর হাতে খেলাফতের বাইয়াতের দিন হযরত উমর আবু উবায়দাকে বললেন: তোমার হাতটি প্রসারিত কর আমরা তোমার হাতে বাইয়াত হব। কেননা রাসূল বলেছেন: প্রতিটি উম্মতের একজন আমীন (বিশ্বস্ত) রয়েছে। আর এই উম্মতের আমীন (বিশ্বস্ত) হচ্ছ তুমি। হযরত আবু উবায়দা বললেন: আমি এমন ব্যক্তি থেকে অগ্রগামী হতে চাই না যাকে রাসূল তাঁর অসুস্থ অবস্থায় ইমামতি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আর তিনি রাসূল -এর ইন্তেকাল পর্যন্ত আমাদের নামাজের ইমামতি করেছেন। (অর্থাৎ আবু বকর রা.')এরপর সবাই হযরত আবু বকর -এর হাতে বাইয়াত করলেন। হযরত আবু উবায়দা কতই না উত্তম ছিলেন। তিনি নিজে খেলাফতের দায়িত্ব পেয়েও তা ছেড়ে দিয়েছেন । হযরত আবু বকর -এর ইন্তেকাল হওয়ার পর খেলাফতের দায়িত্ব হযরত উমর -এর ওপর বর্তালো।

তিনি হযরত উমর -এর নেতৃত্ব আনুগত্যের সাথে মেনে নিলেন। তিনি কখনোই খলীফার নির্দেশ অমান্য করেননি। তবে একবার করেছিলেন । প্রিয় পাঠক! আপনি কি জানেন সেই নির্দেশটি কি ছিল? তখন হযরত আবু উবায়দা সিরিয়ায় অবস্থান করছিলেন যখন তাঁরা আল্লাহর সাহায্যে সিরিয়ার এলাকাগুলো একের পর এক বিজয় করছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে সিরিয়ার সব অঞ্চলে বিজয় দান করেন ৷ তিনি যখন সিরিয়ার ফোরাত নদীর তীরে পৌঁছেন, তখন সিরিয়াতে এমন মহামারী শুরু হয় যা সিরিয়াবাসীরা কখনো দেখেনি। এতে একের পর এক মানুষ মারা যেতে লাগল ।

হযরত উমর তাড়াতাড়ি তাঁর নিকটে পত্র দিয়ে একজনকে প্রেরণ করেন। তিনি যা লেখেছেন তা- আমার এক কাজে তুমি থাকা খুবই প্রয়োজন, তুমি ব্যতীত সেই কাজ কেউ করতে সক্ষম হবে না। সুতরাং যদি তোমার কাছে আমার এই পত্র সকালে আসে তাহলে তুমি আমার কাছে আসতে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেরি করবে না। আর যদি তোমার কাছে আমার পত্র সন্ধ্যায় আসে তাহলে তুমি আমার কাছে আসতে সকাল করবে না। হযরত আবু উবায়দা পত্রটি পেয়ে বললেন: আমীরুল মুমিনীনের প্রয়োজনের কথা আমি জানি । তিনি এমন একজনকে বাঁচিয়ে রাখতে চাচ্ছেন যে বেঁচে থাকার নয় । তারপর তিনি লেখলেন-
হে আমীরুল মুমিনীন! আমি আপনার প্রয়োজনের কথা জানি। আমি মুসলমান সৈন্যদের মধ্যে আছি আর তাদেরকে ছেড়ে যাওয়ার আমার কোনো ইচ্ছা নেই। এমনকি যতক্ষণ না আমার আর সৈন্যদের মধ্যে আল্লাহ তাআলা কোনো ফয়সালা করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব।

যখন উমর এই চিঠি পাঠ করে তার চোখের কোণে পানি জমে গেল এবং তা টপটপ করে পড়তে শুরু করল। তাঁর কান্না দেখে তাঁর আশপাশের লোকেরা জিজ্ঞেসা করল- আবু উবায়দা কি মারা গেছে? তিনি বললেন: না, তবে মৃত্যু তার অতি নিকটে । হযরত উমর -এর ধারণা মিথ্যা হয়নি। অবশেষে হযরত আবু উবায়দা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তিনি মৃত্যুর আগে তাঁর সেনাবাহিনীকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন: তোমরা নামাজ কায়েম করবে, রমজানের রোজা রাখবে, সকাহ করবে, হজ্ব ও উমরা আদায় করবে, অন্যকে ভালো উপদেশ দিবে আর তোমাদের আমীরদের কল্যাণ কামনা করবে এবং তাঁদের সাথে প্রতারণা করবে না। তোমাদেরকে যেন দুনিয়া ধ্বংস করে না দেয়। কেননা কোনো ব্যক্তি যদি হাজার বছরও বেঁচে থাকে তবুও তাকে মরতে হবে ।
আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানদের জন্য মৃত্যুকে আবশ্যক করেছেন। সুতরাং তারা মৃত । তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সে, যে তার প্রতিপালকের আনুগত্য করে এবং পরকালের জন্য আমল করে। তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক । তারপর তিনি মুয়াজ -এর দিকে তাকিয়ে বললেন: হে মুয়াজ! তুমি এদের নামাজের ইমামতি করবে। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর পবিত্র রূহ মোবারক উড়ে গেল ।

তারপর মুয়াজ মানুষের উদ্দেশ্যে বললেন: হে মানুষ সকল! তোমরা এমন একজন মানুষকে হারিয়েছ, আল্লাহর শপথ! আমি তাঁর থেকে অধিক পুণ্যবান লোক দেখতে পাইনি, যিনি গুনাহ্ থেকে অনেক দূরে থাকতেন এবং পরকালের ব্যাপারে অধিক আগ্রহী ছিলেন। মানুষের কল্যাণকামী তাঁর মতো আর কাউকে আমি দেখিনি। তোমরা তাঁর জন্য রহমতের দোয়া কর আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করবেন।

তথ্য সূত্র
১. ত্বাবাকাতু ইবনি সা'দ - (সূচিপত্র দ্রষ্টব্য)।
২. আল ইসাবা - ২য় খণ্ড, ২৫২ পৃ.।
৩. আল ইসতিয়া’ব -৩য় খণ্ড, ২ পৃ.।
৪. হুলিয়াতুল আওলিয়া - ১ম খণ্ড, ১০০ পৃ.
৫. আল বাউ ওয়াত্ তারীখ – ৫ম খণ্ড, ৮৭ পৃ.
৬. ইবনু আসাকির - ৭ম খণ্ড, ১৫৭ পৃ.
৭. সিফাতুস্ সফওয়া ১ম খণ্ড, ১৪২ পৃ.
৮. আশ্হারু মাশাহীরিল ইসলাম - ৫০৪ পৃ.।
৯. তারীখুল খামীস - ২য় খণ্ড, ২৪৪ পৃ.।
১০. আর রিয়াদুন নাদরাহ্ - ৩০৭ পৃ. ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.