হযরত সুমামা বিন উসাল (রাঃ) এর জীবনী
“যিনি কোরাইশদেরকে অর্থনৈতিক অবরোধ করেছেন” রাসূল ষষ্ঠ হিজরীতে আল্লাহর দ্বীনকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করেন। তাই তিনি আরব ও আজমের সম্রাটদের নিকটে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে আটটি পত্র প্রেরণ করেন। যাদের নিকটে পত্র পাঠানো হয় তাদের মধ্যে হযরত সুমামা বিন উসাল অন্যতম ছিলেন। তিনি আরব বিশ্বের রাজা-বাদশাহদের একজন ছিলেন। তিনি হানীফা গোত্রের নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। যে গোত্রটি আরবের উল্লেখযোগ্য গোত্রের একটি ছিল। তিনি ইয়ামামার রাজা ছিলেন। তাঁর রাজত্বে তাঁর অনেক জনপ্রিয়তা ছিল। এমনকি তাঁর জাতি কখনো তাঁর কথার অবাধ্য হতো না।
সুমামা প্রথমে রাসূল এর পত্র পেয়ে অবাধ্যতা প্রকাশ করেন। তাঁর মাঝে পাপের কারণে ঔদ্ধত্য বাড়তে থাকে। তিনি রাসূল এর সত্য ও কল্যাণের পথের আহ্বান শুনা থেকে নিজের কানকে বন্ধ করে রাখেন । এরপর তাঁর ওপর শয়তানী বুদ্ধি প্রবল হয়। রাসূল আলাধার-কে হত্যা করার জন্যে ও ইসলামের দাওয়াতকে কবর দেওয়ার জন্যে তাঁকে শয়তান প্ররোচিত করতে লাগল। তাই তিনি এর সুযোগ খুঁজতে লাগলেন। এক দিন সেই সুযোগ চলে আসে। শেষ মুহূর্তে যদি তাঁর চাচা তাঁর সংকল্পিত কাজ থেকে তাঁকে বাঁধা না দিতেন তাহলে তিনি রাসূল -কে হত্যা করে ফেলতেন, কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছা তিনি তাঁর রাসূলকে তাঁর দ্বীন বিজয় হওয়া পর্যন্ত বাকি রাখবেন তাই হযরত সুমামা রাসূল -এর কোনো ক্ষতি করতে পারেননি। আর তাই দেখা যায় রাসূল -এর জীবনে কত ঝড় এসেছিল সব ঝড় থেকে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে হেফাজত করে ইসলামকে বিশ্বের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ।
কিন্তু সুমামা রাদিন হায় তখন রাসূল আলাই-এর কোনোপ্রকার ক্ষতি করতে না পেরে সাহাবীদের ওপর অত্যাচার করে সেই প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা করেন। তিনি এর জন্যে সুযোগ খুঁজতে লাগলেন। আর তাঁর জন্যে সেই সুযোগ এসেও যায়। তিনি কিছুসংখ্যক সাহাবীকে বন্দি করে তাদের ওপর ভীষণ অত্যাচার করেন এবং তাদেরকে হিংস্রভাবে হত্যা করেন। তাঁর এমন হিংস্র আচরণে রাসূল তাঁর রক্ত মুসলমানদের জন্য বৈধ করে দিলেন এবং তাঁকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন।
এরপর কিছু দিন অতিবাহিত না হতেই হযরত সুমামা মক্কায় গিয়ে উমরা করার ইচ্ছা করেন। তাই তিনি ইয়ামামা ত্যাগ করে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করলেন। তিনি সেখানে গিয়ে কা'বা ঘর তাওয়াফ ও মূর্তিদের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করার মান্নত করেন। হযরত সুমামা বিন উসাল মক্কার উদ্দেশ্যে মদিনার নিকটবর্তী এক পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁর ওপর বিপদ চলে আসবে এমন কিছু তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। কারো দ্বারা মদিনায় আক্রমণ হবে অথবা কোনো দূর্ঘটনা ঘটবে এই ভয়ে, রাসূল -এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একদল যোদ্ধা মদিনার সীমান্তে পাহারা দিচ্ছিলেন। তাঁর অজান্তে সেই সকল সাহাবিগণ তাঁকে ঘিরে ফেললেন এবং তাঁকে বন্দি করে মদিনায় নিয়ে আসলেন। তাঁরা তাঁকে মসজিদের এক খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন। রাসূল এসে বন্দির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিবেন এবং তাঁর বিচার করবেন সাহাবিগণ এই অপেক্ষায় ছিলেন।
নবী করীম ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে আসার পথে সুমামাকে বন্দি অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন: তোমরা কি জান তোমরা কাকে ধরে এনেছ? তারা বললেন: না, হে আল্লাহর রাসূল । নবী করীম বললেন: সে হচ্ছে সুমামা বিন উসাল আল হানাফী । সুতরাং তোমরা তোমাদের বন্দির সাথে সুন্দর আচরণ কর । সেখান থেকে রাসূল তাঁর পরিবারের নিকটে ফিরে এসে বললেন : তোমাদের নিকটে যেসব খাদ্য আছে তা একত্রিত করে সুমামার নিকটে প্রেরণ কর।
তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার পূর্বেই এই সকল কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন। এরপর রাসূল সুমামাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্যে তাঁর দিকে অভিমুখী হলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে সুমামা! তোমার ভাবনা কি ?
সুমামা বললেন: মুহাম্মদ! আমার ভাবনা ভালোই....... । যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন তাহলে অপরাধী হিসেবে করতে পারেন। আর যদি আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি আপনার কৃতজ্ঞ হব। আর যদি আপনি আমার বিনিময়ে মাল চান তাহলে আপনি যা চাইবেন তাই দিব । রাসূল প্রথম দিন তাঁকে এই অবস্থায় রেখে গেলেন। তিনি তাঁকে প্রতিদিন মানসম্মত খাদ্য ও পানীয় খেতে দিতেন এবং তাঁকে উটের দুধ পান করাতেন ৷ এরপর দ্বিতীয় দিন তিনি তাঁর নিকটে এসে আবার বললেন: হে সুমামা! তোমার ভাবনা কি? হযরত সুমামা বললেন: আমার ভাবনা ভালোই । যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন তাহলে অপরাধী হিসেবে করতে পারেন। আর যদি আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি আপনার কৃতজ্ঞ হব। আর যদি আপনি আমার বিনিময়ে মাল চান তাহলে আপনি যা চাইবেন তাই দিব ।
দ্বিতীয় দিনও তাঁকে এই অবস্থায় রেখে গেলেন ৷ তারপরের দিন এসে বললেন: হে সুমামা তোমার ভাবনা কি? সুমামা বললেন: আপনাকে পূর্বে যা বলছি তা ব্যতীত আমার অন্য কোনো ভাবনা নেই.............। যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন তাহলে অপরাধী হিসেবে করতে পারেন। আর যদি আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি আপনার কৃতজ্ঞ হব। আর যদি আপনি আমার বিনিময়ে মাল চান তাহলে আপনি যা চাইবেন তাই দিব । রাসূল সালাম তাঁর সাহাবীদের দিকে ফিরে বললেন: তোমরা সুমামাকে মুক্ত করে দাও। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সদাহার-এর কথামত তাঁকে ছেড়ে দিলেন । হযরত সুমামা মুক্তি পওয়ার পর মদিনার এক প্রান্তে বাকী নামক এক খেজুরের বাগানে তাঁর উটকে বাঁধলেন। সেখানে প্রচুর পানি ছিল। তিনি সেখানে গোসল করে পবিত্র হয়ে পুনরায় মসজিদে নববীতে ফিরে আসলেন।
মসজিদে নববীর নিকটে ফিরে এসে তিনি সকল মুসলমানের সামনে ঘোষণা দিলেন- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আলাহায় আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। এরপর তিনি রাসূল -কে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে মুহাম্মদ! আল্লাহর শপথ! আপনার চেহারা ছিল আমার নিকটে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট চেহারা........ কিন্তু এখন আপনার চেহারাই আমার নিকটে সবচেয়ে প্রিয় চেহারা । আল্লাহর শপথ! আপনার ধর্ম ছিল আমার নিকটে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ধর্ম.. কিন্তু এখন আপনার ধর্মই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ধর্ম। আল্লাহর শপথ! আপনার শহর ছিল আমার নিকটে সবচেয়ে নিকৃষ্ট শহর............. কিন্তু এখন আপনার শহরই আমার নিকটে সবচেয়ে প্রিয় শহর।
তারপর তিনি বললেন: আমি আপনার কিছু সাহাবীকে হত্যা করেছি। এর ক্ষতিপূরণে আমার ওপর কি করা আবশ্যক? রাসূল বললেন: সুমামা! তোমার পূর্বের কাজের জন্যে তোমার ওপর কোনো অভিযোগ নেই । কেননা ইসলাম পূর্ববর্তী সব গুনাহ মুছে দেয়। এরপর ইসলাম গ্রহণ করার কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য যে সকল নেয়ামত লিখে রেখেছেন, রাসূল তাঁকে সেই সকল সুসংবাদও দিলেন। হযরত সুমামা আনন্দিত হয়ে বললেন: আমি অবশ্যই মুশরিকদেরকে হত্যা করব যেমনিভাবে ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুসলমানদেরকে হত্যা করেছি। আর আমি আমাকে, আমার তরবারি ও সঙ্গীদেরকে আপনার ও আপনার দ্বীনের সাহায্যে নিয়োজিত করব।
তারপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহাবিগণ আমাকে ধরে আনার পূর্বে আমি উমরা করার নিয়ত করেছি, আমি কি তা করব? রাসূল বললেন: তুমি তোমার উমরা আদায় কর ।রাসূল তাঁকে উমরার পদ্ধতি শিখিয়ে দিলেন। হযরত সুমামা অবশেষে মক্কার দিকে রওয়ানা দিলেন। মক্কার নিম্ন ভূমিতে পৌঁছে তিনি উচ্চ আওয়াজে তালবিয়া পাঠ করতে লাগলেন-
লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক
লাব্বায়েক লা শারীকা লাকা লাব্বায়েক
ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক্ লা শারীকা লাক্
পৃথিবীর বুকে তিনি প্রথম ব্যক্তি, যিনি মক্কা নগরীতে তালবিয়া পাঠ করতে করতে প্রবেশ করেছেন । কোরাইশ লোকেরা তাঁর তালবিয়ার আওয়াজ শুনতে পেয়ে খুব ক্ষিপ্ত হলো। তারা তাদের খাপ থেকে তরবারি বের করে তালবিয়ার আওয়াজ অনুসরণ করে ছুটে আসে। কোরাইশদেরকে আসতে দেখে তিনি আরো জোরে তালবিয়া পাঠ করতে লাগলেন। মানের অহংকার ও গর্বভরা দৃষ্টিতে তিনি তাদের দিকে তাকালেন । তাদের মধ্যে এক যুবক তার দিকে তীর নিক্ষেপ করতে উদ্যত হয়। কিন্তু তারা তাকে বারণ করে বলে- তোমার ধ্বংস হোক, তুমি জানো এই ব্যক্তি কে?
এই ব্যক্তি হচ্ছে ইয়ামামার সম্রাট সুমামা বিন উসাল । আল্লাহর শপথ! তোমরা যদি তাঁর কোনো প্রকার ক্ষতি কর তাহলে সে আমাদেরকে খাদ্য যোগান বন্ধ করে দিয়ে অনাহারে মারবে। তারা তাদের তরবারি খাপে ঢুকিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে এল । তারা বলল: হে সুমামা! তোমার কি হয়েছে? তুমি কি তোমার ও তোমার বাপ-দাদাদের ধর্ম ত্যাগ করেছ? তিনি বললেন: আমি ধর্ম ত্যাগ করিনি; বরং আমি উত্তম ধর্মের অনুসরণ করেছি... ..... এবং মুহাম্মদের ওপর ঈমান এনেছি । এরপর তিনি বললেন: আমি এই ঘরের প্রতিপালকের শপথ করে বলছি: আমি দেশে ফিরে যাওয়ার পর তোমাদের নিকটে সেখান থেকে একটি শস্যও আসবে না যতক্ষণ না তোমরা প্রত্যেকে মুহাম্মদের দ্বীনের অনুসরণ কর।
হযরত সুমামা বিন উসাল কোরাইশদের চোখের সামনে রাসূল -এর শিখানো পদ্ধতিতে উমরা আদায় করেন। তিনি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার জন্য পশু জবাই করেছেন। জাহিলী যামানার কোনো প্রকার রীতিনীতি তিনি অনুসরণ করেননি। কোনো মূর্তির নিকটে প্রার্থনা করেননি। মূর্তির সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করেননি। এরপর তিনি মক্কা থেকে ইয়ামামায় ফিরে গেলেন। দেশে ফিরে গিয়ে তিনি তাঁর গোত্রের লোকদেরকে মক্কায় কোনোপ্রকার খাদ্যশস্য প্রেরণ না করতে নির্দেশ করে দিলেন। তারা তাঁর আদেশমতো মক্কায় কোনোপ্রকার খাদ্য প্রেরণ করা বন্ধ করে দেয়।
ওই দিকে খাদ্যশস্য না পাওয়ার কারণে মক্কায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। হযরত সুমামা বিন উসালের খাদ্য অবরোধ তীব্র থেকে তীব্র হতে লাগল। তারা ক্ষুধার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে গেল। এমনকি তারা তাদের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে কিনা সেই শঙ্কায় পড়ে গেল। এভাবে চলতে থাকলে তারা ও তাদের সন্তান সবাই নিঃশেষ হয়ে যাবে এই ভয়ে তারা রাসূল -এর নিকটে চিঠি লিখে ।
চিঠির ভাষা ছিল এমন- আপনার সাথে আমাদের চুক্তি ছিল আপনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবেন এবং এ ব্যাপারে উৎসাহিত করবেন । কিন্তু এখন আপনি আমাদের সাথে সেই সম্পর্ক নষ্ট করেছেন। আপনি আমাদের বাপ-দাদাকে তরবারি দ্বারা হত্যা করেছেন আর এখন আমাদের সন্তানদেরকে অনাহারে রেখে মেরে ফেলছেন। সুমামা বিন উসাল আমাদেরকে খাদ্যশস্য দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে আমাদের মারত্মক ক্ষতি করছে। সুতরাং আপনি যদি ইচ্ছা করেন আমাদের যা প্রয়োজন তা পাঠানোর জন্য সুমামাকে নির্দেশ দিবেন তাহলে দিন । এই চিঠি পেয়ে রাসূল হযরত সুমামাকে খাদ্যশস্য পুনরায় প্রেরণ করার নির্দেশ দিলেন। রাসূল -এর চিঠি পেয়ে হযরত সুমামা পুনরায় তাদের জন্যে খাদ্যশস্য প্রেরণ করা শুরু করেন।
হযরত সুমামা বিন উসাল পরবর্তী জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়ে গেছেন এবং রাসূল -এর সাথে করা ওয়াদা রক্ষা করার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। রাসূল -এর ইন্তেকালের পর আরবের লোকেরা একত্রে মুরতাদ হতে শুরু করে এবং তাঁর গোত্রে মুসায়লামাতুল কাজ্জাব নামক ব্যক্তি মিথ্যা নবী দাবি করে। সে তার প্রতি ঈমান আনতে মানুষকে আহ্বান করে, কিন্তু হযরত সুমামা নিজ ঈমানের প্রতি পাহাড়ের মতো অটল ছিলেন । তিনি তাঁর গোত্রের লোকদেরকে বললেন: হে আমার গোত্রের লোকেরা! তোমরা এই জালিম মিথ্যাবাদী থেকে দূরে থাক ।
আল্লাহর শপথ! তোমাদের মধ্যে যারা এই মিথ্যাবাদীর আনুগত্য করবে সে হতভাগা হবে। আর যারা নিজ ঈমানের ওপর অটল থাকবে তাদের ওপর অনেক বড় পরীক্ষা আসবে। তারপর তিনি বললেন: হে আমার জাতি তোমরা শুন একই সময়ে দুই জন নবী আসেন না।
তাছাড়া মুহাম্মদ শেষ নবী, তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবে না এবং তাঁর কাজেও কোনো নবী শরিক হবে না। তারপর তিনি তাদেরকে কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে শুনাতে লাগলেন-
حم تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ غَافِرِ الذَّنبِ وَقَابِلِ التَّوبِ شَدِيدِ العِقَابِ ذِي الطُّولِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ المَصِيرُ .
অর্থ- “হা মীম। এই কিতাব প্রজ্ঞাময় ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত । যিনি গুনাহ্ ক্ষমাকারী [সূরা গাফির-১-৩]|"
অর্থ- হে ব্যাঙ! তুই যতই ঘেঁজর ঘেঁঙ্গর করিস না কেন, এটি না লোকদেরকে পানি পান থেকে বিরত রাখবে, আর না পানিকে ঘোলাটে করবে। যারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছে তিনি তাদেরকে নিয়ে সরে গেছেন। তিনি মুরতাদদেরকে দমন করে আল্লাহর কালাম প্রতিষ্ঠা করার জন্যে আমরণ জিহাদ করে গেছেন।
আল্লাহ তাআলা হযরত উসামা বিন উসালকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুক এবং তাঁকে জান্নাত দান করে সম্মানিত করুক। যে জান্নাতের ওয়াদা তিনি আল্লাহভীরুদের জন্য করেছেন।
৫. উসদুল গবাহ – ১ম খণ্ড, ২৪৬ পৃ.।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন