[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

ইয়াজিদ বিন আবু সুফিয়ান (রাঃ) এর জীবনী ।। Hazrat Yajid Bin Abu Sufian er Jibni

 ইয়াজিদ বিন আবু সুফিয়ান (রাঃ) এর জীবনী

“আবু সুফিয়ানের সন্তানদের মধ্যে ইয়াজিদ সবচেয়ে উত্তম ছিলেন, যার কারণে তাকে ইয়াজিদুল খায়ের বা উত্তম ইয়াজিদ বলে ডাকা হতো।”

এ যুবক কোরাইশদের সবচেয়ে উত্তম যুবক ছিলেন। অন্যান্য যুবকদের থেকে তাঁর মা-বাবার বংশগত অবস্থান অনেক উচ্চ শিখরে ছিল । তাছাড়াও জ্ঞান ও বুদ্ধির দিক দিয়ে তিনি অন্যান্য যুবক থেকে আলাদা ছিলেন । যার কারণে তাঁকে লোকেরা ইয়াজিদুল খায়ের বা উত্তম ইয়াজিদ বলে ডাকত ৷ যখন রাসূল নবুওয়াতের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন তখন ইয়াজিদ একজন নওজোয়ান ছিলেন । তাঁর বিবেক তাঁকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করেছিল। তাঁর বোন উম্মুল মু'মিনীন রমলা বিনতে আবু সুফিয়ানের বিবেক তাঁকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিল, কিন্তু তিনি তাঁর বাবার কারণে ইসলাম গ্রহণ করতে পারেননি। তাঁর বাবা মক্কা বিজয়ের দিন রমযান মাসে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। রাসূল ইয়াজিদের ইসলাম গ্রহণে অনেক খুশি হলেন। কেননা তাঁর বীরত্ব ও সাহসিকতা সবাইকে অবাক করত।
আর তাছাড়া তাঁর দ্বারা ইসলাম ও মুসলমানদের উপকার হবে । হুনাইনের যুদ্ধের পর রাসূল সা সেটি পূর্ণভাবে প্রকাশ করলেন ।

তিনি ইয়াজিদকে একশত উট ও রূপার চল্লিশ উকিয়া প্রদান করলেন । আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর শাসন আমলে তাঁর থেকে প্রকাশিত বীরত্ব ও সাহসিকতা কারো নিকটে অজানা নয় । কিন্তু তারপরও আবু বকর রা. তাঁর ব্যাপারে ভয় করতেন। কেননা তিনি তখনো যুবক ছিলেন। যুবকেরা স্বাভাবিকভাবে অল্পতেই দুনিয়ার লোভে পড়ে যায় । যার কারণে তিনি তাকে ডেকে বললেন, হে ইয়াজিদ! তুমি একজন যুবক । তোমার কাজে তোমার ভালোর দিকে প্রকাশিত হয়েছে। আমি তোমাকে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা করেছি।
আমি দেখব তুমি কেমন এবং তোমার শাসন কেমন । যদি তুমি সুন্দর ও ন্যায়ভাবে শাসন পরিচালনা করতে পার তাহলে আমি তোমাকে আরো বাড়িয়ে দেব আর যদি না করতে পার তাহলে তোমার থেকে রাজ্য ছিনিয়ে নিব । হে ইয়াজিদ! তুমি অবশ্যই আল্লাহভীতি অবলম্বন করবে । কেননা তিনি তোমার প্রকাশ্য কাজ যেমনিভাবে দেখেন তেমনিভাবে তিনি তোমার গোপনে করা কাজও দেখেন । যখন তুমি তোমার সৈন্যদের কাছে যাবে তখন তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করবে। তুমি তাদের সাথে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে কথা শুরু করবে। আর যখন তুমি তাদেরকে বয়ান করবে তখন তা সংক্ষেপ করবে, কেননা অধিক কথা একটি অন্যটিকে ভুলিয়ে দেয় । তুমি নিজেকে সংশোধন কর তাহলে মানুষ তোমার জন্যে নিজেকে সংশোধন করবে, আর রুকু সিজদাহ্ ঠিক মতো আদায় করে ওয়াক্ত মতো নামায আদায় করবে।

যখন তোমার নিকটে শত্রুদের পক্ষ থেকে কোনো দূত আগমন করে তখন তাকে সম্মান করবে এবং তার নিকটে তাদের ব্যাপারে তোমাদের ধারণা প্রকাশ করবে না। যতক্ষণ না সেই দূত তোমার থেকে বিদায় হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি তাদের ব্যাপারে ভয়ভীতি প্রকাশ করবে না। আর তুমি তাকে তোমার সকল সৈন্যবাহিনী দেখাবে না। কেননা এতে সে তোমার গোপন তথ্য জেনে যাবে । তুমি শত্রুদের দূতকে তোমার বিশাল বাহিনীর ভেতরে অবতরণ করাবে এবং তার সামনে অন্য সৈন্যদের কথা বলতে নিষেধ করবে, আর তুমি তোমার গোপন কাজ প্রকাশ্যে করবে না। কেননা এতে তোমার কাজে তা বিঘ্ন ঘটাবে। এরপর আবু বকর রা. ইয়াজিদ রা. কে বললেন, যখন তুমি সাথীদের সাথে পরামর্শ করবে তখন তুমি সত্য কথা বলবে তাহলে তোমার পরামর্শ সঠিক ও উপকারী হবে। আর মুশাওয়ারা বা পরামর্শ সভায় তুমি কোনো কিছু গোপন করবে না তাহলে তা তোমার-ই ক্ষতি করবে । তুমি পাহারার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেবে আর এ দায়িত্ব তোমার সৈন্যবাহিনীকে ভাগ ভাগ করে দেবে। আর পাহারার দায়িত্ব তাদেরকে পূর্বে না জানিয়ে আকস্মিকভাবে প্রদান করবে ।

সৈন্যদের মধ্যে যে তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করবে না তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেবে এবং তার দায়িত্ব ভালোভাবে বুঝিয়ে দেবে। আর রাতে পাহারায় নিয়োজিত সৈন্যদের প্রথম দলকে দ্বিতীয় দল থেকে অধিক সময় পাহারায় রাখবে। কেননা রাতের প্রথম অংশ দিনের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে তাতে দায়িত্ব পালন করা দ্বিতীয় অংশের থেকে সহজ । আর কাউকে তার প্রাপ্ত শাস্তি প্রদান করতে ভয় করবে না, শাস্তি প্রদানে দেরি করবে না, আবার বেশি তাড়াহুড়াও করবে না । তুমি তোমার সৈন্যদের ব্যাপারে গাফেল হবে না তাহলে তোমার সৈন্যরা নষ্ট হয়ে যাবে। তুমি তাদের মাঝে গোয়েন্দা লাগিয়ে তা প্রকাশ করে দেবে না। আর তাদের দোষ মানুষের কাছে প্রকাশ করে দেবে না । তুমি লোকদের মাঝে হাসি-ঠাট্টা করবে না; বরং তুমি সত্যবাদী ও সৎকর্মশীলদের সাথে অবস্থান কর । তুমি ভীরু হবে না । কেননা এতে মানুষও ভীরু হয়ে যাবে । এরপর আবু বকর রা. ইয়াজিদ রা.-কে বললেন, এ........ আবু উবাইদাহ্-এর সাথে উত্তম ব্যবহার করার ব্যাপারে আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি। কেননা ইসলামে তাঁর মর্যাদার ব্যাপারে তোমার জানা আছে। কেননা রাসূল তাঁর ব্যাপারে বলেছেন- প্রত্যেক উম্মতের একজন আমানতদার রয়েছে, আর এ উম্মতের আমানতদার হলো আবু উবাইদা বিন জার্রাহ ।

তাছাড়া ইসলামে তাঁর অগ্রগামিতা ও সম্মানের ব্যাপারে তোমার জানা আছে। আর তুমি মুয়াজ বিন জাবাল রা.-এর দিকে লক্ষ্য রাখবে, রাসূল  -এর সাথে তার সহবতের ব্যাপারে তোমার জানা আছে।
সুতরাং তুমি এ দু'জনকে ব্যতীত কোনো কাজ করবে না, আর তাঁরা কখনও ভালো কাজে কমতি করবে না। তখন ইয়াজিদ বললেন, হে রাসূলের খলীফা! আপনি আমাকে তাঁদের ব্যাপারে যেমন উপদেশ দিয়েছেন তেমনি আমার ব্যাপারে তাদেরকে উপদেশ দেবেন । আবু বকর রা. বললেন, অবশ্যই আমি তাদেরকে তোমার ব্যাপারে উপদেশ না দিয়ে ক্ষ্যান্ত হব না । ইয়াজিদ রা. বললেন, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন এবং আপনাকে ইসলামের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন । আবু বকর সিদ্দীক রা. রোমদের সাথে যুদ্ধ করার জন্যে বাহিনী প্রস্তুত করার দৃঢ় সংকল্প করলেন। তখন তিনি সকল এলাকা থেকে মুসলিম সৈন্যদের একত্রিত করলেন। তিনি তাদেরকে যুদ্ধের জন্যে তৈরি করলেন এবং সেই বাহিনীকে চার ভাগে ভাগ করলেন। আর সেই চারটি দলের একটির ঝাণ্ডা বনূ উমাইয়ার অশ্বারোহী ইয়াজিদ বিন আবু সুফ্যান রা-এর হাতে তুলে দিলেন । সৈন্যবাহিনী মদিনা থেকে জিহাদের উদ্দেশ্যে রওনা শুরু করলে আবু বকর রা. তাদেরকে বিদায় জানানোর জন্যে তাদের সাথে বের হলেন।
তখন আবু বকর রা. হাঁটতে ছিলেন আর ইয়াজিদ রা. আরোহী অবস্থায় ছিলেন । ইয়াজিদ রা. আবু বকর রা. কে লক্ষ্য করে বললেন, হে রাসূল খলীফা! আপনি পায়ে হাঁটছেন আর আমি আরোহণ করে চলছি! তিনি তাঁর আরোহী থেকে নেমে যেতে চাইলেন ।

তিনি বললেন, হয় আপনি আরোহণ করুন অথবা আমি আরোহী থেকে নেমে যাই ৷ আবু বকর রা. বললেন, আমি আরোহণ করব না, আর তুমিও আরোহী থেকে নামবে না । আমি আমার এ চলাকে আল্লাহর পথে চলা হিসেবে ধরছি। তারপর তিনি ইয়াজিদ রা.-এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা এমন একটি দেশে যাচ্ছ যেখানে তোমাদের সামনে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য আসবে, তোমরা সেগুলো খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নিবে আর খাওয়ার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করবে। তোমরা দাম্ভিকতা থেকে বিরত থাকবে। আর আমি তোমাদেরকে দশটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি। তোমরা মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধ লোককে হত্যা করবে না। কোনো ফলবান বৃক্ষ কাটবে না এবং কোনো বসতিপূর্ণ ভবন ধ্বংস করবে না । খাওয়ার প্রয়োজন ছাড়া কোনো বকরি জবাই করবে না । কোনো খেজুর গাছ নষ্ট করবে না। খেয়ানত করবে না আর কাপুরুষতা দেখাবে না । যখন মুসলিম সৈন্যরা ইয়ারমুকের গিয়ে পৌঁছল তখন তারা রোম সেনাপতির নিকটে দূত পাঠিয়ে জানাল- আমরা আপনাদের সাথে কথা বলতে চাই । সে অনুমতি দিল । তখন ইয়াজিদ রা. তাঁর সঙ্গে কিছু সাহাবী নিয়ে রোমের সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন । তিনি দেখলেন রোমের সেনাপ্রধান নিজের জন্যে ও তার বিশেষ লোকদের জন্যে তিনটি বড় তাঁবু তৈরি করেছে। এর সবগুলোই রেশমী কাপড়ের ।

আমরা যখন ইয়াজিদ রা. তাঁবুগুলোর নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি বললেন, রেশমীকে হালাল মনে করি না; সুতরাং আপনি বের হয়ে আমাদের কাছে আসুন ।  তখন সে তাদের সামনে বের হয়ে এসে কথা বলল, কিন্তু তখন তাঁরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি । এরপর উভয় দল ইয়ারমুকের মাটির দিকে তাকাল । এ মাটিতে একটি দলের সৈন্য সংখ্যা খুব কম, কিন্তু তাঁরা ঈমানের বলে বলীয়ান । আর অন্যদল যাদের সংখ্যা অনেক বেশি, কিন্তু তারা কুফরীর আঁধারে নিমজ্জিত । ঠিক সেই সময়ে তাঁর দিকে সুফিয়ান রা. এগিয়ে আসলেন তিনি তখন খুব বৃদ্ধ ছিলেন । তিনি তাকে বললেন, হে বৎস! তুমি আল্লাহকে ভয় কর, এখানে সকল মুসলমান এখন মৃত্যুর মাঝে আছে। সুতরাং তোমার ও যারা মুসলমানদের দায়িত্বে তাঁদের এখন কি করা উচিত? হে বৎস! তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেকে সম্মানিত কর ৷ তোমার কোনো সাথী তোমার থেকে অধিক ধৈর্যশীল ও প্রতিদানের আশাবাদী হবে না এবং তোমার থেকে অধিক বীরত্ব দেখাতে পারবে না । তখন ইয়াজিদ রা. বললেন, হে আমার বাবা! আল্লাহ চাইলে আমি তা করব। তারপর তিনিও তাঁর সাথীগণ কাফিরদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন যে, তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেল ।

যখনই ইয়াজিদ রা.-এর একটু দুবর্লতা বা অলসতা চলে আসে তখনই তিনি শুরাহবীল রা.-কে বলতে শুনতেন-
إِنَّ اللهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ  وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
.
“আল্লাহ তায়ালা মু'মিনদের জান, মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন....... 
তারপর তিনি বলতেন- কোথায় তারা যারা তদের জান-মাল আল্লাহর কাছে বিক্রয় করবে। কোথায় তারা যারা আল্লাহর প্রতিবেশি হয়ে থাকতে চায়?

তিনি যখনই এ সকল কথা শুনতেন তখনই তাঁর মাঝে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠত এবং তিনি তীব্র আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে বিজয় দান করলেন । আল্লাহ এমন বিজয় দান করেছেন যে, এরপর রোমরা আর মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি ।ইয়াজিদ রা. জিহাদের পথে নিজের জীবনকে কাটিয়েছেন। এমন কি দামেশক বিজয়ী সেনাপতিদের একজন তিনি ছিলেন । এরপর তাঁর হাতে আল্লাহ তায়ালা বাইরুত, সাইদা এবং এগুলোর আশপাশের এলাকা বিজয় দান করেছেন।

তথ্যসূত্র:
১. আল ইসতিআ'ব-৩য় খণ্ড, ৬৪৯ পৃ.। 
২. উসদুল গবাহ্-৫ম খণ্ড, ৪৯১ পৃ.।
আল ইসাবাহ-৩য় খণ্ড, ৬৫৬ পৃ.।
৪. তাযীবুল কামাল-৩২তম খণ্ড, ১৪৫ পৃ. 
৫. তাহযীবুত তাহযীব-১১তম খণ্ড, ৩৩২ পৃ.
৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৩য় খণ্ড, ১০৬ পৃ.
৭. তারিখুল ইসলাম-২য় খণ্ড, ২৫ পৃ.।
৮. নাসরু কুরাইশ-১২৪ ও ১২৫ পৃ.।
৯. মাজমাউয যাওয়ায়িদ-৯ম খণ্ড, ৪১৩ পৃ. 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.