হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম 
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবনী

“তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। যাঁর শানে আল্লাহ তাআলা কোরআনের ষোলোটি আয়াত নাযিল করেছেন। যা পঠিত এবং দিন-রাত যতদিন আবর্তিত হবে ততদিন পাঠ করা হবে।” [মুফাস্সিরগণ]

তিনি কে ছিলেন? যাঁর ব্যাপারে রাসূল -কে সপ্তম আকাশের ওপর থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি কে ছিলেন? যার শানে আল্লাহ তাআলা অহী নাযিল করেছেন। তিনি রাসূল এর মুয়াজ্জিন আব্দুল্লাহ বিন মাখতুম ৷ আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম ছিলেন মক্কা নগরীর অধিবাসী কোরাইশ বংশের একজন। রাসূল -এর সাথে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তিনি রাসূল -এর স্ত্রী খাদীজা -এর মামাতো ভাই ছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন কায়েস বিন জায়েদা আর তার মা আতেকা বিনতে আব্দুল্লাহ। তাঁকে উম্মে মাকতুম বলা হতো কেননা সে জন্মগত অন্ধ সন্তান প্রসব করেছিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম মক্কায় বসবাস করতেন। ইসলামের প্রথমদিকে আল্লাহ তাঁর হৃদয় খুলে দিয়েছেন। আর তাই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলামের প্রথম যামানায় ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন।

তিনি মক্কায় অন্যান্য মুসলমানদের মতো কষ্ট সহ্য করে বসবাস করেছিলেন । ইসলামের জন্য কোরাইশদের শত নির্যাতন ও শাস্তি সহ্য করেছিলেন। কিন্তু কোরাইশদের শত নির্যাতনেও তাঁর ঈমানীশক্তি একটুও কমত না; বরং তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেত । যতই দিন যেত ততই তিনি ইসলামের প্রতি আরো বেশি আকৃষ্ট হতেন। আল্লাহর কিতাবের সাথে তার সম্পর্ক আরো বেশি বৃদ্ধি পেত। শরীয়ত সম্পর্কে জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পেত। আর তাই তিনি রাসূল-এর কাছে বেশি বেশি গমন করতেন। তিনি কোরআন মুখস্থ করার প্রতি এত অধিক আগ্রহী ছিলেন যে, যদি সামান্য সময়ও পেতেন তিনি তা গনীমত মনে করতেন আর সামান্য সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে ব্যস্ত হয়ে যেতেন ৷ এমন হতো যে, তিনি কোরআনের কোনো আয়াত রাসূল থেকে শিখার পর রাসূল-কে না পেলে পরের আয়াত অন্যদের থেকে শিখে নিতেন। রাসূল তখন কোরাইশদের বড় বড় নেতাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার প্রতি অধিক আগ্রহী ছিলেন এবং তাদেরকে নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন ।

তেমনি একদিন উত্ববা বিন রবীয়া, তার ভাই শায়বা বিন রবীয়া, আমর বিন হিসাম যে আবু জাহেল নামে পরিচিত, উমাইয়া বিন খলফ, ওয়ালিদ বিন মুগীরা এদেরকে রাসূল ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তিনি আশা করতেন তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে এবং মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করবে। ঠিক সেই সময় হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম রাসূল -এর নিকটে আগমন করেন। তিনি রাসূল -কে একটি আয়াত পাঠ করার অনুরোধ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ যা আপনাকে শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে শিখান । রাসূল তখন মুখ মলিন করে অন্যদিকে ফিরিয়ে নিলেন এবং কোরাইশ দলের দিকে ফিরে তাকালেন। তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এই আশায় সম্ভবত তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। কেননা তাদের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার সহজ হবে এবং তা রাসূল এর দাওয়াতের সমর্থন হবে। রাসূল কোরাইশদের সাথে কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর তিনি বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করেন, কিন্তু এমন সময় তিনি অনুভব করলেন কি যেন এসে তাঁর মাথা মৃদু আঘাত করেছে ।

আর এরপর আল্লাহ তাআলা আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম -এর শানে রাসূল -এর ওপর অহী নাযিল করেন। তার শানে নাযিলকৃত আয়াত-
عَبَسَ وَتَوَلَّى أَن جَاءَهُ الأَعْمَى وَمَا يُدريكَ لَعَلَّهُ يَزْكَّىٰ أَوِ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ الذكرَى أَمَّا مَن أَسْتَغِنَى فَأَنتَ لَهُ تَصَدَّى وَمَا عَلَيكَ أَلَّا يَزَكَى وَأَمَّا مَن جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخشَىٰ فَأَنتَ عَنهُ تَلَهَى كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةً فَمَن شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ
مُكَرَّمَةٍ مَّرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةِ بِأَيدِي سَفَرَةٍ كِرَامِ بَرَرَةٍ
অনুবাদ-
১. তিনি ভ্রূ কুঞ্চিত করলেন এবং (বিরক্ত হয়ে) মুখ ফিরিয়ে নিলেন। 
২. কারণ তার কাছে একজন অন্ধ ব্যক্তি এসেছিল।
৩. আপনি কি জানতেন? হয়ত সে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিত ।
৪. কিংবা সে উপদেশ গ্রহণ করত এবং ওই উপদেশ তাকে উপকৃত করত ।
৫. অন্যদিকে যে (হেদায়েতের প্রতি) বেপরোয়াভাব দেখাল,
৬. আপনি তার প্রতিই অধিক মনোযোগ প্রদান করলেন ।
৭. অথচ যে পরিশুদ্ধ হবে না তার ওপর আপনার কোনো দায়িত্ব নেই । 
৮. অপরদিকে যে ব্যক্তি (পরিশুদ্ধের জন্য) আপনার নিকটে দৌড়ে আসল, 
৯. এবং সে আল্লাহকে ভয় করে,
১০. আপনি তার ওপর বিরক্ত হলেন।
১১. কখনোই (এমনটি উচিত) নয়, নিশ্চয়ই এই কোরআন উপদেশ, 
১২. যে চাইবে সে তা স্মরণ করবে।
১৩. যা সম্মানিত স্থানে সংরক্ষিত আছে।
১৪. যে কিতাব উঁচু মর্যাদাবান ও অধিক পবিত্ৰ ।
১৫. যা সংরক্ষিত থাকে মর্যাদাবান লেখকগণের হাতে,
১৬. তারা মহান ও পবিত্র চরিত্রসম্পন্ন।

এই ষোলোটি আয়াত তাঁর শানে মহান আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন। এই আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোটি কোটি মুসলমান পাঠ করেছেন। শুধু তাই নয়, কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর ঈমানদার বান্দারা তা পাঠ করতেই থাকবে। যখনি এই আয়াতগুলো কেউ পাঠ করবে তখনি তার মনে আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম -এর কথা স্মরণে পড়বে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে চির দিনের জন্য স্মরণীয় করে দিলেন। সেদিন থেকে আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুমকে রাসূল আলাদা দৃষ্টিতে দেখতেন। তিনি যখন রাসূল -এর নিকটে আসতেন রাসূল  তাঁকে অনেক সম্মান করতেন। তাঁকে নিজের পাশে বসাতেন। তাঁর খোঁজ-খবর জিজ্ঞেস করতেন এবং তাঁর সকল প্রয়োজন মিটিয়ে দিতেন । তাঁর প্রতি রাসূল এত সুন্দর ব্যবহারে অবাক হওয়ার কিছুই নেই কেননা তাঁর কারণেই তো সপ্তম আসমানের ওপর থেকে আয়াত নাযিল করে রাসূল -কে সতর্ক করা হয়েছে। যখন কোরাইশরা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার বাড়িয়ে দিল এবং মুসলমানদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিল। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে হিজরত করার অনুমতি দেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম ছিলেন প্রথম সারীর হিজরতকারীদের মধ্যে অন্যতম। ইসলামের জন্য তিনি বাপ-দাদার ভূমি ছাড়তে দ্বিধা করেননি।

রাসূল-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে তিনি হযরত মুসআব বিন উমাইর  -এর সাথে প্রথম মদিনায় হিজরত করেন । হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম ও মুসআব বিন উমাইর রহিমার মদিনায় যাওয়ার পর থেকে মদিনার মুসলমানদেরকে কোরআন ও মাসয়ালা-মাসায়েল শিখানো শুরু করলেন । রাসূল মদিনা আগমন করার পরে তিনি ও হযরত বিলাল মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পেলেন। তাঁরা দৈনিক পাঁচ বার মুসলমানদেরকে নামাজ এবং তাওহীদের দিকে ডাকতেন। দেখা যেত বিলাল যদি আযান দিতেন আর তিনি ইকামত দিতেন আবার কখনো কখনো তিনি আযান দিতেন বিলাল মিয়ারার ইকামত দিতেন।
রমজান মাসে তাঁদের দুই জনের কদর অনেক বেশি ছিল। কেননা তাদের একজনের আযান দ্বারা মুসলমানরা সেহরী খাওয়া শুরু করত এবং অন্য জনের আযান দ্বারা সেহরী খাওয়া বন্ধ করত।
তাছাড়াও রাসূল দশ বারেরও বেশি তাকে মদিনা দায়িত্ব দিয়ে রেখে যান । তাঁর মধ্যে একদিন ছিল মক্কা বিজয়ের দিন । বদরের যুদ্ধের পর আল্লাহ তাআলা মুজাহিদ ও শহীদদের মর্যাদা বর্ণনা করে আয়াত নাযিল করেন। আল্লাহ তাআলা মুজাহিদ ও শহীদদেরকে উৎসাহিত করার জন্য তাঁদের উচ্চ মর্যাদার কথা বর্ণনা করেন এবং যারা যুদ্ধ না করে ঘরে বসে ছিল তাদের নিন্দা করেন। এই আয়াতগুলো আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম এর অন্তরে খুব লাগে এবং এই মহান মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত করতে না পেরে তিনি আফসোস করতেন। তিনি রাসূল -কে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি জিহাদ করতে সক্ষম হতাম তাহলে অবশ্যই আমি জিহাদ করতাম । 

তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন: হে আল্লাহ! তুমি আমার ওযরের ব্যাপারে কোরআনের আয়াত নাযিল কর। অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর ও অন্যান্য যাদের ওযর ছিল তাদের সম্পর্কে আয়াত নাযিল করলেন। অহী লেখক হযরত জায়েদ বিন সাবিত মুমিন বলেন: আমি রাসূল -এর পাশে ছিলাম। তখন রাসূল স্থির হয়ে যান এবং তার উরু আমার উরুতে এসে লাগে। এতে আমি ভারী কিছুর অনুভব করতে পারলাম। তারপর তিনি স্বাভাবিক হলেন। তিনি আমাকে বললেন: লেখ, তারপর তিনি নাযিলকৃত কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করলেন।
لَّا يَسْتَوِي القَبْعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَهِدُونَ فِي سَبِيلِ الله
অনুবাদ- “মুমিনদের মধ্যে যারা বসে ছিল আর যারা জিহাদ করেছিল তারা সমান .”[সূরা নিসা-৯৫]

এই আয়াত শুনার পর আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম কী দাঁড়িয়ে বললেন: তাহলে তার কি হবে যে জিহাদ করতে সক্ষম না? তাঁর কথা শেষ না হতেই রাসূল আবার স্থীর হয়ে যান এবং আবার তার উরু আমার উরুতে লাগে এতে আমি প্রথম বারের মতো ভারী কিছুর অনুভব করলাম। এরপর তিনি স্বাভাবিক হলেন।

তিনি আমাকে বললেন: হে জায়েদ যা লিখেছ তা পাঠ কর ৷
আমি পাঠ করলাম-
لَّا يَستَوى القَعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ.
তিনি আয়াতটি তেলাওয়াত করে বললেন: লেখ, তারপর তিনি আয়াতের পরবর্তী অংশ তেলাওয়াত করলেন।
غَيرُ أُولِي الضَّرَرِ
অনুবাদ- “অক্ষম ব্যক্তিরা ব্যতীত... 
পূর্ণ আয়াটি-
لا يَسْتَوِي القَبْعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالمُجَهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
অর্থ- “মুমিনদের মধ্যে যারা বসে ছিল আর যারা জিহাদ করেছিল তারা সমান নয়, তবে ওযরযুক্ত ব্যক্তিরা ব্যতীত. ."[সূরা নিসা-৯৫]

জিহাদ না করে ঘরে বসে থাকা লোকদের নিন্দা করার পর আল্লাহ তাআলা ওযরযুক্ত লোকদেরকে এই নিন্দা থেকে বাদ দিয়ে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম -এর আকাঙ্ক্ষা পুরো করলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্যে ও তাঁর মতো অন্যান্য লোকদের জন্যে জিহাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত রহিত করে দিলেন। তিনি অন্ধ, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি বসে থাকতে রাজি ছিলেন না। তিনি জিহাদ করার পূর্ণ প্রতিজ্ঞা করেন। কেননা তার আত্মা এত বড় ছিল যে, অন্ধত্ব তাঁকে জিহাদ থেকে বিরত রাখতে পারেনি । সেদিন থেকে তিনি একটি যুদ্ধও ছাড়তে চাননি। তিনি জিহাদের জন্য অস্ত্র প্রস্তুত করেন। তিনি বলতেন: তোমরা আমাকে দুই সারির মাঝে দাঁড় করিয়ে দাও। আর আমার হাতে পতাকা দাও আমি তা বহন করব। আমি তা হেফাজত করব। কেননা আমি অন্ধ, আমি পালিয়ে যেতে পারব না । চতুর্দশ হিজরীতে হযরত উমর পারস্য রাজ্য আক্রমণ করার সংকল্প করেন  এবং সেদেশ দখল করতে চান। আর তাই তিনি প্রতিটি শহরের আমীরের নিকটে চিঠি লিখেন যে, যার যার অস্ত্র, অশ্ব, বীরত্ব ও বুদ্ধি আছে তাদেরকে নিয়ে অতিদ্রুত আমার নিকটে পাঠিয়ে দাও ।

মুসলমানরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হযরত উমর -এর ডাকে সাড়া দিয়ে মদিনায় এসে জমা হতে লাগল। আর এই মুজাহিদ বাহিনীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন মাকতুমও একজন ছিলেন । হযরত উমর হযরত সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস-কে তাঁদের আমীর বানালেন । তিনি তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দিয়ে বিদায় জানালেন । সৈন্যবাহিনী কাদেসিয়া নামক স্থানে পৌঁছার পর হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম তাঁর বর্ম পরিধান করে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এলেন এবং যুদ্ধে মুসলমানদের পতাকা বহন করার দায়িত্ব নিয়ে তা আমরণ হেফাজত করার প্রতিজ্ঞা করলেন। উভয় দল এই কঠিন তিনটি দিন যুদ্ধ চালিয়ে যায়। উভয় দলের মধ্যে এমন যুদ্ধ চলে যা ইতিহাস আর কখনো দেখেনি। অবশেষে আল্লাহর সাহায্যে মুসলমানদের সাহসী আক্রমণে কাফেররা পিছু হটতে বাধ্য হয়। আর বিশাল এই রাজ্য মুসলমানদের হাতে চলে আসে। এতে পতন হয় একটি অহংকারী রাজ্যের। আর একটি শক্তিশালী রাজ্যে তাওহীদের পতাকা উঁচু হয় ।
কিন্তু এই বিজয় এমনি এমনি আসেনি; বরং তা শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে এসেছে। আর সেই শহীদি কাফেলার একজন ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম। যুদ্ধে শেষে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় রণাঙ্গনে পাওয়া গেল। তিনি শহীদ হয়ে গেছেন তবু তাওহীদের পতাকাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন ।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুক। আমীন ।

তথ্য সূত্র
১. আল ইসাবা - ২য় খণ্ড, ৫২৩ পৃ.।
২. আল ইসতিআ'ব - ২য় খণ্ড, ৫০১ পৃ.। 
৩. আত্ ত্বাবাকাতুল কুবরা - ৪র্থ খণ্ড, ২০৫ পৃ. 
৪. সিফাতুস্ সয়া - ১ম খণ্ড, ২৩৭ পৃ.। 
৫. যাইলুল মাযীল - ৩৬,৪৭ পৃ. ৷ 
৬. হায়াতুস্ সাহাবা - (সূচিপত্র দ্রষ্টব্য)।