[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহ্স (রাঃ) এর জীবনী ।। Sahabi Abdullah Bin Jahash er Jiboni

 হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহ্স (রাঃ) এর জীবনী

“ইসলামে যাঁকে সর্বপ্রথম আমীরুল মুমিনীন বলে অভিহিত করা হয়েছে।” যে সকল সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে আব্দুল্লাহ বিন জাস তাঁদের মধ্যে একজন । ইসলামের প্রথম যুগে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি রাসূল -এর ফুফাতো ভাই ছিলেন। কেননা আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা উমাইমা ছিলেন তাঁর মাতা। যিনি রাসূল নাহার-এর আপন ফুফু ছিলেন। অন্যদিকে তিনি রাসূল -এর শ্যালক ছিলেন। কেননা তাঁর বোন যায়নাব বিনতে জাস রাসূল -এর পবিত্র স্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

তাছাড়াও হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহস ইসলামের ঝাণ্ডা বহনকারী প্রথম যোদ্ধা ছিলেন। তিনি সেই ব্যক্তি যাকে সর্বপ্রথম আমীরুল মুমিনীন বলে ডাকা হয় । রাসূল সাপ্নাহার দারুল আরকামে প্রবেশ করার পূর্বে আব্দুল্লাহ বিন জাহস ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন । কোরাইশদের অত্যাচার বেড়ে গেলে রাসূল মুসলমানদেরকে দ্বীন বাঁচানোর জন্যে মদিনায় হিজরত করতে অনুমতি প্রদান করলেন। আব্দুল্লাহ বিন জাহস অনুমতি পেয়ে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি হিজরতকারীদের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি। তাঁর পূর্বে শুধু আবু সালামা হিজরত করেছিলেন। কিন্তু ঘর- বাড়ি, পরিবার-পরিজন ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে হিজরত করা তাঁর অপরিচিত ছিল না । কেননা মদিনায় হিজরত করার পূর্বে তিনি হাবশায়ও হিজরত করেছিলেন।

তাই মদিনায় হিজরত করার সময় হিজরত করার কষ্ট তাঁর জন্য নতুন ছিল না। তাঁর হাবশায় হিজরত ছিল একাকি, কিন্তু মদিনায় হিজরত ছিল অনেক ব্যাপক। কারণ তখন তাঁর সাথে তাঁর বাবার সকল সন্তান, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনী ও দাস-দাসীসহ পুরো পরিবারের সকলে একত্রে মদিনায় হিজরত করেন। তাঁর পরিবারটি ছিল একটি ইসলামী পরিবার। যে পরিবারের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা সামান্য দূরে না যেতেই, তাঁদের ঘরগুলো নিরব নিস্তব্ধ হয়ে গেল । মনে হয় যেন কখনো কোনো মানুষ এই বাড়িতে ছিল না। কোনো লোক কোনো দিন এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেনি। তাঁরা হিজরতে যাওয়ার কিছুদিন পরই মক্কার নেতারা বের হলো মুসলমানদের কে কে চলে গেছে আর কে কে বাকি আছে তা দেখার জন্যে। আবু জাহেল, উতবা ও অন্যান্যরা ঘুরে ঘুরে তা দেখতে লাগল । উতবা দেখল জাহসের ছেলেদের ঘরগুলোর দরজা বন্ধ, সেখানে সব কিছু একেবারে নিস্তব্ধ। সে বলল: জাহসের ছেলেদের ঘরগুলো তাদের জন্য কাঁদছে। আবু জাহেল বলল: এরা এমন কে যাদের জন্য তাদের ঘর কাঁদবে? তারপর আবু জাহেল আব্দুল্লাহ বিন জাহসের ঘরে ঢুকে যা কিছু পেল সব নিয়ে গেল । মনে হচ্ছিল সে এগুলোর মালিক । যখন এ কথাগুলো আব্দুল্লাহ বিন জাহসের কানে যায় তিনি তা রাসূল -এর নিকটে বলেন। রাসূল তাঁকে বললেন: এই ঘরের বিনিময়ে জান্নাতে তোমার জন্য একটি ঘর হবে তুমি কি এতে খুশি না?

তিনি বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল বললেন: তাহলে তোমার জন্যে তাই হবে।
এ কথা শুনে তাঁর অন্তর শান্তি পেল এবং তাঁর চক্ষু শীতল হলো। হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহস মদিনায় গিয়ে এখনো ভালোভাবে অবস্থান গ্রহণ করতে পারেননি। এমনকি মক্কা থেকে হিজরত করে আসার কষ্ট ক্লান্তিও দূর হয়নি। এর মধ্যেই আল্লাহ তাআলা চাইলেন তাঁকে জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার সম্মুখীন করবেন। তিনি এমন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন যে, ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে এ পর্যন্ত মতো কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হননি । আপনাদেরকে জানানোর জন্যে আমরা সেই ঘটনা নিচে তুলে ধরলাম । রাসূল তাঁর আটজন সাহাবীকে ইসলামের প্রথম সামরিক দায়িত্ব দিয়ে মক্কার পথে প্রেরণ করেন। তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন জাহস ও সা'দ বিন ওক্কাস্ ছিলেন। রাসূল বললেন: আমি তোমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে আদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা ক্ষুধা ও পিপাসায় ধৈর্য ধারণ করবে। তারপর তিনি আব্দুল্লাহ বিন জাহসকে তাঁদের আমীর বানিয়ে তাঁর হাতে ঝাণ্ডা তুলে দিলেন। এ কারণেই তিনি হলেন মুসলমানদের প্রথম ব্যক্তি যাকে রাসূল মুসলমানদের আমীরের দায়িত্ব প্রদান করেন ।

রাসূল তাঁদের যাওয়ার দিক ঠিক করে দিলেন। তিনি আব্দুল্লাহর নিকটে একটা চিঠি দিয়ে বললেন: তিনি যেন এই চিঠি দুই দিন সফর করার পূর্বে খুলে না দেখেন। যখন দুই দিন সফর শেষ হলো তিনি তা খুলে দেখলেন। তাতে লেখা ছিল- যখন তুমি আমার এই চিঠি খুলে দেখবে তখন তোমরা ওই খেজুরের বাগান পর্যন্ত অতিক্রম করে যাবে, যা মক্কা ও তায়েফের মাঝে অবস্থিত। অতঃপর সেখানে বসে কোরাইশদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখবে এবং তাদের সম্পর্কে আমাদেরকে তথ্য দিবে । তিনি তা পড়ে শেষ করে বললেন: আল্লাহর রাসূল যা বলেছেন তা শুনলাম এবং আনুগত্য স্বীকার করলাম । তারপর তিনি তাঁর সাথিদেরকে বললেন: রাসূল আমাদেরকে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী নাখলা নামক স্থানে গিয়ে অবস্থান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতেকরে আমরা কোরাইশদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখি এবং তাঁদের সম্পর্কে রাসূল এর নিকটে সংবাদ পৌঁছিয়ে দেই।

রাসূল আমাকে তোমাদের সাথে জোর করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং তোমাদের যার ইচ্ছা সে আমার সাথে আস আর যার ইচ্ছা চলে যাওয়ার সে কোনোরূপ অভিযোগ ব্যতীতই চলে যেতে পার। তাঁরা সবাই বলল: আমরা রাসূল এর কথা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। আপনি যেখানে আমাদেরকে আদেশ করেন আমরা সেখানেই যাব । সকলে ঐকমত্য হয়ে রাসূল সালাহাই-এর আদেশ পালনে নাখলার দিকে অগ্রসর হলেন। রাসূল -এর আদেশমতো তাঁরা সেখানে অবস্থান নিলেন এবং পথেপ্রান্তরে ঘুরে ঘুরে কোরাইশদের গতিবিধি লক্ষ্য করতে লাগলেন।

হঠাৎ করে তাঁরা দেখলেন কোরাইশদের একটি ব্যবসায়ী কাফেলা আসছে। সেখানে চারজন লোক ছিল। তারা হচ্ছে আমর বিন আল হাজরমী, হাকাম বিন কায়সান, উসমান বিন আব্দুল্লাহ ও তার ভাই মুগীরা। তাদের সাথে তাদের ব্যবসায়ী মালপত্র ছিল। উল্লেখযোগ্য মালের মধ্যে চামড়া, কিসমিস আরো অন্যান্য পণ্যসামগ্রী যা দ্বারা তারা ব্যবসা বাণিজ্য করত। এ সময় রাসূল - এর প্রেরিত সেই আটজন সাহাবী বসে পরামর্শ করতে লাগলেন। দিনটি ছিল মুহাররম মাসের শেষ দিন । তাঁরা বললেন: যদি আমরা আজ যুদ্ধ করি তাহলে আমরা হারাম মাসে যুদ্ধ করলাম। আর এ কারণে সকল আরববাসী আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হবে ।

আর অন্যদিকে যদি আমরা আজ তাদেরকে ছেড়ে দেই তাহলে তারা হারাম এলাকায় পৌঁছে যাবে এবং আমাদের থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে। অনেকক্ষণ যাবত পরামর্শ সভায় আলোচনা করার পর তাঁরা এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে যে, তাঁরা ওদেরকে আক্রমণ করবে এবং যা কিছু পায় তা গনীমত হিসেবে নিয়ে নিবে। এরপর তাঁরা ওদেরকে আক্রমণ করে আমর বিন হাজরামীকে হত্যা করে, দুইজনকে আটক করে আর অন্য একজন পালিয়ে যায় ।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহস গনীমতের মাল ও বন্দিদেরকে মদিনায় রাসূল এর নিকটে নিয়ে আসেন। তিনি রাসূল কে যা ঘটেছে সব কিছুর বিবরণ দিলেন । রাসূল আলামি ঘটনা শুনে কঠোরভাবে নিন্দা জানান । তিনি তাঁদেরকে বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেইনি; বরং আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছি তোমরা কোরাইশদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখবে এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে আমাদেরকে জানাবে।
রাসূল ওই দুই বন্দিদের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালার অপেক্ষা করতে লাগলেন এবং কাফেলার অর্জিত গনীমত থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ করলেন না।

এ অবস্থায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহস ও অন্য সাতজনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তাঁরা ধারণা করতে লাগলেন তাঁদের এই কাজ রাসূল -এর নির্দেশ বিরোধী হয়েছে আর এ কারণে না জানি তাঁরা ধ্বংস হয়ে যায়। তাঁদের জন্য ব্যাপারটি আরো কঠিন হয়ে গেল যখন অন্যান্য মুসলিম ভাইয়েরা তাঁদেরকে পরিত্যাগ করে চলতে লাগলেন। দেখা হলে তাঁদেরকে এ কাজের জন্য নিন্দা জানাতেন। এমনকি তাঁরা তাঁদেরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে অন্য পথে চলে যেতেন। মুসলমানগণ তাঁদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলতেন: এরা রাসূল -এর নির্দেশের বিপরীত কাজ করেছে। সমস্যাটি দিন দিন আরো বাড়তে লাগল। যখন তাঁরা জানতে পারল কোরাইশরা রাসূল -এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোত্রের নিকটে এই বলে প্রচার করতে লাগল যে, মুহাম্মদ হারাম মাসগুলোতেও যুদ্ধ বৈধ করে দিয়েছে। সে হারাম মাসে মানুষ হত্যা করেছে, মাল লুট করেছে এবং বন্দি করেছে। সুতরাং এতে প্রশ্ন করার অবকাশ থাকে না কতটুকু কষ্টের বোঝা তাঁদের মাথার ওপর ছিল। একদিকে তাঁদের কাজটি রাসূল -এর নির্দেশের বিপরীত হয়েছে অন্যদিকে তাঁদের কাজের জন্য কাফেররা রাসূল এর কুৎসা রটনা করছে।

দিনের পর দিন যখন তাঁদের ওপর কষ্ট আর মসিবত বাড়তে লাগল হঠাৎ এমন সময়ে এক লোক এসে বলল: আল্লাহ তোমাদের কাজের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর নবীর ওপরে অহী প্রেরণ করেছেন । এ সংবাদ শুনার পর তাঁদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। মনের মতো কষ্ট ও দুঃখের সময় এ সংবাদ শুনার পর তাঁরা কতই না খুশি হয়েছেন তা প্রশ্ন করার অবকাশ রাখে না। এ সংবাদ শুনে অন্যান্য মুসলমানগণ তাঁদেরকে স্বাগত জানাতে এগিয়ে আসলেন এবং তাঁদের সাথে কোলাকুলি করতে লাগলেন। তাঁদের কর্মের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ যে আয়াতগুলো নাযিল করেছেন তা তেলাওয়াত করে শুনাতে লাগলেন । তাঁদের সম্মানে নাযিলকৃত আয়াতগুলো...........
يَسْئَلُونَكَ عَن الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالِ فِيهِ قُل قِتَالُ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَلَّ عَنْ سَبِيلِ اللهِ وَكُفَرُ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاخْرَاجُ اَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ وَالْفِتْنَةُ أكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ وَلَا يَزَالُونَ يُقَتِلُونَكُم حَتَّى يَرُدُّوكُم عَنْ دِينِكُمْ إِن اسْتَطَعُوا وَمَنْ يُرْتَدِدُ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرُ فَأُوْلَاتَكَ حَبِطَتْ
أعملُهُم في الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأَوْلَائِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَلِدُونَ
অর্থ- “তারা আপনাকে হারাম মাসে যুদ্ধ করার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, আপনি বলুন তা অনেক জঘন্য, কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় কাউকে বাধা দেওয়া, তাঁর সাথে ও মসজিদে হারামের মধ্যে কুফরী করা এবং এর অধিবাসীকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর নিকটে আরো জঘন্য ।” [সূরা বাকারাহ্- ২১৭]

এ আয়াতে কারীমা নাযিল হওয়ার পর রাসূল -এর অন্তরও খুশিতে ভরে গেল। তিনি গনীমতে অংশগ্রহণ করেন এবং বন্দিদের থেকে মুক্তিপণ আদায় করেন। আর এ কাজের জন্য তিনি আব্দুল্লাহ বিন জাহস ও তাঁর সাথিদের ওপর অনেক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। যার কারণেই এ ঘটনাটি ইসলামী ইতিহাসে অনেক গুরুত্ব লাভ করে । কেননা এ যুদ্ধের গনীমত মুসলমানদের জন্য প্রথম গনীমত । এ যুদ্ধে যাকে হত্যা করা হয় সে প্রথম নিহত মুশরিক, যে মুসলমানদের হাতে নিহত হয়েছে। এ যুদ্ধে যারা বন্দি হয় তারা মুসলমানদের হাতে প্রথম বন্দি । আর এ যুদ্ধের আমীর ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাস যিনি ইসলামের ইতিহাসে প্রথম আমীরুল মুমিনীন নামে খ্যাত হয়েছিলেন।

বদরের পর উহুদের যুদ্ধে তাঁর ও তাঁর সাথি সা'দ বিন আবু ওয়াক্কাস -এর সাথে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা যা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। সে ঘটনা হযরত সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: ওহুদের যুদ্ধের পূর্বমুহূর্তে হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহস আমার সাথে দেখা করে বলে- তুমি আল্লাহর কাছে দোয়া করবে না? আমি বললাম: অবশ্যই করব। তারপর আমরা এককোণে গিয়ে দোয়া করলাম, আমি বললাম: হে আমার প্রতিপালক! আমি যখন শত্রুর সম্মুখীন হব আপনি আমার সাথে এক শক্তিশালী ব্যক্তিকে সাক্ষাৎ করাবেন যে খুব সাহসী এবং খুব রাগী, আমি তার সাথে লড়াই করব এবং সে আমার সাথে লড়াই করবে। এরপর তাকে পরাজিত করার জন্য তুমি আমাকে সাহায্য করবে, এতে আমি তাকে হত্যা করব এবং তার থেকে গনীমত নিয়ে নিব। দোয়া শেষে হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহস আমীন বলেন ।

এরপর আব্দুল্লাহ বিন জাহ্য় দোয়া করতে লাগলেন- হে আল্লাহ! আমার সাথে এক শক্তিশালী ব্যক্তিকে সাক্ষাৎ করাবেন যে খুব সাহসী এবং প্রচণ্ড রাগী, আমি তার সাথে লড়াই করব আর সে আমার সাথে লড়াই করবে। এরপর সে আমাকে ধরে ফেলবে এবং আমার নাক-কান কেটে ফেলবে। যখন আমি কিয়ামতের দিন তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব তুমি বলবে: তোমার নাক কান কেন কাটা হয়েছে? আমি বলব- তোমার জন্য এবং তোমার রাসূলের জন্য । তুমি বলবে: তুমি সত্য বলেছ । হযরত সা'দ বলেন: আমার দোয়া থেকেও আব্দুল্লাহ বিন জাহসের দোয়া উত্তম ছিল। আমি দিনের শেষে দেখেছি সে নিহত হয়েছে এবং তার নাক-কান কেটে ফেলা হয়েছে। তার নাক ও কান একটি গাছের ডালে সুতা দিয়ে ঝুলানো ছিল ।

আল্লাহ তাআলা হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহসের দোয়া কবুল করেছেন এবং তাঁকে শহীদি মর্যাদা দান করেছেন যেমনিভাবে তাঁর মামা হযরত হামজা জল -কে দান করেছেন। রাসূল তাঁকে ও হযরত হামজা -কে একই কবরে দাফন করেন। তখন তাঁর অশ্রু শাহাদাতের সুঘ্রাণে ভরা কবরকে সিক্ত করেছে।

তথ্য সূত্র
১. আল ইসাবা – ২য় খণ্ড, ২৮৬ পৃ.।
২. ইমতাউল আসমা – ১ম খণ্ড, ৫৫ পৃ.
৩. হুলিয়াতুল আওলিয়া - ১ম খণ্ড, ১০৮ পৃ.
৪. হুসনুস্ সাহাবা - ৩০০ পৃ.।
৫. মাজমুয়াতুল ওসায়িকিস্ সিয়াসিয়্যাহ্ - ৮ পৃ.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.