[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) এর জীবনী ।। Sahabi Abdullah Bin Masud er Jiboni

 হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) এর জীবনী

“কোরআন যেভাবে সিক্ত সতেজ নাযিল হয়েছে সেইভাবে পড়তে যার ভালো লাগে সে যেন ইবনে উম্মে আব্দ (আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ)-এর মতো করে পড়ে।” [তাঁর কিরাত সম্পর্কে রাসূল -এর উক্তি]

তখন তিনি খুব ছোট ছিলেন। কিশোর বয়স তাঁর থেকে তখনো কাটেনি। সেই সময়ে তিনি জন-মানব থেকে অনেক দূরে মক্কা নগরীর এক কোণে উব্বা বিন আবু মুয়িতের ছাগল চরাতেন। উব্বা ছিল মক্কার নেতাদের অন্যতম যে রাসূল ও মুসলমানদেরকে অনেক বেশি কষ্ট দিত। এই ছোট বালকটিকে মানুষ ইবনে উম্মে আবদ বলে ডাকতো। তাঁর নাম আব্দুল্লাহ আর তাঁর পিতার নাম মাসউদ।
মক্কার অন্যান্য মানুষের মতো এই বালকও রাসূল-এর আগমনের কথা শুনেছেন। কিন্তু তাঁর বয়স কম হওয়ার কারণে তাঁর মাঝে এ ব্যাপারে কোনো উদগ্রীব সৃষ্টি হয়নি। তাছাড়া তিনি সমাজ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। সম্ভবত এ কারণেও তাঁর মাঝে এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। তিনি প্রতিদিন সকাল বেলা ছাগল নিয়ে বের হয়ে যেতেন আর সন্ধ্যা বেলা ফিরে আসতেন । তারই মধ্যে একদিন এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে। তিনি দুইজন বয়স্ক ব্যক্তিকে তাঁর দিকে এগিয়ে আসতে দেখলেন। তাঁরা অনেক ক্লান্ত ছিলেন। তাঁদের পিপাসাও চরমে ছিল। পিপাসার কারণে তাঁদের দুই ঠোঁট ও গলা শুকিয়ে গেছে । তাঁরা তাঁর নিকটে এসে সালাম দিয়ে বললেন: হে বালক! তোমার বকরিগুলো থেকে আমাদেরকে সামান্য দুধ দোহন করে দাও। যাতেকরে আমরা দুধ পান করে নিজেদের পিপাসা নিবারণ করতে পারি এবং শিরা উপশিরাগুলো সিক্ত করতে পারি ।

তিনি বললেন: আমি তা করব না। কেননা ছাগলগুলো আমার নয়, আমি এগুলোর জিম্মাদার মাত্র। তিনি আরো বললেন: এ কথা বলার পরেও ওই দুই লোকের মাঝে কোনো হতাশা আসেনি; বরং তাঁরা তাঁর কথা শুনে তাঁর ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন । তারপর তাঁদের একজন বললেন: আমাদেরকে এমন একটি ছাগল দেখিয়ে দাও যে এখনো দুধ দেয়নি। তিনি একটি ছোট ছাগল দেখিয়ে দিলেন। তখন তাঁদের দুইজনের একজন ছাগলটির কাছে গিয়ে সেটিকে ধরলেন। তারপর লোকটি ছাগলের ওলানে হাত বুলাতে লাগলেন। তিনি তাতে বিসমিল্লাহ পাঠ করলেন। আর বালকটি অবাক চোখে দেখতে লাগল ।

তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন- এই ছোট ছাগল যার এখনো স্তনের বোঁটা ও ফুটেনি সে দুধ দিবে? কিন্তু কিছুক্ষণ পর ছাগলটির স্তন ফুলে উঠল এবং তীব্র বেগে দুধ দিতে শুরু করল। অন্য লোকটি মধ্যখানে গভীরতাবিশিষ্ট একটি পাথর নিয়ে এলেন এবং তা দুধ দ্বারা পূর্ণ করে নিলেন। তারপর তাঁরা উভয়ে দুধ পান করলেন । বালকটি বললেন: কিন্তু আমি নিজ চোখে যা দেখেছি তা নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না । এটা কিভাবে সম্ভব?
যখন তাঁরা চলে যাচ্ছিলেন তখন বরকতময় হাতওয়ালা লোকটি ছাগলের স্তনকে লক্ষ্য করে বললেন: বন্ধ হয়ে যাও। তারপর তা আগের মতো হয়ে গেল । তিনি বললেন: তখন আমি ওই লোকটিকে বললাম: আপনি যে কথা বলে এই কাজ করেছেন তা আমাকে শিখিয়ে দিন ।
লোকটি বললেন: অবশ্যই (অতিশীঘ্রই) তুমি শিক্ষাপ্রাপ্ত বালক হবে।

এ ঘটনা হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ-এর প্রথম ঘটনা, যা তাঁকে ইসলামের দিকে পথ দেখাল ৷ সম্মানিত পাঠক! আপনি কি জানেন ওই দুইজন লোক কে ছিলেন? তাঁরা আর অন্য কেউ না; বরং তাঁদের একজন স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ আর অন্যজন তাঁরই সাহাবী হযরত আবু বকর । ওই দিন তাঁদেরকে কাফেররা অনেক বেশি কষ্ট দেওয়ার কারণে তাঁরা সেই গিরিপথের দিকে যান। আর তীব্র গরমের কারণে অনেক পিপাসার্ত হয়ে গেলেন। আর এ কারণে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের এই অলৌকিক ঘটনা দেখার সৌভাগ্য হলো। এ বালক রাসূল -কে ও তাঁর সাহাবীদেরকে অনেক বেশি মহব্বত করতেন। তাঁর আমানতদারিতা ও হিম্মত দেখে স্বয়ং রাসূল অবাক হতেন। তাছাড়া তিনি ভালো কাজে অনেক অগ্রগামী ছিলেন ।

এরপর কিছু দিন পার না হতেই হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি নিজেকে রাসূল -এর খেদমত করার জন্যে পেশ করেন। রাসূল তাঁর এই আরজিকে কবুল করেন এবং তাঁকে তাঁর খাদেম হিসেবে রেখে দিলেন। ওই দিন থেকে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ছাগল চরানো বাদ দিয়ে শ্রেষ্ঠ মানবের খেদমতে নিয়োজিত হলেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ তখন থেকে রাসূল -এর খেদমতে নিজেকে উজাড় করে দিতে লাগলেন। তাঁর আবাসে-নিবাসে, ঘরে-বাইরের সঙ্গী হয়ে গেলেন। রাসূল যখন ঘুমাতেন তিনি জাগ্রত থেকে পাহারা দিতেন। গোসল ও অযু করার সময় পানি এনে দিতেন। রাসূল ঘর থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করলে তিনি জুতা পরিয়ে দিতেন। আবার ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে তিনি জুতা খুলে দিতেন। তিনি রাসূল-এর মিসওয়াক ও লাঠি বহন করতেন। আর যখন রাসূল কক্ষে প্রবেশ করতেন তিনি তাঁর সাথে প্রবেশ করতেন। তাঁর সাথে রাসূল এর সাথে এমন সম্পর্ক হয়ে যায় যে, তিনি রাসূল -এর কাছে যখন ইচ্ছে তখন আসার অনুমতি পেয়ে ছিলেন।

রাসূল -এর ঘরে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রনি বেড়ে উঠেন। আর তাই তিনি রাসূল -এর প্রচারিত আদর্শে আদর্শিত হয়ে এবং তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হয়ে বড় হলেন। তিনি রাসূল -কে প্রতিটি কাজে অনুসরণ করতেন। আর এই কারণে তাঁকে বলা হতো তিনি চরিত্র ও আকৃতির দিক দিয়ে রাসূল -এর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন । হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাসূল -এর নিকটে থাকার কারণে তিনি শরিয়তের জ্ঞান সম্পর্কে ভালো জানতেন। আর তিনিই ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ক্বারী এবং সবচেয়ে বড় ফকীহ।
তাঁর জ্ঞান কেমন ছিল তা একটি ঘটনা বর্ণনা করলেই আমাদের বুঝে আসবে । হযরত উমর আরাফার ময়দানে অবস্থান করছিলেন। তখন এক লোক তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বলল: হে আমীরুল মুমিনীন! আমি ‘কুফা’ থেকে এসেছি এবং সেখানে এমন একজন লোককে রেখে এসেছি যে নিজের থেকে কোরআনের ব্যাখ্যা করে। হযরত উমর এই কথা শুনে খুব রাগান্বিত হলেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে মতো বেশি রাগান্বিত হতেন না। তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হতো ! সেই লোকটি কে? লোকটি বলল: তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ । আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ঘুম-এর কথা শুনে তাঁর রাগ ঠাণ্ডা হয়ে গেল এবং তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলেন । হযরত উমর বললেন: তোমার জন্য আফসোস্ ! আমার জানা মতে, কোরআনের ব্যাখ্যা করার মতো তাঁর থেকে অধিক যোগ্য আর কেউ নেই । তিনি আরো বললেন: একদিন রাসূল আবু বকরের নিকটে গিয়ে মুসলমানদের সম্পর্কে আলোচনা করলেন তাদের সাথে আমিও ছিলাম। এরপর রাসূল সেখান থেকে বের হলে আমরাও তাঁর সাথে বের হলাম। এমন সময় আমরা দেখলাম এক ব্যক্তি নামাজ পড়তেছে, কিন্তু তাঁকে আমরা চিনতে পারিনি ।

রাসূল দাঁড়িয়ে তাঁর কেরাত শুনতে লাগলেন। এরপর বললেন: কোরআন যেভাবে সিক্ত সতেজ নাযিল হয়েছে যার ইচ্ছা সেভাবে পড়বে সে যেন উম্মে আবদ (আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ)-এর মতো করে পড়ে । তারপর আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ দোয়া করতে বসলেন। রাসূল বললেন: তুমি চাও আর তুমি যা চাইবে তা তোমাকে দেওয়া হবে, তুমি চাও আর তুমি যা চাইবে তা তোমাকে দেওয়া হবে। এরপর হযরত উমর আম বললেন: আমি মনে মনে বললাম: রাসূল তাঁর দোয়ার সাথে আমীন বলেছেন এ সুসংবাদটি কাল সকালে অবশ্যই আমি তাঁকে দিব। আমি সকালে তাঁকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্যে গেলাম। গিয়ে দেখি আবু বকর আমার আগে তাকে সুসংবাদ দিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়........ আল্লাহর কসম করে বলি, আমি কখনো কোনো ভালো কাজে আবু বকরকে পেছনে ফেলতে পারিনি।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ -এর জ্ঞানের পরিমাণ মতো বেশি ছিল যে, তিনি নিজেই বলেতেন- যে সত্ত্বা ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ্ নেই তাঁর শপথ! কোরআনের এমন কোনো আয়াত নেই সেটি সম্পর্কে আমি জ্ঞাত নই। প্রতিটি আয়াত কোথায় নাযিল হয়েছে এবং কোন প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে সে সম্পর্কে আমি পূৰ্ণ জ্ঞাত আছি। আমি যদি জানতে পারি, কোরআন সম্পর্কে কেউ আমার থেকে অধিক জানে, আর তাঁর কাছে গমন করা আমার সক্ষম হয় তাহলে অবশ্যই আমি তাঁর কাছে গমন করতাম । হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের বলা কথাটি একটু অতিরিক্ত ছিল না; বরং তাঁর জ্ঞান সাহাবীদের দ্বারা স্বীকৃত ছিল।

আর এরূপ একটি ঘটনা- হযরত উমর একটি কাফেলার সাথে পথ চলছিলেন, তখন ছিল অন্ধকার রাত। আর ওই কাফেলাতে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদও ছিলেন। হযরত উমর এক ব্যক্তিকে এ কথা ঘোষণা করার নির্দেশ দিলেন যে, কাফেলা কোথায় থেকে এল? কাফেলার ভেতর থেকে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ উত্তর দিলেন- বহু দূর দূরান্ত থেকে । হযরত উমর বললেন: তোমরা কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করেছ?

তিনি উত্তরে বললেন: প্রাচীন গৃহে ৷ হযরত উমর বললেন: নিশ্চয়ই এই কাফেলায় কোনো আলেম আছেন। তিনি এক লোককে নির্দেশ দিলেন, জিজ্ঞেস কর- কোরআনের কোনো আয়াতটি সবচেয়ে ফযিলত পূর্ণ ?
তিনি উত্তরে বললেন:
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَومٌ.
অর্থ- “আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরজীবী ও অবিনশ্বর তাকে ঘুম ও তন্দ্রা স্পর্শ করে না......” (সূরা বাকারাহ্ ২৫৫নং আয়াত)

হযরত উমর আমিতো বললেন: তাঁদের কে জিজ্ঞেস কর, কোরআনের কোন আয়াতটি অধিক প্রজ্ঞাময়? তিনি উত্তরে বললেন: إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَنِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالمُنكَرِ وَالبَغِي يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُم تَذَكَّرُونَ
অর্থ- “অবশ্যই আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণতা, সদাচারণ ও আত্মীয় স্বজন কে দান করার নির্দেশ দেন” (সূরা নাহলো ৯০নং আয়াত)

হযরত উমর জমির মা বললেন: তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কোরআনের কোন আয়াতটি সব থেকে ব্যাপক? তিনি উত্তরে বললেন: فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
অর্থ- “যে ব্যক্তি সামান্য পরিমাণ নেক আমল করবে সে তার প্রতিদান দেখতে পাবে, আর যে ব্যক্তি সামান্য পরিমাণ বদ আমল করবে সে তারও প্রতিদান দেখতে পাবে” (সূরা যিলযাল ৭৩৮ নং আয়াত)

হযরত উমর রাদিয়ালার বললেন: তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কোরআনের কোন আয়াতটি অন্তরে অধিক ভয় সৃষ্টি করে? তিনি উত্তরে বললেন:
لَّيسَ بِأَمَانِيَكُم وَلَا أَمَانِ أَهْلِ الْكِتَبِ مَن يَعْمَلْ سُوءًا يُجِزَ بِهِ وَلَا يَجِد لَهُ . مِن دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
অর্থ- “তোমাদের ইচ্ছে মতো নয় আবার আহলে কিতাবদের ইচ্ছে মতও নয়; বরং যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের কাজ করবে তাকে তার শাস্তি পেতে হবে, সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে নিজের পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী হিসেবে পাবে না” (সূরা নিসা ১২৩নং আয়াত)

হযরত উমর বললেন: তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কোরআনের কোন আয়াতটি অন্তরে আশা জাগায়? তিনি উত্তরে বললেন: قُل يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِم لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحِمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَعْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থ- “আপনি বলুন, আমার যে সকল বান্দারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তারা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ না হয়, নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিবেন, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল এবং দয়ালু”(সূরা যুমার : ৫৩নং আয়াত)

হযরত উমর বললেন: তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তোমাদের মাঝে কি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আছে? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। হযরত উমর -এর করা প্রশ্নগুলোর উত্তর হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ দিয়েছেন। এতে বুঝা যায় তার জ্ঞানের পরিধি কত বিশাল ছিল । হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ শুধু কেবল আলেম, কারী ও আবেদই ছিলেন না; বরং তিনি একজন সাহাসী, অগ্রগামী একজন মুজাহিদও ছিলেন। রাসূল -এর পর পৃথিবীর বুকে তিনিই সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে উচ্চ স্বরে কোরআন তেলাওয়াত করেছেন ৷ রাসূল -এর সকল সাহাবী একত্রিত হয়ে পরামর্শ করতে লাগলেন কে কোরইশদেরকে কোরআন পাঠ করে শুনাবে। কেননা মুসলমানগণ তখন খুবই দুর্বল ছিলেন।

তাঁরা বলতে লাগলেন- আল্লাহর শপথ! কোরাইশরা কখনো এই কোরআন উচ্চ স্বরে শুনেনি সুতরাং কে এমন আছে যে কোরাইশদেরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শুনাবে? হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বললেন: আমি তাদেরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শুনাব । তিনি বললেন: আল্লাহর রহমত । হযরত উসমান বদিয়ারায় বললেন: তুমি গত দুই বছর ধরে যে ভাতা নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন, আমি কি সে ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিব?

তিনি বললেন: আমার তা প্রয়োজন নেই । হযরত উসমান বললেন: তোমার মৃত্যুর পর তা তোমার মেয়েদের কাজে লাগবে । তিনি বললেন: আমার মেয়েরা গরিব হয়ে যাবে আপনি কি এ ভয় করছেন? আমি তাদেরকে প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করার আদেশ দিয়েছি। আর আমি রাসূল -কে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে তাকে কখনো দারিদ্র্যতা স্পর্শ করবে না । যখন রাত ঘনিয়ে আসল হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ তাঁর প্রভুর জিকির করতে করতে তাঁর নিকটে চলে গেলেন । মুসলমানগণ তাঁর জানাযার নামাজ আদায় করেন। তাদের মধ্যে জুবাইর বিন আওয়ামও ছিলেন । তারপর তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর প্রতি বিশেষ
রহমত করুন ।

তথ্য সূত্র ১. আর ইসাবা - ২য় খণ্ড, ৩৬৮ পৃ.। ২. আল ইসতিয়া’ব - ২য় খণ্ড, ৩১৬ পৃ. ৩. তারীখুল ইসলাম লিয্ যাহাবী - ২য় খণ্ড, ১০০-১০৪ পৃ.। ৪. তাযকিরাতুর হুফ্ফাজ - ১ম খণ্ড, ১২-১৫ পৃ.।
৫. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - ৭ম খণ্ড, ১৬২-১৬৩ পৃ. ।
৬. ত্ববাকাতুশ্ শা’রানী - ২৯-৩০ পৃ. ৷
৭. শাযরাতুয্ যাহাব - ১ম খণ্ড, ৩৮-৩৯ পৃ.
৮. উসদুল গবাহ্ - ৩য় খণ্ড, ৩৮৪-৩৯০ পৃ.
৯. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা - ১ম খণ্ড, ৪৬১-৫০০ পৃ.।
১০. সিফাতুস্ সয়া ১ম খণ্ড, ১৫৪-১৬৬।
১১. মুসনাদুল ইমাম আহমাদ - ৫ম খণ্ড, ২১০ পৃ.।
১২. দালায়িলুন নুবুয়্যাহ্ - ২৭৩ পৃ. ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.