02/28/23

অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

 

 পশুর পেটে বাচ্চা থাকা অবস্থায় ঐ পশু কুরবাণী করা যাবে কি?




উত্তর : পেটে বাচ্চা থাকা অবস্থায় পশু কুরবাণী করায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। এছাড়া উক্ত পশুর গোশত খাওয়া যাবে। এমনকি রুচি হ’লে পেটের বাচ্চাও খেতে পারে। আবু সাঈদ খুদরী বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমরা উটনী, গাভী ও ছাগী যবেহ করি এবং কখনো কখনো আমরা তার পেটে বাচ্চা পাই। আমরা ঐ বাচ্চা ফেলে দিব, না খাব? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তোমাদের ইচ্ছা হ’লে খাও। কারণ বাচ্চার মাকে যবেহ করা বাচ্চাকে যবেহ করার শামিল’ (আবুদাউদ হা/২৮২৮; মিশকাত হা/৪০৯১-৯২)

হযরত আনাস বিন মালেক আল আনসারী রাদিয়াতকে আনহু

“হে আল্লাহ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করুন এবং তাকে বরকত দান করুন।”
[তাঁর জন্য রাসূল মালাধাই-এর বিশেষ দোয়া]
আনাস আমি যখন ফুটন্ত গোলাপের বয়সি ছিলেন তখনই তাঁর মা গুমাইসা যদিশাহার তাঁকে কালেমায়ে শাহাদাত শিখিয়ে দিলেন। তাঁর মায়ের কোমল হৃদয় ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সামাধান -এর ভালোবাসায় সিক্ত ছিল।

তেমনি হযরত আনাস তাঁর মায়ের থেকে শুনে শুনে নবী করীম সানাহার-এর ভালোবাসায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এতে আশ্চর্য হবার কিছুই নেই। কেননা কখনো কখনো চোখে দেখার চেয়েও কানে শুনার দ্বারা মানুষ বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। আর তাই এই ছোট শিশু মক্কায় গিয়ে নবী করীম সালাহাই-কে এক নযর দেখে সৌভাগ্যবান হওয়ার কতই না আশা করত ৷ তবে তাকে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি, এরই মধ্যে রাসূল সমাধান ও তাঁর হিজরতের সাথি হযরত আবু বকর সিদ্দিক সৌভাগ্যবতী ও আশীর্বাদপ্রাপ্ত ভূমি ইয়াসরিবের দিকে তাঁদের হিজরতে সফর শুরু করেন। এতে মদিনার প্রতিটি ঘরে খুশির বাতাস বইতে শুরু করে আর সকলের অন্তর আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকে। তখন থেকে সকলের দৃষ্টি ও অন্তর নবী করীম সালামাহ ও তাঁর হিজরতে সাথির পথপানে অপলক চেয়ে রইল । মদিনার যুবকেরা নবী করীম সানাহার-এর আগমনের বার্তা প্রতি দিন সকাল হলে এ বলে প্রচার করত- মুহাম্মদ মদিনায় আগমন করেছেন...................... মুহাম্মদ মদিনায় আগমন করেছেন......................
এ প্রচার শুনে হযরত আনাস অন্যান্য শিশুদের সাথে সেই দিকে দৌড় দিতেন, কিন্তু তিনি কিছুই দেখতে না পেয়ে বিষণ্ন মনে ফিরে আসতেন।এক সুন্দর সকালে কিছু লোক ইয়াসরিবে ঘোষণা করল- মুহাম্মদ ও তাঁর হিজরতের সাথি মদিনার অতি নিকটে চলে এসেছেন।

এ ঘোষণা শুনে সকলে অধীর আগ্রহে ওই মোবারকময় পথের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল যে পথ কল্যাণময় ও সঠিক পথের প্রদর্শক নবীকে তাদের নিকটে নিয়ে আসবে এবং তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্যে দলে দলে তারা এগিয়ে যেতে লাগল । শিশুদের দলগুলো মানুষের ভিড়ের মাঝে অবস্থান নিল। তাদের চেহারায় আনন্দ- বন্যা বইয়ে যাচ্ছিল যা তাদের কচি মন ও ছোট হৃদয়গুলোকে খুশিতে ভরে দিচ্ছে। আর সেই শিশুদের দলগুলোর অগ্রভাগে ছিলেন হযরত আনাস বিন মালেক

নবী করীম সালাম তাঁর সাহাবী আবু বকর -কে সাথে নিয়ে মদিনায় এসে পৌঁছলেন। তখন তাঁদেরকে আবাল বৃদ্ধ বণিতা নির্বিশেষে সবাই স্বাগতম জানাতে লাগল । আর অন্দর মহলের মহিলারা ও ছোট ছোট শিশুরা উঁচুস্থানে আরোহণ করে নবী করীম সালাহাই-কে দেখতে লাগল আর বলতে লাগল-
কোন ব্যক্তি তিনি ? -
কোন ব্যক্তি তিনি?..
এ সকল কারণে সেই দিনটি ছিল স্মরণীয় একটি দিন। যা শত বছর পার হওয়ার পরেও হযরত আনাস -এর স্মরণে ছিল ।

নবী করীম মদিনায় অবস্থান করতে থাকলেন; এরই মাঝে একদিন উম্মে আনাস গুমাইসা বিনতে মিলহান বাদি হার তাঁর পুত্র আনাসকে নিয়ে নবী করীম স্যালাইছি-এর খেদমতে হাজির হলেন। তখন তাঁর সাথে তাঁর ছেলেও ছিল। যে তাঁর আশপাশে ছুটা-ছুটি করছিল। আর তখন তার চুলগুলো কপালের ওপর হাওয়ায় উড়তে ছিল।

তিনি নবী করীম -কে অভিবাদন জানানোর পর বললেন:
“হে আল্লাহর রাসূল সালালাহ ! আনসারী সকল পুরুষ ও মহিলা আপনাকে কিছু না কিছু হাদিয়া দিয়েছে, কিন্তু আমার কাছে আপনাকে হাদিয়া দেওয়ার মতো কিছুইনেই সুতরাং আপনি আমার এই ছেলেকে আপনার খাদেম হিসেবে গ্রহণ করুন, যাতে করে সে আপনার মর্জি অনুযায়ী আপনার খেদমত করতে পারে।”
নবী করীম এতে আনন্দিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন, তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তাঁকে পরিবারের একজন সদস্য করে নিলেন ।

হযরত আনাস যাঁকে আদর করে উনাইস বলে ডাকা হতো, তিনি যেদিন রাসূল -এর খেদমতে নিয়োজিত হয়ে সৌভাগ্যবান হলেন ওই দিন তাঁর বয়স ছিল মাত্র দশ বছর । তিনি ওই দিন থেকে নবী করীম সামাধান তাঁর প্রতিপালকের সাথে মিলিত হওয়ার দিন পর্যন্ত তাঁর কোলে ও তত্ত্বাবধানে জীবন অতিবাহিত করেন । আর এতে তিনি রাসূল -এর সংস্পর্শে তাঁর জীবনের পূর্ণ দশ বছর অতিবাহিত করার সুযোগ লাভ করেন। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি নবী করীম থেকে হেদায়াতের এমন সুধা পান করেন যার দ্বারা তাঁর অন্তর পবিত্রতা লাভ করেছে, এবং তাঁর থেকে মতো সংখ্যক হাদীস সংরক্ষণ করেন যা দ্বারা তাঁর বক্ষ পরিপূর্ণ হয়েছে। তিনি নবী করীম -এর এমন এমন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত হলেন যা তিনি ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারেনি। হযরত আনাস রাদিয়ার নবী করীম থেকে এমন ভালোবাসা ও আদর স্নেহ পেয়েছেন যা কোনো পুত্র তার পিতা থেকেও পায়নি। শুধু তাই না; বরং তিনি নবী করীম সালাহাই-এর উত্তম চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহারের স্বাদ এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যা দেখে দুনিয়াবাসী ঈর্ষান্বিত হয়েছে। তাঁর প্রতি নবী করীম -এর ব্যবহার কেমন ছিল তা তাঁর বর্ণিত হাদীস পড়ে আমরা সহজে উপলব্ধি করতে পারব। কেননা তাঁর নিজস্ব বর্ণনাটি ওই ব্যাপারে আমাদেরকে সহজে ও ভালোভাবে বুঝাতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে ।

হযরত আনাস জমি বলেন:
“রাসূল ম্যালাহাই ছিলেন সবার চেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী, সবার চেয়ে উদার মনের অধিকারী এবং সবার চেয়ে অধিক দয়ার অধিকারী। তিনি একদিন আমাকে কোনো এক প্রয়োজনে এক জায়গায় পাঠালেন, আমি বের হলাম, কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল আমি বাজারে গিয়ে অন্যান্য ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করব। আর খেলাধুলা করার জন্যেই তিনি আমাকে যে কাজের আদেশদিয়েছেন সেই কাজে আমি যায়নি। যখন আমি তাদের নিকটে গিয়ে পৌঁছলাম তখন আমি আমার পেছনে কোনো এক ব্যক্তির অস্তিত্ব অনুভব করলাম। তিনি আমার কাপড় টেনে ধরলেন। আমি ফিরে দেখি তিনি অন্য কেউ না তিনি স্বয়ং রাসূল । তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন: হে উনাইস! আমি তোমাকে যেখানে যাওয়ার জন্যে বলেছি সেখানে গিয়েছ?

তখন আমি হতভম্ব হয়ে গিয়ে বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এখনই যাচ্ছি। আল্লাহর শপথ! আমি দশ বছর নবী করীম -এর খেদমত করেছি, কিন্তু তিনি কখনো আমার কোনো কাজে আমাকে এ কথা বলেননি “তুমি কেন এটি করেছ” অথবা কোনো কাজ না করার কারণে তিনি এও বলেননি “তুমি কেন তা করনি।”নবী করীম হযরত আনাসকে আদর করে উনাইস বলে ডাকতেন। যার কারণে তিনি কখনো তাঁকে “উনাইস” বলে ডাকতেন আবার কখনো ডাকতেন “হে আমার ছেলে।” নবী করীম তাঁকে প্রচুর পরিমাণে উপদেশ ও নসীহত করতেন যা তাঁর অন্তরকে পরিপূর্ণ করেছে এবং জ্ঞানকে পূর্ণতা দিয়েছে । উপদেশগুলো এমন ছিল.... “হে বৎস! কারো প্রতি কোনো প্রকার হিংসা ও বিদ্বেষ ব্যতীত যদি তুমি সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত করতে সক্ষম হও, তবে তুমি তা কর। “হে বৎস! এটি আমার সুন্নাত আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে জীবিত করল সে আমাকে ভালোবাসে... আর যে আমাকে ভালোবাসে সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে... “হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবারের নিকটে প্রবেশ করবে তখন তাদেরকে সালাম দিবে কেননা তা তোমার জন্য ও তোমার পরিবারের জন্য বরকতময় হবে।”
হযরত আনাস আমি তো নবী করীম -এর ইন্তেকালের পরে আশি বছরের অধিক বেঁচে ছিলেন। এ দীর্ঘ সময়ে তাঁর অন্তর নবী করীম -এর ভরে যায় এবং নবুওয়াতের ফিক্হী জ্ঞানে তাঁর আকল পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আর ওই সকল জ্ঞান দ্বারা সাহাবী ও তাবেয়ীদের অন্তর জীবিত হতো। যে সকল জ্ঞান তিনি রাসূল -এর পথ-প্রদর্শনা থেকে প্রচার করতেন এবং রাসূল - এর পবিত্র বাণী ও মহান কর্ম থেকে বর্ণনা করতেন।

মুসলমানদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে হযরত আনাস তাঁর জীবন অতিবাহিত করেছেন। যখন তারা কোনো কাজে জটিলতায় পড়তো তখন তারা তাঁর নিকটে ছুটে আসত অথবা কোনো বিধান যদি তাদের বুঝে না আসত তারা ওই বিধানের ব্যাপারে তাঁর সমাধান মেনে নিতো । এই রকম একটি ঘটনা- ধর্ম নিয়ে বিতর্ককারী কিছু লোক, কিয়ামতের দিনে রাসূল সালামাই-এর হাউজে কাউসারের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক শুরু করল। অতঃপর তারা এর সমাধানের জন্য হযরত আনাস সিরাতাল -এর নিকটে আসল। তিনি বললেন: “আমি এ ধারণা করেছি যে, আমার জীবিত অবস্থায় তোমাদের কিছু লোক হাউজে কাউসার নিয়ে বিতর্ক করবে। আমি আমার জীবনে এমন কোনো নামাজ আদায় করিনি যে নামাজে রাসূল সানাহার-এর হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করার দোয়া করিনি।” হযরত আনাস তার জীবনে অধিকাংশ সময় রাসূল -এর সাথে অতিবাহিত করা দিনগুলোর বর্ণনা করে কাটাতেন । তিনি যেদিন রাসূল -এর কাছে এসেছেন সেই দিনের কথা বলে খুব আনন্দ প্রকাশ করতেন, আর যেদিন রাসূল বিদায় নিয়ে চলে গেলেন সেই দিনের কথা বলে খুব কান্নাকাটি করতেন । তিনি রাসূল -এর কথা ও কাজ অনুসরণ করার প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন । রাসূল যা পছন্দ করতেন তিনিও তা পছন্দ করতেন আর রাসূল যা অপছন্দ করতেন তিনিও তা অপছন্দ করতেন। তিনি দুইটি দিনের কথা বেশি বেশি বলতেন:
ওই দিনের কথা যেদিন রাসূল -এর সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। আর ওই দিনের কথা যেদিন রাসূল -এর সাথে তাঁর শেষ সাক্ষাতের সমাপ্তি হলো।যখন তিনি প্রথম দিনের কথা বলতেন তখন তিনি খুব গর্ব বোধ করতেন এবং খুব আনন্দিত হতেন। আর যখন দ্বিতীয় দিনের কথা বলতেন তখন নিজেও খুব কাঁদতেন, মানুষদেরকেও কাঁদাতেন । তিনি বেশি বেশি বলতেন: আমি রাসূল -কে দেখেছি যেদিন তিনি আমাদের মাঝে আগমন করেন। আর ওই দিনও দেখেছি যেদিন তিনি আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। এই দুই দিনের মতো আর কোনো দিন দেখিনি ৷ যেদিন তিনি মদিনায় আগমন করেন সেই দিন মদিনার সবকিছু আলোকিত হয়েছিল....

আর যেদিন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে তাঁর প্রতিপালকের কাছে চলে গেলেন সেই দিন সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল..

আমি শেষবার যেদিন রাসূল -এর দিকে তাকালাম সেদিন ছিল সোমবার যখন তাঁর কক্ষের পর্দা খুলে ফেলা হলো। তখন আমি তাঁর চেহারা মোবারক দেখলাম পবিত্র পাতার মতো। সেদিন সকল মানুষ আবু বকর -এর পিছনে দাঁড়িয়ে রাসূল -কে দেখছিল। মানুষ খুব অস্থির হয়ে যাচ্ছিল, আবু বকর সবাইকে স্থির থাকার ইশারা করলেন। এরপর এ দিনের শেষ মুহূর্তে রাসূল বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। তাঁকে মাটিতে ঢেকে দেওয়ার পর থেকে আমরা তাঁর চেহারা মোবারকের মতো উত্তম আর কিছুই দেখতে পাইনি । নবী করীম হযরত আনাসের জন্যে অনেক বার দোয়া করেছিলেন....... তাঁর দোয়ার মধ্যে বিশেষ একটি দোয়া- “হে আল্লাহ! তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করুন এবং তাকে বরকত দান আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর এই দোয়া কবুল করেছেন। আর এই কারণে হযরত আনাস আর আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সন্তান ও সম্পদের অধিকারী ছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনীর সংখ্যা এক শতের উপরে দেখে গেছেন । শুধু তাই নয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াতেও বরকত দান করেছেন। তিনি পূর্ণ এক শতাব্দী বেঁচে ছিলেন। তিনি একশত তিন বছর হায়াত পেয়েছেন।
হযরত আনাস রাশিয়ার কিয়ামতের দিন রাসূল -এর শাফায়াত পাওয়ার অনেক বেশি আশা করতেন। আর এই কারণেই তিনি বেশি বেশি বলতেন:

“আমি অবশ্য কিয়ামতের দিন রাসূল সালামাহ -এর সাক্ষাৎ আশা করি । আর রাসূল -এর সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি বলব: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সেই ছোট খাদেম উনাইস।” যখন হযরত আনাস মৃত্যু শয্যায় শায়িত হলেন তিনি তাঁর পরিবারের লোকদেরকে বললেন: তোমরা আমাকে “লা ইলাহা ইল্লাহ”-এর তালক্বীন দাও । এরপর তিনি কালেমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন । তিনি অসীয়ত করে গিয়েছিলেন রাসূল -এর একটি ছোট লাঠি তা যেন তাঁর সাথে কবরে দেওয়া হয়। আর ওই লাঠিটা তাঁর অসীয়ত মতো তাঁর কোমর ও জামার মাঝে রাখা হয়েছিল।

আল্লাহ তাআলা কল্যাণকর যা কিছু হযরত আনাস -কে দান করেছেন তা তাঁর জন্য সুখকর হোক । সাপ্তাহার-এর কোলে পুরো দশ বছর অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি রাসূল হাদীস বর্ণনাকারীদের মাঝে তিনি তৃতীয়। হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমরের পরেই তাঁর স্থান।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে আর তাঁর মাকে ইসলাম ও সকল মুসলমানদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

তথ্য সূত্র
১. আল ইসাবাহ্ – ১ম খণ্ড, ৭১ পৃ. ।
২. আল ইসতিআ'ব – ১ম খণ্ড, ৭১ পৃ.।
৩. তাহযীবুত্‌ তাহযীব - ১ম খণ্ড, ৩৭৬ পৃ.
৪. আল জাউ বায়না রিজালিস্ সহীহাইন – ১ম খণ্ড, ৩৫ পৃ.
৫. উদুল গবাহ্ - ১ম খণ্ড, ২৫৭ পৃ.।
৬. সিফাতুস্ সফওয়াতে – ১ম খণ্ড, ২৯৮ পৃ.
৭. আল মাআরিফ – ১৩৩ পৃ.
৮. আল ইবরু – ১ম খণ্ড, ১০৭ পৃ.।
৯. সিরাতু বাতল – ১০৭ পৃঃ ।
১০. তারীখুল ইসলাম লিয্যাহাবী - ৩য় খণ্ড, ৩২৯ পৃ. 1
১১. ইবনু আসাকির - ৩য় খণ্ড, ১৩৯ পৃ.।
১২. আল জারহু ওয়াতা'দীল – ১ম খণ্ড, ২৮৬ পৃ.


Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.