হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী (রা) এর জীবনী
“সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী এমন একজন ব্যক্তি, যিনি দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাত ক্রয় করে নিয়েছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন”
[ঐতিহাসিকদের মন্তব্য]
হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যাঁরা কোরাইশ নেতাদের আহ্বানে ‘তানঈম' এলাকার দিকে বের হয়ে পড়েছে। যাতেকরে তারা খুবাইব বিন আদী -এর হত্যার দৃশ্য উপভোগ করতে পারে। যাঁকে তারা বিশ্বাসঘাতকতার পথ অবলম্বন করে বন্দি করেছিল ।
হযরত সাঈদ মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে তাঁর পূর্ণ যৌবন ও প্রস্ফুটিত তারুণ্য কাটিয়েছিলেন। এমনকি তিনি কোরাইশদের নেতা আবু সুফিয়ান, সফওয়ান বিন উমাইয়া ও অন্যান্য নেতাদের সমকক্ষ হয়ে গেলেন, যারা নেতৃত্বের শীর্ষে অবস্থান করত ।
আর এ কারণেই হযরত সাঈদের কোরাইশী বন্দিকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসার দৃশ্য দেখার সুযোগ হয়ে উঠল। তখন সকল মহিলা, শিশু ও যুবক ওই বন্দির মৃত্যুর দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় ছিল। যাতেকরে এই হত্যার দ্বারা তারা মুহাম্মদ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারে এবং বদর যুদ্ধে তাদের নিহত নেতাদের বদলা গ্রহণ করতে পারে।
যখন মানুষের এই বিশাল দল একত্রিত হয়ে বন্দি হযরত খুবাইবকে হত্যা করার জন্যে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে তখন হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী সেখানে পা লম্বা করে ও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে হযরত খুবাইব -এর হত্যার স্থানে অবস্থান নিলেন। ঠিক সেই সময়ে হযরত খুবাইব মা-কে কাঠের শূলিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এমন সময় তিনি মহিলা ও শিশুদের প্রচণ্ড শোরগোলের মাঝে প্রশান্ত ও দীপ্ত কণ্ঠের একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন।
আর সেই আওয়াজটি ছিল হযরত খুবাইব -এর পবিত্র মুখ থেকে বেরকৃত
আওয়াজ ।
তিনি বললেন: “তোমাদের যদি ইচ্ছে হয় হত্যা করার আগে আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দিবে, তাহলে দাও।”
হযরত সাঈদ বিন আমের তাঁর দিকে লক্ষ্য করলেন, তিনি দেখলেন হযরত খুবাইব কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ সম্পূর্ণ করেন । আহা! কতই না সুন্দর ছিল ওই নামাজ আর কতই না পরিপূর্ণ ছিল।
এরপর হযরত সাঈদ তাঁকে দেখলেন তিনি মক্কার নেতাদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন- “আল্লাহর শপথ করে বলি, যদি তোমরা এই ধারণা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে নামাজ দীর্ঘ করছি তাহলে আমি আরো দীর্ঘ করে নামাজ আদায় করতাম।”
তারপর সাঈদ নিজ চোখে দেখলেন কিভাবে তার জাতি হযরত খুবাইবকে জীবিত অবস্থায় একের পর এক অঙ্গ কেটে কেটে বিচ্ছিন্ন করছিল। তারা তাঁর অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো একের পর এক কাটছিল আর বলছিল-
“তুমি কি এটি পছন্দ কর তোমার পরিবর্তে মুহাম্মদকে হত্যা করা হবে আর তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে।”
হযরত খুবাইবের শরীর থেকে তখন রক্ত অনবরত ঝরছিল সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি বললেন:
“আল্লাহর শপথ করে বলি, আমি নিরাপদে আমার পরিবার ও সন্তানদের কাছে ফিরে যাব আর মুহাম্মদ -কে একটি কাঁটা বিধতে হবে তাও আমি পছন্দ করি না.......
মানুষ তখন তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে জোরে জোরে বলতে লাগল:
তাকে হত্যা কর.........
তাকে হত্যা কর..........
তারপর সাঈদ বিন আমের দেখলেন, শূলিবিদ্ধ খুবাইব চক্ষু আকাশের দিকে তুলে
বলতে লাগলেন:
“হে আল্লাহ! তুমি এদের সংখ্যা গুণে রাখ এবং এদেরকে হত্যা করে ধ্বংস করে দাও আর এদের কাউকে তুমি ছেড়ে দিও না ।”
এরপর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাঁকে মতো বেশি তরবারি ও বর্শা দ্বারা আঘাত করা হয় যা কেউ গণনা করতে সক্ষম হয়নি।
তারপর কোরাইশরা মক্কায় ফিরে আসে। এরপর জীবনযাত্রার বিভিন্ন ঘটনা ও দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা খুবাইবকে ভুলে গেল এবং ভুলে গেল তাঁকে হত্যা করার সেই বিস্ময়কর দৃশ্যকে, কিন্তু টগবগে যুবক হযরত সাঈদ বিন আমের তা ভুলতে পারেননি। কোনো এক মুহূর্তের জন্যেও খুবাইবের সেই ঘটনা তাঁর চোখ থেকে অদৃশ্য হয়নি।
তিনি ঘুমের মাঝে তা স্বপ্নে দেখতেন এমনকি জাগ্রত অবস্থায়ও ওই দৃশ্যগুলো তাঁর সামনে ভাসতো। হযরত খুবাইবের কাঠের শূলির সামনে নির্বিঘ্নে দুই রাকাত নামাজ আদায় করার সেই দৃশ্য বার বার তাঁর সামনে ভেসে উঠত। হযরত খুবাইবের কুরাইশদের বিরুদ্ধে যে বদদোয়া করেছেন সেই প্রতিধ্বনিগুলো তাঁর কানে বার বার বেজে উঠত। আর এই কারণে তিনি সর্বদা ভয়ে থাকতেন না জানি আকাশ থেকে কোনো বজ্র এসে তাঁর ওপর পতিত হয়। আবার না জানি আল্লাহর কোনো গজব এসে তাঁকে ধ্বংস করে দেয়। তথাপি হযরত খুবাইব, সাঈদ বিন আমেরকে এমন কিছু বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা তিনি আগে জানতেন না ।
তিনি তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন- সত্যিকারের জীবন হচ্ছে ধার্মিকতার জীবন ও মৃত্যু পর্যন্ত ওই ধার্মিকতার পথে জিহাদ করার জীবন । তিনি তাঁকে আরো শিক্ষা দিয়েছেন- সুদৃঢ় ঈমান আশ্চর্যজনক কাজ করে এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে। তিনি তাঁকে আরেকটি বিষয় বললেন: যে লোকটিকে সাহাবিগণ ভালোবাসেন তিনি আসমান থেকে প্রেরিত নবী ।
রাসূল -এর খলীফা আবু বকর উমা ও হযরত উমর তাঁর তাকওয়া ও সত্যবাদিতা সম্পর্কে জানতেন এমনকি তাঁরা তাঁর উপদেশ শুনতেন এবং বিশেষ গুরুত্বের সাথে তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন । হযরত উমর -এর খেলাফতের শুরুতে তার নিকটে প্রবেশ করে বললেন:
“হে উমর! আমি তোমাকে মানুষের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। আর আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নে তুমি মানুষকে ভয় করবে না। তুমি তোমার কথার সাথে কাজের অমিল করবে না, কেননা উত্তম কথা হচ্ছে- যে কথা বাস্তবায়ন করা হয় ।
“হে উমর! তুমি তোমার চেহারা, কাছের ও দূরের ওই সকল মুসলমানদের দিকে ফিরাও যাদের জন্যে আল্লাহ তোমাকে নিয়োজিত করেছেন। তুমি নিজের জন্যে ও নিজের পরিবারের জন্যে যা পছন্দ কর তা তাদের জন্যেও পছন্দ করবে আর যা অপছন্দ করবে তা তাদের জন্যেও অপছন্দ করবে। সত্যের পথে অবিচল থাকতে সকল প্রকার কষ্টকে স্বাচ্ছন্দ্যে বরণ করে নিবে। আর আল্লাহর হুকুম বাস্ত বায়নে কারো নিন্দার ভয় করবে না।”
তিনি বললেন: হে সাঈদ! আমি আপনাকে হেমস্বাসীদের আমীর হিসেবে নিয়োগ দিলাম ।
হযরত সাঈদ শুনিয়া বললেন: হে উমর! আমি তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি আমাকে পরীক্ষায় ফেলবে না।
তার এই কথায় হযরত উমর খুব রাগান্বিত হয়ে বললেন : কি আশ্চর্য...........! তোমরা আমার ঘাড়ে খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ! আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে ছেড়ে দিব না। এরপর তিনি তাঁকে হেমস্ শহরের গভর্নর হিসেবে নিয়োজিত করলেন। হযরত উমর বললেন: আমি কি আপনার জন্য বেতন-ভাতা নির্ধারিত করে
দিব না?হযরত সাঈদ বিন আমের সাহাবীদের জীবন চিত্র বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! বেতন ভাতা দিয়ে আমি কি করব? কেননা বায়তুলমালের বেতন-ভাতা আমার প্রয়োজনের থেকেও বেশি। তারপর তিনি হেমসে চলে গেলেন ।
কিছুদিন পার না হতেই আমীরুল মুমিনীনের বিশ্বস্ত হেমসের কিছু লোক তাঁর নিকটে আগমন করে । হযরত উমর তাদেরকে বললেন: তোমরা তোমাদের গরিব লোকদের নামের তালিকা দাও যাতেকরে আমি তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে দিতে পারি । তারা তাঁর হাতে গরিব লোকদের একটি তালিকা দিল, সেখানে অনেক ব্যক্তির নাম ছিল তার মধ্যে হযরত সাঈদ বিন আমেরের নামও ছিল ।
তিনি বললেন: ; বরং এর থেকেও ভয়ানক ।
তাঁর স্ত্রী বললেন: এর থেকে ভয়ানক কি ঘটেছে?
তিনি বললেন: আমার আখেরাত নষ্ট করার জন্যে দুনিয়া আমার নিকটে চলে এসেছে। ফিতনা আমার ঘরে এসে উপস্থিত হয়েছে। তাঁর স্ত্রী বললেন: আপনি তা থেকে মুক্ত হোন ।
অথচ তাঁর স্ত্রী তখনো দিনার সম্পর্কে কিছুই জানেননি । তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে এতে সাহায্য করবে? তাঁর স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ । এরপর তিনি থলেটি নিয়ে গরিব মুসলমানদের মাঝে সবগুলো দিনার বিলিয়ে দিলেন। নিজের জন্যে একটি দিনারও রাখলেন না ।
হযরত উমর বা শহরে পা রাখার পর শহরের অধিবাসীরা তাঁকে সালাম ও স্বাগতম জানাতে ছুটে আসল ৷
আমি বললাম: হে সাঈদ! এই অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি?
হযরত সাঈদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা বলতে অপছন্দ করি, কিন্তু আমি এখন বলতে বাধ্য, তা হচ্ছে আমার কোনো খাদেম নেই আর এই কারণেই আমি সকালে আমার পরিবারের জন্যে গম পিসে ময়দা বানিয়ে দিই। তারপর তা সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর তা দ্বারা আমার পরিবারের জন্য রুটি বানাই। রুটি বানানো শেষ করে আমি অযু করি এবং মানুষের নিকটে বের হয়ে আসি। হযরত উমর বললেন: তারপর আমি তাদেরকে বললাম: তার ব্যাপারে তোমাদের আর কি অভিযোগ আছে? তারা বলল: তিনি রাতে কারো ডাকে সাড়া দেন না । আমি বললাম: হে সাঈদ! এই অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি? হযরত সাঈদ বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি এই বিষয়টি প্রকাশ করা অপছন্দ করছি......... আর তা হচ্ছে আমি দিনে জনকল্যাণকর কাজের জন্যে নির্ধারণ করেছি আর রাত আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার জন্যে নির্ধারণ করেছি।
আমি বললাম: হে সাঈদ! তুমি এমন কর কেন? হযরত সাঈদ মনিরা বললেন: আমি খুবাইব বিন আদীকে হত্যা করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি মুশরিক ছিলাম। আমি কোরাইশদেরকে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করতে দেখেছি। তখন তারা তাকে বলল: তোমার পরিবর্তে মুহাম্মদকে হত্যা করা হবে আর তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে, তুমি কি তা পছন্দ কর।
হযরত খুবাইব তখন বললেন: আল্লাহর শপথ করে বলি, আমি নিরাপদে আমার পরিবার ও সন্তানদের কাছে ফিরে যাব আর মুহাম্মদ -কে একটি কাঁটার আঘাত সইতে হবে তাও আমি পছন্দ করি না । আল্লাহর শপথ! যখনি আমার এই ঘটনা মনে পড়ে আমি কেন তাঁকে সাহায্য করলাম না তখনি আমার মনে হয় আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না, আর এই চিন্তা আমাকে অন্যমনস্ক করে ফেলে। হযরত সাঈদ বিন আমের রস থেকে অভিযোগের এই জবাবগুলো শুনে হযরত উমর কাজ বললেন: সকল প্রশংসা ওই আল্লাহ তাআলার যিনি সাঈদের ব্যাপারে আমার ধারণাকে সঠিক করেছেন। তারপর হযরত উমর গুল তাঁর জন্যে এক হাজার দিনার পাঠালেন যাতেকরে তিনি তাঁর প্রয়োজন মিটাতে পারেন । যখন তাঁর স্ত্রী তা দেখলেন তিনি বললেন: সকল প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্যে যিনি এই দিনারগুলো দ্বারা আমাদেরকে আপনার পরিশ্রম করা উপার্জন খাওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্যে এর দ্বারা খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করুন এবং একজন খাদেম নিয়োজিত করুন। হযরত সাঈদ তাঁর স্ত্রীকে বললেন: তোমার জন্যে এমন কিছু নেই যা এর থেকে উত্তম হবে?!!! তিনি বললেন: তা কি? হযরত সাঈদ বিমা বললেন: যিনি এই সম্পদ আমাদেরকে দান করেছেন আমরা তাঁর কাছে তা ফেরত দিব, কেননা তাঁর নিকটে যা আছে এর জন্যে আমরা আরো বেশি মুখাপেক্ষী ।
তিনি বললেন: তা কি?
হযরত সাঈদ মুনি বললেন: আমরা উত্তম প্রতিদানের জন্যে আল্লাহর নিকটে তা গচ্ছিত রাখব ।
তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাই করুন এবং আপনি উত্তম প্রতিদান প্রাপ্ত হউন।
তিনি বসার থেকে উঠার আগেই তা কয়েক ভাগে ভাগ করে তাঁর পরিবারের একজনকে বললেন: তুমি এগুলো নিয়ে অমুক বিধবাকে দিয়ে আস এবং এগুলো নিয়ে অমুক ব্যক্তির ইয়াতিম সন্তানদেরকে দিয়ে আস এবং এগুলো নিয়ে অমুক মিসকিনকে দিয়ে আস এবং এগুলো নিয়ে অমুক গরিবকে দিয়ে আস।
তথ্য সূত্র
১.তাহযীবুত্ তাহযীব - ৪র্থ খণ্ড, ৫১ পৃ. ।
২. ইবনু আসাকির - ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৪৫-১৪৭ পৃ.
৩. সিফাতুস্ সফওয়া - ১ম খন্ড, ২৭৩ পৃ.
৪. হুলিয়াতুল আওলীয়া - ১ম খন্ড, ২৪৪ পৃ.
৫. তারীখুল ইসলাম - ২য় খণ্ড, ৩৫ পৃ.।
৬. আল ইসাবাহ্ - ৩য় খণ্ড, ৩২৬ পৃ.।
৭. নসবু কোরাইশ – ৩৯৯ পৃ. ৷
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন