[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী (রা) এর জীবনী ।। Hazrat Sayed Bin Amer Al Jumahi (Ra.) er Jiboni

 হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী (রা) এর জীবনী

“সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী এমন একজন ব্যক্তি, যিনি দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাত ক্রয় করে নিয়েছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন”
[ঐতিহাসিকদের মন্তব্য]
হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যাঁরা কোরাইশ নেতাদের আহ্বানে ‘তানঈম' এলাকার দিকে বের হয়ে পড়েছে। যাতেকরে তারা খুবাইব বিন আদী -এর হত্যার দৃশ্য উপভোগ করতে পারে। যাঁকে তারা বিশ্বাসঘাতকতার পথ অবলম্বন করে বন্দি করেছিল ।
হযরত সাঈদ মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে তাঁর পূর্ণ যৌবন ও প্রস্ফুটিত তারুণ্য কাটিয়েছিলেন। এমনকি তিনি কোরাইশদের নেতা আবু সুফিয়ান, সফওয়ান বিন উমাইয়া ও অন্যান্য নেতাদের সমকক্ষ হয়ে গেলেন, যারা নেতৃত্বের শীর্ষে অবস্থান করত ।
আর এ কারণেই হযরত সাঈদের কোরাইশী বন্দিকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসার দৃশ্য দেখার সুযোগ হয়ে উঠল। তখন সকল মহিলা, শিশু ও যুবক ওই বন্দির মৃত্যুর দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় ছিল। যাতেকরে এই হত্যার দ্বারা তারা মুহাম্মদ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারে এবং বদর যুদ্ধে তাদের নিহত নেতাদের বদলা গ্রহণ করতে পারে।

যখন মানুষের এই বিশাল দল একত্রিত হয়ে বন্দি হযরত খুবাইবকে হত্যা করার জন্যে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে তখন হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুমাহী সেখানে পা লম্বা করে ও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে হযরত খুবাইব -এর হত্যার স্থানে অবস্থান নিলেন। ঠিক সেই সময়ে হযরত খুবাইব মা-কে কাঠের শূলিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এমন সময় তিনি মহিলা ও শিশুদের প্রচণ্ড শোরগোলের মাঝে প্রশান্ত ও দীপ্ত কণ্ঠের একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন।
আর সেই আওয়াজটি ছিল হযরত খুবাইব -এর পবিত্র মুখ থেকে বেরকৃত
আওয়াজ ।

তিনি বললেন: “তোমাদের যদি ইচ্ছে হয় হত্যা করার আগে আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দিবে, তাহলে দাও।”
হযরত সাঈদ বিন আমের তাঁর দিকে লক্ষ্য করলেন, তিনি দেখলেন হযরত খুবাইব কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ সম্পূর্ণ করেন । আহা! কতই না সুন্দর ছিল ওই নামাজ আর কতই না পরিপূর্ণ ছিল।
এরপর হযরত সাঈদ তাঁকে দেখলেন তিনি মক্কার নেতাদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন- “আল্লাহর শপথ করে বলি, যদি তোমরা এই ধারণা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে নামাজ দীর্ঘ করছি তাহলে আমি আরো দীর্ঘ করে নামাজ আদায় করতাম।”
তারপর সাঈদ নিজ চোখে দেখলেন কিভাবে তার জাতি হযরত খুবাইবকে জীবিত অবস্থায় একের পর এক অঙ্গ কেটে কেটে বিচ্ছিন্ন করছিল। তারা তাঁর অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো একের পর এক কাটছিল আর বলছিল-
“তুমি কি এটি পছন্দ কর তোমার পরিবর্তে মুহাম্মদকে হত্যা করা হবে আর তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে।”
হযরত খুবাইবের শরীর থেকে তখন রক্ত অনবরত ঝরছিল সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি বললেন:
“আল্লাহর শপথ করে বলি, আমি নিরাপদে আমার পরিবার ও সন্তানদের কাছে ফিরে যাব আর মুহাম্মদ -কে একটি কাঁটা বিধতে হবে তাও আমি পছন্দ করি না.......

মানুষ তখন তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে জোরে জোরে বলতে লাগল:
তাকে হত্যা কর.........
তাকে হত্যা কর..........

তারপর সাঈদ বিন আমের দেখলেন, শূলিবিদ্ধ খুবাইব চক্ষু আকাশের দিকে তুলে
বলতে লাগলেন:
“হে আল্লাহ! তুমি এদের সংখ্যা গুণে রাখ এবং এদেরকে হত্যা করে ধ্বংস করে দাও আর এদের কাউকে তুমি ছেড়ে দিও না ।”
এরপর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাঁকে মতো বেশি তরবারি ও বর্শা দ্বারা আঘাত করা হয় যা কেউ গণনা করতে সক্ষম হয়নি।

তারপর কোরাইশরা মক্কায় ফিরে আসে। এরপর জীবনযাত্রার বিভিন্ন ঘটনা ও দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা খুবাইবকে ভুলে গেল এবং ভুলে গেল তাঁকে হত্যা করার সেই বিস্ময়কর দৃশ্যকে, কিন্তু টগবগে যুবক হযরত সাঈদ বিন আমের তা ভুলতে পারেননি। কোনো এক মুহূর্তের জন্যেও খুবাইবের সেই ঘটনা তাঁর চোখ থেকে অদৃশ্য হয়নি।
তিনি ঘুমের মাঝে তা স্বপ্নে দেখতেন এমনকি জাগ্রত অবস্থায়ও ওই দৃশ্যগুলো তাঁর সামনে ভাসতো। হযরত খুবাইবের কাঠের শূলির সামনে নির্বিঘ্নে দুই রাকাত নামাজ আদায় করার সেই দৃশ্য বার বার তাঁর সামনে ভেসে উঠত। হযরত খুবাইবের কুরাইশদের বিরুদ্ধে যে বদদোয়া করেছেন সেই প্রতিধ্বনিগুলো তাঁর কানে বার বার বেজে উঠত। আর এই কারণে তিনি সর্বদা ভয়ে থাকতেন না জানি আকাশ থেকে কোনো বজ্র এসে তাঁর ওপর পতিত হয়। আবার না জানি আল্লাহর কোনো গজব এসে তাঁকে ধ্বংস করে দেয়। তথাপি হযরত খুবাইব, সাঈদ বিন আমেরকে এমন কিছু বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা তিনি আগে জানতেন না ।

তিনি তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন- সত্যিকারের জীবন হচ্ছে ধার্মিকতার জীবন ও মৃত্যু পর্যন্ত ওই ধার্মিকতার পথে জিহাদ করার জীবন । তিনি তাঁকে আরো শিক্ষা দিয়েছেন- সুদৃঢ় ঈমান আশ্চর্যজনক কাজ করে এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে। তিনি তাঁকে আরেকটি বিষয় বললেন: যে লোকটিকে সাহাবিগণ ভালোবাসেন তিনি আসমান থেকে প্রেরিত নবী ।

এই সকল বিষয় দ্বারা আল্লাহ তাআলা হযরত সাঈদ বিন আমের রাশিমালার-এর বক্ষকে ইসলামের জন্যে প্রশস্ত করে দিলেন। তিনি এক জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন- তিনি কুরাইশদের এই সকল পাপ থেকে আজ থেকে মুক্ত, সকল মূর্তিপূজা থেকে মুক্ত এবং তিনি আজ থেকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় প্রবেশ করেছেন। এরপর হযরত সাঈদ বিন আমের মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় এসে তিনি রাসূল -এর সাহচর্যে থাকতে শুরু করেন। খায়বারসহ পরবর্তী সকল যুদ্ধে তিনি রাসূল সালামাই-এর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন । যখন নবী করীম তাঁর প্রতিপালকের নিকটে চলে গেছেন তখন তিনি খলিফা হযরত আবু বকর ও হযরত উমর -এর খিলাফতের সময়ে নাঙ্গা তলোয়ারের মতো ইসলামের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি ওই সকল মুমিনদের মতো ভিন্নভাবে জীবন কাটিয়েছিলেন যাঁরা দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাত ক্রয় করেছিলেন এবং মনের সকল চাহিদা ও শরীরের সকল কামনা-বাসনাকে বিসর্জন দিয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর প্রতিদানকে পছন্দ করেছিলেন।
রাসূল -এর খলীফা আবু বকর উমা ও হযরত উমর তাঁর তাকওয়া ও সত্যবাদিতা সম্পর্কে জানতেন এমনকি তাঁরা তাঁর উপদেশ শুনতেন এবং বিশেষ গুরুত্বের সাথে তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন । হযরত উমর -এর খেলাফতের শুরুতে তার নিকটে প্রবেশ করে বললেন:
“হে উমর! আমি তোমাকে মানুষের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। আর আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নে তুমি মানুষকে ভয় করবে না। তুমি তোমার কথার সাথে কাজের অমিল করবে না, কেননা উত্তম কথা হচ্ছে- যে কথা বাস্তবায়ন করা হয় ।
“হে উমর! তুমি তোমার চেহারা, কাছের ও দূরের ওই সকল মুসলমানদের দিকে ফিরাও যাদের জন্যে আল্লাহ তোমাকে নিয়োজিত করেছেন। তুমি নিজের জন্যে ও নিজের পরিবারের জন্যে যা পছন্দ কর তা তাদের জন্যেও পছন্দ করবে আর যা অপছন্দ করবে তা তাদের জন্যেও অপছন্দ করবে। সত্যের পথে অবিচল থাকতে সকল প্রকার কষ্টকে স্বাচ্ছন্দ্যে বরণ করে নিবে। আর আল্লাহর হুকুম বাস্ত বায়নে কারো নিন্দার ভয় করবে না।”

হযরত উমর বললেন: হে সাঈদ! কে আছে এমন যে এর ওপর আমল করতে সক্ষম হবে? হযরত সাঈদ বললেন: তোমার মতো লোক এর ওপর আমল করতে সক্ষম হবে যাকে আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ পানাহার-এর উম্মতের অভিভাবক বানিয়েছেন, কেননা তোমার ও আল্লাহর মাঝে আর কেউ নেই । তখন হযরত উমর হযরত সাঈদ-কে তার সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান করলেন।

তিনি বললেন: হে সাঈদ! আমি আপনাকে হেমস্বাসীদের আমীর হিসেবে নিয়োগ দিলাম ।
হযরত সাঈদ শুনিয়া বললেন: হে উমর! আমি তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি আমাকে পরীক্ষায় ফেলবে না।
তার এই কথায় হযরত উমর খুব রাগান্বিত হয়ে বললেন : কি আশ্চর্য...........! তোমরা আমার ঘাড়ে খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ! আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে ছেড়ে দিব না। এরপর তিনি তাঁকে হেমস্ শহরের গভর্নর হিসেবে নিয়োজিত করলেন। হযরত উমর বললেন: আমি কি আপনার জন্য বেতন-ভাতা নির্ধারিত করে
দিব না?হযরত সাঈদ বিন আমের সাহাবীদের জীবন চিত্র বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! বেতন ভাতা দিয়ে আমি কি করব? কেননা বায়তুলমালের বেতন-ভাতা আমার প্রয়োজনের থেকেও বেশি। তারপর তিনি হেমসে চলে গেলেন ।

কিছুদিন পার না হতেই আমীরুল মুমিনীনের বিশ্বস্ত হেমসের কিছু লোক তাঁর নিকটে আগমন করে । হযরত উমর তাদেরকে বললেন: তোমরা তোমাদের গরিব লোকদের নামের তালিকা দাও যাতেকরে আমি তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে দিতে পারি । তারা তাঁর হাতে গরিব লোকদের একটি তালিকা দিল, সেখানে অনেক ব্যক্তির নাম ছিল তার মধ্যে হযরত সাঈদ বিন আমেরের নামও ছিল ।

হযরত উমর বললেন: সাঈদ বিন আমের কে? তারা বলল: আমাদের গভর্নর । হযরত উমর বা আশ্চর্য হয়ে বললেন: তোমাদের গভর্নর গরিব! তারা বলল: হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! এমন অনেক দিন অতিবাহিত হয় তাঁর চুলায় আগুন জ্বলে না। এ কথা শুনার পর হযরত উমর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তিনি এতো বেশি কাঁদলেন যে, তাঁর দাড়ি মোবারক চোখের পানিতে ভিজে গেল। তিনি তাঁর নিকটে এক হাজার দিনার পাঠানোর ইচ্ছা করেন। ওই দিনারগুলো একটি থলেতে দিয়ে বললেন: তোমরা তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে আর বলবে: আপনার প্রয়োজন মিটানোর জন্যে এগুলো আমীরুল মুমিনীন আপনাকে দিয়েছেন । হযরত ওমরের পাঠানো প্রতিনিধি দল দিনারের থলে নিয়ে তাঁর নিকটে আগমন করল। হযরত সাঈদ এর দিনারের থলেটি দেখার সাথে সাথে ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন বলে তা দূরে নিক্ষেপ করলেন। মনে হয় যেন তাঁর ওপর বিশাল কোনো মসিবত নেমে এসেছে অথবা মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তাঁর স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে বললেন: হে সাঈদ! আপনার কি হয়েছে?....... নাকি আমীরুল মুমিনীন ইন্তেকাল করেছেন?
তিনি বললেন: ; বরং এর থেকেও ভয়ানক ।

তাঁর স্ত্রী বললেন: মুসলমানরা কি কোথাও আক্রান্ত হয়েছে? তিনি বললেন: ; বরং এর থেকেও ভয়ানক ।
তাঁর স্ত্রী বললেন: এর থেকে ভয়ানক কি ঘটেছে?

তিনি বললেন: আমার আখেরাত নষ্ট করার জন্যে দুনিয়া আমার নিকটে চলে এসেছে। ফিতনা আমার ঘরে এসে উপস্থিত হয়েছে। তাঁর স্ত্রী বললেন: আপনি তা থেকে মুক্ত হোন ।
অথচ তাঁর স্ত্রী তখনো দিনার সম্পর্কে কিছুই জানেননি । তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে এতে সাহায্য করবে? তাঁর স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ । এরপর তিনি থলেটি নিয়ে গরিব মুসলমানদের মাঝে সবগুলো দিনার বিলিয়ে দিলেন। নিজের জন্যে একটি দিনারও রাখলেন না ।

এরপর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর হেমসের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হযরত উমর একদিন সিরিয়া যাওয়ার পথে হেমস্ শহরে যাত্রাবিরতি করেন। এই শহরকে ‘কুহাইফা’' বা ছোট কুফা নামেও ডাকা হতো । এটি কুফা শব্দের তাসগীর এবং হেমসের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল । কেননা এই শহরের অধিবাসীরা তাদের গভর্নর ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অধিক অভিযোগ করত যেমনিভাবে কুফাবাসীরা করত ।
হযরত উমর বা শহরে পা রাখার পর শহরের অধিবাসীরা তাঁকে সালাম ও স্বাগতম জানাতে ছুটে আসল ৷

তিনি তাদেরকে বললেন: তোমাদের গভর্নর কেমন ? তারা হযরত সাঈদের ব্যাপারে তাঁর নিকটে চারটি অভিযোগ করে। এইগুলো একটি অন্যটির চেয়েও মারাত্মক ছিল। হযরত উমর বলেন : এরপর আমি সাঈদকে ও শহরের অধিবাসীদেরকে একত্রিত করলাম। আর আল্লাহর নিকটে দোয়া করলাম আল্লাহ যেন সাঈদের ব্যাপারে আমার সু- ধারণাকে নষ্ট না করে দেয়। কেননা তাঁর ব্যাপারে আমি অনেক ভালো ধারণা করতাম। যখন তাদের গভর্নর ও তারা আমার নিকটে একত্রিত হলো তখন আমি তাদেরকে বললামঃ তোমাদের গভর্নরের ব্যাপারে তোমাদের কি কি অভিযোগ ? তারা বলল: সূর্য পূর্বাকাশ ছেড়ে উপরে না উঠা পর্যন্ত তিনি আমাদের নিকটে আসেন না। অর্থাৎ প্রত্যহ দেরি করে দরবারে উপস্থিত হন।
আমি বললাম: হে সাঈদ! এই অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি?

হযরত সাঈদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা বলতে অপছন্দ করি, কিন্তু আমি এখন বলতে বাধ্য, তা হচ্ছে আমার কোনো খাদেম নেই আর এই কারণেই আমি সকালে আমার পরিবারের জন্যে গম পিসে ময়দা বানিয়ে দিই। তারপর তা সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর তা দ্বারা আমার পরিবারের জন্য রুটি বানাই। রুটি বানানো শেষ করে আমি অযু করি এবং মানুষের নিকটে বের হয়ে আসি। হযরত উমর বললেন: তারপর আমি তাদেরকে বললাম: তার ব্যাপারে তোমাদের আর কি অভিযোগ আছে? তারা বলল: তিনি রাতে কারো ডাকে সাড়া দেন না । আমি বললাম: হে সাঈদ! এই অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি? হযরত সাঈদ বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি এই বিষয়টি প্রকাশ করা অপছন্দ করছি......... আর তা হচ্ছে আমি দিনে জনকল্যাণকর কাজের জন্যে নির্ধারণ করেছি আর রাত আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার জন্যে নির্ধারণ করেছি।

আমি বললাম: তার ব্যাপারে তোমাদের আর কি অভিযোগ আছে? তারা বলল: তিনি মাসে এক দিন আমাদের নিকটে আসেন না । আমি বললাম: হে সাঈদ! এই অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি? হযরত সাঈদ বললেন: আমার কোনো খাদেম নেই আর আমার পরিহিত এ জামা ব্যতীত আর কোনো জামাও নেই। এই কারণে আমি মাসে একবার জামাটি ধৌত করি। এরপর জামাটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করি। দিনের শেষে জামাটি শুকানোর পর আমি তাদের নিকটে আসি। আমি বললাম: তার ব্যাপারে তোমাদের আর কি অভিযোগ আছে? তারা বলল: অনেক সময় তিনি সভায় থেকেও অন্যমনস্ক হয়ে যান ।
আমি বললাম: হে সাঈদ! তুমি এমন কর কেন? হযরত সাঈদ মনিরা বললেন: আমি খুবাইব বিন আদীকে হত্যা করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি মুশরিক ছিলাম। আমি কোরাইশদেরকে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করতে দেখেছি। তখন তারা তাকে বলল: তোমার পরিবর্তে মুহাম্মদকে হত্যা করা হবে আর তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে, তুমি কি তা পছন্দ কর।

হযরত খুবাইব তখন বললেন: আল্লাহর শপথ করে বলি, আমি নিরাপদে আমার পরিবার ও সন্তানদের কাছে ফিরে যাব আর মুহাম্মদ -কে একটি কাঁটার আঘাত সইতে হবে তাও আমি পছন্দ করি না । আল্লাহর শপথ! যখনি আমার এই ঘটনা মনে পড়ে আমি কেন তাঁকে সাহায্য করলাম না তখনি আমার মনে হয় আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না, আর এই চিন্তা আমাকে অন্যমনস্ক করে ফেলে। হযরত সাঈদ বিন আমের রস থেকে অভিযোগের এই জবাবগুলো শুনে হযরত উমর কাজ বললেন: সকল প্রশংসা ওই আল্লাহ তাআলার যিনি সাঈদের ব্যাপারে আমার ধারণাকে সঠিক করেছেন। তারপর হযরত উমর গুল তাঁর জন্যে এক হাজার দিনার পাঠালেন যাতেকরে তিনি তাঁর প্রয়োজন মিটাতে পারেন । যখন তাঁর স্ত্রী তা দেখলেন তিনি বললেন: সকল প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্যে যিনি এই দিনারগুলো দ্বারা আমাদেরকে আপনার পরিশ্রম করা উপার্জন খাওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্যে এর দ্বারা খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করুন এবং একজন খাদেম নিয়োজিত করুন। হযরত সাঈদ তাঁর স্ত্রীকে বললেন: তোমার জন্যে এমন কিছু নেই যা এর থেকে উত্তম হবে?!!! তিনি বললেন: তা কি? হযরত সাঈদ বিমা বললেন: যিনি এই সম্পদ আমাদেরকে দান করেছেন আমরা তাঁর কাছে তা ফেরত দিব, কেননা তাঁর নিকটে যা আছে এর জন্যে আমরা আরো বেশি মুখাপেক্ষী ।

তিনি বললেন: তা কি?
হযরত সাঈদ মুনি বললেন: আমরা উত্তম প্রতিদানের জন্যে আল্লাহর নিকটে তা গচ্ছিত রাখব ।
তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাই করুন এবং আপনি উত্তম প্রতিদান প্রাপ্ত হউন।
তিনি বসার থেকে উঠার আগেই তা কয়েক ভাগে ভাগ করে তাঁর পরিবারের একজনকে বললেন: তুমি এগুলো নিয়ে অমুক বিধবাকে দিয়ে আস এবং এগুলো নিয়ে অমুক ব্যক্তির ইয়াতিম সন্তানদেরকে দিয়ে আস এবং এগুলো নিয়ে অমুক মিসকিনকে দিয়ে আস এবং এগুলো নিয়ে অমুক গরিবকে দিয়ে আস।

আল্লাহ হযরত সাঈদ বিন আমের আল জুহানীর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি ছিলেন ওই লোকদের কাতারে যাঁরা দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাত ক্রয় করেছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে জীবনের সব কিছুর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন ।

তথ্য সূত্র
১.তাহযীবুত্‌ তাহযীব - ৪র্থ খণ্ড, ৫১ পৃ. ।
২. ইবনু আসাকির - ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৪৫-১৪৭ পৃ.
৩. সিফাতুস্ সফওয়া - ১ম খন্ড, ২৭৩ পৃ.
৪. হুলিয়াতুল আওলীয়া - ১ম খন্ড, ২৪৪ পৃ.
৫. তারীখুল ইসলাম - ২য় খণ্ড, ৩৫ পৃ.।
৬. আল ইসাবাহ্ - ৩য় খণ্ড, ৩২৬ পৃ.।
৭. নসবু কোরাইশ – ৩৯৯ পৃ. ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.