[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

হযরত আদী বিন হাতেম আত্তায়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবন ।। Sahabi Adi Bin Hatem Attaeti er Jiboni

সাহাবী হযরত আদী বিন হাতেম আত্তায়ী 
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবনী


“তারা যখন কুফরী করেছে তুমি তখন ঈমান এনেছ, তারা যখন অস্বীকার করেছে তুমি তখন স্বীকার করেছ, তারা যখন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তুমি তখন কথা পূর্ণ করেছ, তারা যখন পিছু হটেছে তুমি তখন সামনে এগিয়ে গিয়েছ।” [হযরত উমর] 

নবম হিজরীতে আরবের সকল নেতা ইসলাম গ্রহণের দিকে এগিয়ে আসল যদিও তারা এতদিন রাসূল -এর বিরোধিতা করেছিল। তারা রাসূল এর বশ্যতা শিকার করে নেয় যদিও তারা এতদিন রাসূল -এর অবাধ্য হয়েছিল। আমরা এখন আপনাদের নিকটে তেমনি একজন নেতার জীবনকাহিনী বর্ণনা করব। যিনি প্রথমে রাসূল -এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু পরে রাসূল -এর নিকটে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি আর কেউ নয়, তিনি হচ্ছেন হযরত আদী বিন হাতেম আত্তায়ী । তাঁর পিতা এতই দানশীল ছিলেন যে তাঁকে মানুষ দানশীলতার উদাহরণ হিসেবে পেশ করত । তাঁর নামটি কি আপনি জানেন? অবশ্যই জানেন। কেননা ছোটবেলা থেকে আমরা বড়দের মুখে দানশীলতার উদাহরণ হিসেবে যে নামটি শুনতাম। “হাতেম তায়ী” । আদী বিন হাতেম যুক্তি-এর পিতা ছিলেন তায়ী গোত্রের রাজা। আর এই সূত্র ধরে তিনি তাঁর পিতার পরে সেই গোত্রের রাজা হলেন । রাসূল যখন ইসলামের দিকে বিভিন্ন অঞ্চলের রাজাদেরকে আহ্বান করলেন আদী বিন হাতেম আলী তখন রাসূল -এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। তিনি ধারণা করলেন রাসূল -এর ডাকে সাড়া দিলে তাঁর রাজত্ব চলে যাবে। তিনি রাজ্যহারা হয়ে যাবেন। আর এ সকল কারণে তিনি রাসূল কে না দেখেই তাঁর চরম বিরোধিতা শুরু করেন এবং তাঁকে তীব্র ঘৃণা করতে লাগলেন ।

তিনি দীর্ঘ বিশ বছর রাসূল সমাহার ও ইসলামের বিরোধিতা করেন, কিন্তু তিনি সারা জীবন ইসলামের বিরোধিতা করতে পারেননি। কেননা আল্লাহর ইচ্ছা তিনি তাঁকে ইসলামের বুঝ দান করবেন। আর তাই অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেদায়েতের বুঝ দান করেছেন । হযরত আদী বিন হাতেম -এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনীটি ভুলার মতো নয় । আর তাই আমরা তাঁর নিজের মুখে বর্ণিত সেই ঘটনাটি আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম । তিনি বলেন: আমি আরবদের মধ্যে রাসূল  -কে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতাম। রাসূল কে আমার থেকে বেশি আর কেউ ঘৃণা করত না । আমি একজন ভদ্র ব্যক্তি ছিলাম। আর ধর্মীয় দিক দিয়ে আমি খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী ছিলাম। যখন আমি রাসূল এর কথা জানতে পারি তখন থেকে আমি তাঁকে ঘৃণা করতে লাগলাম । অন্যদিকে রাসূল এর কাজের পরিধি বাড়তে লাগল, তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে লাগল এবং তাঁর সৈন্যবাহিনী আরবের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল । তখন একদিন আমি আমার গোলাম যে আমার উট চরাতো তাকে বললাম: তুমি আমার জন্য কিছু উট প্রস্তুত রেখ যা দিয়ে সহজে ভ্রমণ করা যাবে। যদি তুমি শুনতে পাও মুহাম্মদের কোনো বাহিনী এ এলাকায় আসছে তুমি সাথে সাথে আমাকে তা জানাবে।

একদিন সকালে গোলামটি আমার নিকটে এসে বলল: আপনি যদি কোনো কিছু করতে চান তাহলে এখনই করুন? আমি বললাম: কেন? সে বলল: আমি কিছুক্ষণ আগে একটি বাহিনী দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? তারা বলল: এরা হচ্ছে মুহাম্মদের বাহিনী । আমি তাকে বললাম: আমার বাহন প্রস্তুত কর। তারপর আমি আমার পরিবারের লোকদেরকে ডেকে আমাদের সফরের কথা বললাম। আমরা সিরিয়াতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হই। কেননা সেটা ছিল আমাদের ধর্মের মূল ভূমি। তাছাড়া সেখানে গেলে আমাদের স্বধর্মীয় ভাইদের সাথে মিলিত হতে পারব। আমার পরিবারের সকলের থেকে আমি বেশি তাড়াহুড়া করতে লাগলাম। যখন আমরা বিপজ্জনক এলাকা পার হলাম তখন আমি আমাদের পরিবারের সকল সদস্যের খোঁজ নিতে লাগলাম। খুঁজে দেখলাম আমি আমার বোনকে নজদ এলাকায় অন্যান্য লোকদের সাথে রেখে এসেছি। এখন যে আমি গিয়ে তাকে নিয়ে আসব সে রকম কোনো পথ ছিল না । এরপর আমরা যারা ছিলাম তারা সিরিয়াতে গিয়ে পৌঁছি এবং আমাদের স্বধর্মীয় ভাইদের সাথে অবস্থান করতে থাকি। আর অন্যদিকে আমি আমার বোনের ব্যাপারে যে ভয় করেছি তা ঘটে গেল। ওই দিকে আমার নিকটে খবর পৌঁছে মুহম্মদের বাহিনী আমাদের এলাকায় আক্রমণ করে আমার বোনসহ সবাইকে বন্দি করে নিয়ে গেছে।

বন্দিদের সাথে আমার বোনকেও রাখা হলো। রাসূল বন্দিদেরকে হেঁটে হেঁটে দেখতে ছিলেন। যখন তিনি আমার বোনের নিকটে আসলেন..... আমার বোন বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাবা মারা গেছে আর আমার প্রতিনিধি পালিয়ে গেছে; সুতরাং আপনি আমাকে নিরাপত্তা দিন আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করবেন । রাসূল বললেন: তোমার প্রতিনিধি কে? সে বলল: আদী বিন হাতেম আত্তায়ী । তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে পলায়নকারী । রাসূল তাকে ওই অবস্থায় রেখে চলে গেলেন ।

পরের দিন যখন রাসূল আবার আসলেন সে আবার একই কথা বলল এবং রাসূল পানাহার তাকে একই উত্তর দিলেন। পরের দিন রাসূল আবার আসলে সে নিরাশ হয়ে আর কিছু বলেনি। কিন্তু তার পিছনের একটি লোক তাকে ইশারা করে কিছু বলার জন্য তখন দাঁড়ালো এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাবা মারা গেছে আর আমার প্রতিনিধি পালিয়ে গেছে; সুতরাং আপনি আমাকে নিরাপত্তা দিন আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করবেন। রাসূল বললেন: আমি তা করেছি। সে বলল: আমি সিরিয়ায় আমার পরিবারের সাথে মিলিত হতে চাই । তিনি বললেন: কিন্তু এতে তুমি তাড়াহুড়া করবে না যতক্ষণ না কোনো বিশ্বস্ত লোক না পাওয়া যায়। যে তোমাকে সিরিয়াতে পৌঁছে দিবে। সুতরাং যখন তুমি কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি পাবে তখন আমাকে জানাবে । রাসূল সালাত যখন চলে গেলেন সে জিজ্ঞেস করল কোন ব্যক্তি তাকে কথা বলার জন্য ইশারা করেছে। জবাবে তারা বলল: আলী বিন আবী জ্বালিব। তারপর সে সেখানে অবস্থান করতে লাগল। অবশেষে তাকে নেওয়ার জন্য এক দল লোক আসল । সে রাসূল এর নিকটে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার গোত্রের একদল লোক আমাকে নেওয়ার জন্যে এসেছে। তারা অনেক বিশ্বস্ত এবং শক্তিশালীও যারা আমাকে সিরিয়াতে পৌছিয়ে দিতে পারবে। রাসূল তাকে উত্তম কাপড়ে সজ্জিত করে দিলেন, তার চলার জন্য তাকে একটি উট বাহন হিসেবে দিলেন এবং তার সফরের সব খরচ দিয়ে দিলেন। তারপর সে তাদের সাথে রওয়ানা হলো । আদী বিন হাতেম বললেন: আমার বোনের ব্যাপারে যে সকল সংবাদ শুনতে পেলাম সেই অনুযায়ী তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিন্তু মুহাম্মদ  তার প্রতি যে দয়া এবং সদ্ব্যবহারের যে কথাগুলো শুনেছি তা কোনো ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

আল্লাহর শপথ! আমি যখনই কোনো উটের মধ্যে পালকি দেখতাম আমি সেদিকে ছুটে যেতাম। তেমনি একটি কাফেলা আসতে দেখে আমি ছুটে গিয়ে বললাম: হাতেমের কন্যা? পালকির ভেতর থেকে সে বলল: আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী আর জালিম । তুমি তোমার স্ত্রী আর কিছু সন্তান নিয়ে চলে এসেছ আর বাকিদেরকে রেখে এসেছ। আমি বললাম: হে আমার বোন! তুমি আমার ব্যাপারে কোনো খারাপ কিছু বলবে না। আমি তাকে বিভিন্ন কথা দ্বারা সন্তুষ্ট করতে লাগলাম । সে আমার নিকটে তার সাথে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনার বিবরণ দিল। তার বলা ঘটনাগুলো আমার নিকটে আসা সংবাদের সাথে পুরোটাই মিলে গেছে । আমি তাকে বললাম: সেই (মুহাম্মদ) ব্যক্তিকে তোমার কেমন মনে হয়েছে? সে বলল: তুমি অবশ্যই তাড়াতাড়ি তাঁর সাথে দেখা করবে যদি তিনি নবী হয়ে থাকেন তাহলে তো তা তোমার জন্য কল্যাণ নিয়ে আসবে! আর যদি তিনি নবী না হয়ে রাজাও হয়ে থাকেন তাহলেও তুমি তাঁর কাছে লাঞ্ছিত হবে না । আদী বিন হাতেম বলেন: তারপর আমি আমার বাহনকে প্রস্তুত করে মুহাম্মদ এর কাছে রওয়ানা দিলাম। অবশেষে আমি রাসূল এর নিকটে এসে পৌঁছলাম। ইতোমধ্যে আমি শুনতে পেয়েছি রাসূল বলেছেন: আমি অবশ্যই আশা করি আল্লাহ তাআলা আমার হাতে আদী বিন হাতেমের হাত রাখবেন ।

তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। আমি তার নিকটে প্রবেশ করি এবং তাঁকে সালাম দিই। তিনি বললেন: লোকটি কে? আমি বললাম: আদী বিন হাতেম । তিনি আমার দিকে এগিয়ে আসলেন এবং আমার হাত ধরে তাঁর ঘরে নিয়ে গেলেন। আল্লাহর শপথ! তিনি যখন আমাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময় পথে এক দুর্বল মহিলার সাথে দেখা হয়। সেই মহিলার সাথে তার একটি ছোট বাচ্চাও ছিল। তিনি তার প্রয়োজনে তার সাথে কথা বলতে শুরু করেন। তার প্রয়োজন পুরো করা পর্যন্ত তিনি তাকে সময় দিলেন আর আমি তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম । এই দৃশ্য দেখে আমি মনে মনে বলতে লাগলাম- আল্লাহর শপথ! এই লোক কোনো রাজা হতে পারে না । তারপর তিনি আমার হাত ধরে তার ঘরে নিয়ে গেলেন। ঘরে আসার পর তিনি আমাকে বসার জন্য একটি আঁশভর্তি চামড়ার বলিশ দিয়ে বললেন: এতে বস।
আমি তাতে বসতে লজ্জাবোধ করলাম। আমি বললাম: বরং আপনি বসেন। তিনি বললেন: না তুমি বস ।
অবশেষে আমি তাঁর কথা মতো তাতে বসলাম। আর তিনি মাটিতে বসলেন কেননা ঘরে ওটি ব্যতীত বসার জন্য আর কিছুই ছিল না । আমি মনে মনে বললাম: আল্লাহর শপথ! এই রকম অবস্থা কোনো রাজার হতে পারে না । তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন : তুমি মিরবা নামক জায়গা দিয়ে সফর করার সময় এমন কিছু জিনিস গ্রহণ করেছ যা তোমার ধর্ম অনুযায়ী তোমার জন্য হালাল ছিল না।
আমি বললাম: হ্যাঁ, তাঁর এই কথার দ্বারা আমি বুঝতে পারলাম তিনি সত্যিই একজন নবী ।

তিনি বললেন: হে আদী! সম্ভবত তুমি এই ধর্ম গ্রহণ করছ না মুসলমানদের অভাব ও দারিদ্র্যতা দেখে। আল্লাহর শপথ! অচিরেই মুসলমানদের সম্পদ মতো বেশি হবে যে, সকাহ্ গ্রহণ করার মতো কোনো লোক পাওয়া যাবে না । হে আদী! সম্ভবত তুমি এই ধর্ম গ্রহণ করছ না মুসলমানদের সংখ্যা কম দেখে এবং তাদের শত্রু বেশি দেখে। আল্লাহর শপথ! অচিরেই এমন হবে যে, কোনো মহিলা থেকে তুমি শুনতে পাবে সে সুদূর কাদেসিয়া থেকে উটে করে এই ঘর জিয়ারত করতে আসবে, কিন্তু পথে সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করবে না। সম্ভবত তুমি এই ধর্ম গ্রহণ করছ না এই কারণে যে, তুমি দেখছ রাজত্ব অমুসলিমদের হাতে। আল্লাহর শপথ! অচিরেই তুমি শুনতে পাবে বাবেলের শুভ্র সে ভবনটি মুসলমানরা বিজয় করেছে এবং কিসরা বিন হরমুজের ধন ভাণ্ডার মুসলমানদের করতলে চলে এসেছে । আমি বললাম: কিসরা বিন হরমুজের ধন ভাণ্ডার? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কিসরা বিন হরমুজের ধন ভাণ্ডার । হযরত আদী বললেন: তখন আমি সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করি । হযরত আদী বিন হাতেম মি অনেক লম্বা হায়াত পেয়েছেন। তিনি বলতেন:রাসূল আমাকে যে তিনটি কথা বললেন তার দুইটি বাস্তবায়ন হয়েছে। আল্লাহর শপথ তৃতীয় কথাও বাস্তবায়ন হবে। আমি এক মহিলাকে দেখেছি সে সুদূর কাদেসিয়া থেকে উটে করে এই ঘর জিয়ারত করতে এসেছে, কিন্তু পথে সে এক আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করেনি। আমি সেই বাহিনী প্রথম সারিতে ছিলাম যারা কিসরা বিন হরমুজের ধন ভাণ্ডার বিজয় করে নিয়ে এসেছে।

আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় রাসূল এর তৃতীয় কথাটিও তাঁর জীবনে বাস্তবায়ন হয়েছে। যা ঘটেছে খলীফা উমর বিন আব্দুল আযীয-এর খেলাফত আমলে। মুসলমানদের সম্পদ মতো বেশি হয়েছে যে, এক ব্যক্তি ঘোষণা দিল কে আছ যাকাতের মাল নিবে? কিন্তু যাকাতের মাল নেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি।
আল্লাহ তাআলা রাসূল-এর কথা সত্যায়িত করেছেন আর আদী বিন হাতেম আলী কসমকে পূর্ণ করেছেন।

তথ্য সূত্র
১. আল ইসাবা - ২য় খণ্ড, ৪৬৮ পৃ.।
২. আল ইসতিআ'ব - ৩য় খণ্ড, ১৪০ পৃ.।
৩. তারীখুল ইসলাম লিয্ যাহাবী - ৩য় খণ্ড, ৪৬-৪৮ পৃ.। 
৪. তাহযীবুত্ তাহযীব - ৭ম খণ্ড, ১৬৬-১৬৭ পৃ.
৫. আল জামউ বায়না রিজালিস্ সহীহাইন – ১ম খণ্ড, ৩৯৮ পৃ.
৬. খুলাসাতু তাহীবিত্ তাহযীবিল কামাল - ২৬৩-২৬৪ পৃ.। 
৭. তাজরীদু আসমায়িস্ সাহাবা - ২য় খণ্ড, ১৬ পৃ. 
৮. তাক্বরীবুত্ তাহযীব - ২য় খণ্ড, ১৬ পৃ.।
৯. আল ইবরু - ১ম খণ্ড, ৭৪ পৃ.।
১০. আত্ তারীখুল কাবীর – ১ম খণ্ড, ৪৩ পৃ. ।
১১. উসদুল গবাহ - ৩য় খণ্ড, ৩৯২-৩৯৪ পৃ.।
১২. শাঘ্রাতুয্ যাহাব - ১ম খণ্ড, ৭৪ পৃ.। 
১৩. আল মাআ'রিফ - ১৩৬ পৃ.
১৪. আল মুআম্মারুন - ৪৬ পৃ. । 
১৫. ইবনু কাছীর - ৫ম খণ্ড ৬৫ পৃ. 
১৬. ফাহুল বারী - ৬ষ্ঠ খণ্ড ২১০ পৃ. । 
১৭. দালায়িলুল নুবুওয়্যাহ্ - ৪৭২ পৃ.।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.