[ads-post]
hjgtydff
অডিও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মজিদ অধ্যাপক গোলাম আযম অধ্যাপক নূরুল ইসলাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম আকারুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম আবদুল্লাহ নাজীব আবদুস শহীদ নাসিম আবু বকর বিন হাবীবুর রহমান আবুল কালাম আজাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী আব্দুল আযীয আব্দুল আযীয ইবন আহমাদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায আব্দুল হামিদ ফাইযী আব্দুল হামীদ আল ফাইযী আব্দুল হামীদ আল মাদানী আব্দুল্লাহ আল কাফী আব্দুল্লাহ আল মামুন আল আযহারী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আসসাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহান আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহীম আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ সালাফী আমিনুল ইসলাম আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম আশরাফ আলী থানভী আহমাদ মুসা জিবরীল ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল হাকীল এ এন এম সিরাজুল ইসলাম কামারুজ্জামান বিন আব্দুল বারী কুরবানী খন্দকার আবুল খায়ের খালেদ আবু সালেহ খুররম জাহ মুরাদ জহুর বিন ওসমান জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আযযাইদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ড. জাকির নায়েক ড. মোঃ আব্দুল কাদের ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল মাহারিব ড. সায়ীদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী ডক্টর মুহাম্মদ মুশাররফ হুসাইন ডাঃ দেওয়ান একেএম আবদুর রহীম নামায নারী নূর মুহাম্মদ বদীউর রহমান পরকালের আমল প্রফেসর ডাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া প্রবন্ধ প্রশ্ন-উত্তর ফজলুর রহমান ফয়সাল বিন আলি আল বাদানী বিষয়ভিত্তিক মহানবী মাও হুসাইন বিন সোহরাব মাওলানা আবদুল আলী মাওলানা আবদুস সাত্তার মাওলানা মুহাম্মদ মূসা মাওলানা মোঃ আবদুর রউফ মাওলানা মোঃ ফযলুর রহমান আশরাফি মাসুদা সুলতানা রুমী মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইবরাহীম মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুফতী মুহাম্মদ আবদুল মান্নান মুযাফফার বিন মুহসিন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব মুহাম্মদ ইকবাল কিলানী মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আততুওয়াইযীরি মুহাম্মদ গোলাম মাওলা মুহাম্মদ চৌধুরী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন মুহাম্মদ শহীদুল মুলক মুহাম্মদ সলেহ আল মুনাজ্জেদ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ মুহাম্মাদ ইকবাল কীলানী মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল উসাইমীন মোঃ সাইফুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দ মোস্তাফিজুর রহমানের ইবনে আব্দুল আযীয আল মাদানী মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন মোহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী যায়নুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে রজব আল হাম্বলী রফিক আহমাদ শাইখ নাসেরুদ্দিন আল আলবানী শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী শাইখ সালেহ বিন ফাওযান শাইখ হোসাইন আহমাদ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন তাইমিয়্যাহ শামসুল আলম সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী সাঈদ ইবন আলি ইবন ওহাফ আল কাহতানী সানাউল্লাহ নজির সানাউল্লাহ নজির আহমদ সাহাবীদের জীবনী সিয়াম হাফিয মুহাম্মাদ আইয়ুব বিন ইদু মিয়া

আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) এর জীবনী ।। Hazrat Abbas Bin Abdul Muttablib er Jiboni

আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) এর জীবনী

“এ হচ্ছেন আব্বাস, যিনি কোরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দানশীল এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী।” [মুহাম্মাদ]

কোরাইশদের নেতা আব্দুল মুত্তালিব বিন হাসিমের কানে একটি সংবাদ আসে, উমুক জায়গায় বুদ্ধিমতি ও সুন্দরী এক মহিলা আছে। যাকে মানুষে নুতাইলা নামে ডাকে । এ সংবাদ শুনে তিনি সেই মহিলার নিকটে গিয়ে নিজের জন্যে প্রস্তাব দিলেন। অবশেষে তিনি তাকে বিয়ে করলেন। সে মহিলা পরে একটি সুদর্শন বাচ্চা প্রসব করল। এতে আব্দুল মুত্তালিব খুব খুশি হলেন । আর সে বাচ্চাকে তিনি আব্বাস নামে ডাকলেন। মক্কার এ শায়েখের এ আনন্দে দু' বছর পার না হতেই তাঁর ছেলে আব্দুল্লার ঘরে আব্বাসের চেহারার মতো এক ছেলে জন্মগ্রহণ করলেন। তাঁকে দেখে তাঁর চোখে পানি চলে আসল । তিনি মনে মনে ভাবলেন হায়! এখন যদি তাঁর বাবা জীবিত থাকত এবং এ আনন্দেও শরীক হতো। এরপর তিনি তাঁর এ নাতির নাম রাখলেন মুহাম্মাদ। মুহাম্মাদ ও আব্বাস রা. উভয়ে আব্দুল মুত্তালিবের কোলে বড় হতে লাগলেন। তাঁরা এমনভাবে বেড়ে উঠলেন যে, তাঁরা জানাতেন না, তাঁদের সম্পর্ক চাচা ভাতিজা; বরং তাঁরা মনে করতেন তাঁরা উভয়ে ভাই ।

যখন আব্বাসের বয়স দশ বছর হয় তখন তাঁর বাবা আব্দুল মুত্তালিব মারা গেলেন । মক্কার এ মহান নেতার মৃত্যুতে পুরা মক্কাবাসী শোকাহত হলো, কিন্তু তাঁর মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান এ দু' বালক । কেননা তাঁর মৃত্যুর পর তাঁরা ইয়াতিম হয়ে গেলেন ৷ তাঁরা দু'জন ইয়াতীম অবস্থায় বেড়ে উঠতে লাগলেন। তাঁরা যখন যুবক বয়সে উপনীত হলেন তখন তাঁদেরকে একই বয়সের মনে হতো, মানুষেরা তাঁদের মাঝে পার্থক্য করতে পারত না । আব্বাস রা. ঈমান আনার পর একবার তাঁকে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করে- আপনি বড় নাকি রাসূল বড়? তিনি বললেন, তিনি আমার থেকে বড়, কিন্তু আমার বয়স তাঁর থেকে দু' বছর বেশি । যখন মুহাম্মাদ চল্লিশ বছরে উপনীত হলেন তখন তাঁকে আল্লাহ তায়ালা রেসালাতের দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করলেন। তিনি তাঁকে সত্য দ্বীন-সহকারে প্রেরণ করলেন এবং তাঁকে তাঁর নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করার নির্দেশ দিলেনI আব্বাস রা. থেকে আর কে আছেন যিনি রাসূল -এর এত নিকটের? তিনি তাঁর সমবয়সী, তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং তাঁর চাচা । আব্বাস রা. তাঁর বাবার পর গোত্রের নেতৃত্ব পেলেন। তিনি হাজীদেরকে পানি পান করার দায়িত্ব পালন করতেন। এটা এমন একটি দায়িত্ব ছিল, যে কাজ করার জন্যে সবাই প্রতিযোগিতা করত। তিনি ইসলামের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর জাতির থেকে লুকিয়ে থাকা অপছন্দ করলেন; বরং তিনি নেতৃত্ব প্রদান করতেই আগ্রহী হলেন। যার কারণে তিনি রাসূল  -এর আহ্বানে সাড়া দিলেন না ।

কিন্তু এরপরও তিনি রাসূল -এর সাহায্যে সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন। রাসূল সাতারায়-এর ওপর আপতিত বিপদ প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসতেন এবং তাঁকে পাহারা দিয়ে রাখতেন । এ কারণে যখন আনসাররা রাসূল -এর সাথে আকাবার শপথে দেখা করতে আসলেন তখন তিনি রাসূল -এর সাথে ছিলেন । তিনিই প্রথম কথা বলা শুরু করেন। তিনি বললেন, হে খাজরাজের দল, আমাদের মাঝে মুহাম্মাদের অবস্থান সম্পর্কে তোমরা ভালো করেই জানো। তাঁকে আমাদের গোত্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিপদে সহযোগিতা করা হয়। তিনি আমাদের এখানে সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে আছেন, কিন্তু তিনি তোমাদের নিকটে যেতে চাচ্ছেন এবং তোমাদের সেখানে অবস্থান করতে চাচ্ছেন । সুতরাং তোমরা যদি মনে কর তোমরা তাঁর সাথে যে ওয়াদা করেছ তা পূর্ণ করবে তাহলে তোমরা তা কর। আর যদি তোমরা মনে কর তিনি তোমাদের কাছে গেলে তোমরা তাঁকে ছেড়ে দেবে এবং অপমানিত করবে তাহলে তোমরা এখনই তাঁকে ছেড়ে দাও। কেননা তিনি তাঁর গোত্রের মধ্যে মর্যাদা, সম্মান ও নিরাপত্তার সাথে আছেন। তখন আনসাররা বলল, হে আবুল ফযল! আপনি যা বলেছেন আমরা তা শুনেছি। এরপর তাঁরা রাসূল এর দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার জন্যে ও আপনার প্রতিপালকের জন্যে যা পছন্দ আমাদের থেকে সেগুলোর বাইয়াত গ্রহণ করুন। বাইয়াত সম্পূর্ণ হওয়ার পর রাসূল সা তাঁর চাচা আব্বাসের সাথে রাতের অন্ধকারে মক্কায় ফিরে আসলেন।

কোরাইশরা রাসূল -এর বিরুদ্ধে বদরের যুদ্ধ করার সংকল্প করলে তিনি তা খুব অপছন্দ করেন । কিন্তু তিনি কোরাইশদের নেতা হওয়ার কারণে যুদ্ধে তাঁকে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। তিনি সেই বারো জনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা যুদ্ধে মুশরিকদের খাদ্যের ব্যবস্থায় নিয়োজিত ছিলেন । কিন্তু রাসূল আব্বাসের সাহায্য-সহযোগিতার কথা ভুলেননি। আর তাই তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, যে আবুল বকতারী বিন হিসামকে সম্মুখে পাবে সে যেন তাঁকে হত্যা না করে আর যে আব্বাসকে সম্মুখে পাবে সে যেন তাঁকে হত্যা না করে। কেননা তাঁরা দু'জন বাধ্য হয়ে যুদ্ধ করতে বের হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা রাসূল -কে বদরের যুদ্ধে বিজয় দিলেন । এতে মুশরিকদের অনেকে নিহত হয় এবং অনেকে বন্দি হয়। আব্বাস রা. বন্দিদের মধ্যে ছিলেন ।  আব্বাসকে যে লোক বন্দি করেন তিনি অনেক ক্ষীণ শরীরের অধিকারী ছিলেন। তাঁকে আবুল ইয়ুসরে বলে ডাকা হত । অথচ অপর দিকে আব্বাস রা. ছিলেন বিশালদেহী এবং অনেক শক্তির অধিকারী। যখন আব্বাস মক্কায় ফিরে গেলেন তখন তাঁর ছেলেরা তাঁর বন্দি হওয়ার ঘটনা শুনে খুব অবাক হল । তারা তাঁকে জিজ্জাসা করল- হে আমাদের পিতা! কিভাবে আবুল ইয়ুসরে আপনাকে বন্দি করেছে অথচ আপনি যদি চাইতেন তাকে আপনার আস্তিনে রাখতে পারতেন ।
তিনি বললেন, হে আমার ছেলেরা! আল্লাহর শপথ, যখন সে আমাকে ধরতে আসে তখন আমার চোখে তাকে হাতির থেকে বড় মনে হয়েছিল। যখন সে তার ছোট হাত দ্বারা আমার হাত আঁকড়ে ধরে তখন আমার মনে হয়েছিল রক্তগুলো রগ ছিঁড়ে বের হয়ে যাবে । এরপর সে আমার হাতগুলো পেছনে নিয়ে একটির সাথে অন্যটি রশি দিয়ে বেঁধে ফেলল । আমি তার সামনে সামনে হাঁটতে ছিলাম, আমি নিজেকে তার থেকে বাঁচাতে পারিনি এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারিনি । আব্বাস রা. প্রথম রাত বন্দি অবস্থায় বন্দিশালায় কাটালেন। বন্দিশালাটি রাসূল -এর নিকটে ছিল। আব্বাস রা. একাধারে কাঁদতে লাগলেন । যখন তাঁর কান্নার আওয়াজ রাসূল এর কানে গেল তিনি ঘুম থেকে জেগে গেলেন। তিনি খুব পেরেশান হয়ে গেলেন । সাহাবায়ে কেরাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি চিন্তিত কেন?

রাসূল  বললেন, আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের কান্নার আওয়াজের কারণে আমি চিন্তিত । তখন এক লোক তাঁর নিকটে গিয়ে দেখলেন তাঁকে খুব শক্ত করে বাঁধা হয়েছে, লোকটি তাঁর বাঁধ হালকা করে দেয় এতে তাঁর কান্নার আওয়াজ থেমে গেল । তাঁর কান্না থেমে যাওয়ার কারণে রাসূল  চিন্তিত হয়ে গেলেন । তিনি বললেন, আমার কি হলো আমি কেন আব্বাসের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না? লোকটি বলল, আমি তাঁর বাঁধন হালকা করে দিয়েছি। রাসূল মা বললেন, তাহলে সকল বন্দিদের বাঁধ হালকা করে দাও । এরপর রাসূল সকলের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিতে লাগলেন। আব্বাসের মুক্তিপণ নিতে গেলে তিনি ওযর পেশ করে বললেন- তাঁর কাছে কোনো অর্থ নেই । তখন রাসূল বললেন, তাহলে সেই সম্পদ কোথায় যা আপনি আপনার স্ত্রীর কাছে গচ্ছিত রেখেছেন এবং বলেছেন আমি যদি নিহত হয় তাহলে ফযলের জন্যে এতটুকু সম্পদ, আব্দুল্লাহর জন্যে এতটুকু সম্পদ আর উবাইদুল্লাহর জন্যে এতটুকু সম্পদ? তখন আব্বাস অবাক হয়ে গেলেন কেননা এ সংবাদ আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ রাসূল সা. জানাতে পারবে না। উহুদের যুদ্ধে আব্বাস রা. মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানান; বরং তিনি কাফিরদের যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পর্কে রাসূল অবহিত করলেন। এতে রাসূল সালাম-এর জন্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়াটা সহজ হয় এবং শত্রুদের মোকাবেলা করার জন্যে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পেলেন । রাসূল -এর নবুওয়াতের বয়স তখন বিশ বছর, কিন্তু তখনো আব্বাস রা. শির্ক ছাড়েননি।

একদিন তিনি তাঁর স্ত্রী উম্মে ফযলের সাথে বসে বসে রাসূল - এর গুণাগুণ ও উত্তম বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আলোচনা করতে লাগলেন এবং তিনি সম্পদের ওই ঘটনা বললেন যা তিনি গোপনে তাঁর স্ত্রীর নিকটে রেখে গেছেন, কিন্তু তারপরও রাসূল তা জেনে গেছেন। এরপর তিনি বললেন, হে ফযলের মাতা! তাহলে আমাদের কি হয়েছে কেন আমরা ইসলাম গ্রহণ করি না? এ কথা শুনে তাঁর স্ত্রী উম্মে ফযল খুব খুশি হয়ে গেলেন। মনে হয় তিনি এ আব্বাস থেকে একথারই অপেক্ষায় ছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি তাঁর জন্যে ও তাঁর স্ত্রীর জন্যে দু'টি বাহন নিয়ে প্রস্তুত করে মদিনার দিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করতে রওনা দিলেন । যখন আব্বাস রা. ও তাঁর স্ত্রী জাফ্ফা নামক স্থানে পৌঁছেন তখন তাঁরা রাসূল সা ও তাঁর সেনাবাহিনীর সামনে পড়লেন । রাসূল এর সাথে তাঁদের এ সাক্ষাৎ আকস্মিকভাবে হল । রাসূল সা. তাঁর চাচাকে বললেন, হে আমার চাচা! আপনাকে কিসে আসতে বাধ্য করেছে? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল রাস্তার এর প্রতি আকৃষ্টতা। তারপর তিনি ও তাঁর স্ত্রী ইসলামের কথা ঘোষণা করে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করলেন। যদিও তা অনেক দেরি হয়ে গেছে । তাঁদের মুখে কালেমা শাহাদাত শুনার সাথে সাথে আনন্দে রাসূল -এর চোখে পানি এসে গেল । তিনি বললেন, হে আমার চাচা আপনার হিজরত শেষ হিজরত যেমন আমার নবুওয়াত শেষ নবুওয়াত ।

ওই দিন থেকে আব্বাস রা. সংকল্প করলেন ইসলামের খেদমত করার যে সুযোগ তিনি হারিয়েছেন তাঁর ক্ষতিপূরণ দেবেন। যার কারণে তিনি তাঁর মাল ও জানকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সালাল-এর সন্তুষ্টির জন্যে বিলিয়ে দিতে লাগলেন । হুনাইনের যুদ্ধের দিন যখন মুসলমানগণ কাফিরদের তীব্র আক্রমণের স্বীকার হয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে দিক-বেদিক ছুটতে শুরু করলেন তখন আব্বাস রা. রাসূল -এর পাশে ক্ষিপ্ত সিংহের মতো অবস্থান নিলেন । তিনি ডান হাত দিয়ে তরবারি ঘুরাতে লাগলেন আর বাম হাত দিয়ে রাসূল সাজাতা-এর খচ্চরের লাগাম ধরে রাখলেন। সাহাবীদের সামান্য সংখ্যক জিহাদের ময়দানে থেকে যুদ্ধ করলেন। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা হুনাইনের যুদ্ধে মুসলমানদেরকে বিজয় দান করলেন ।  যখন রাসূল জায়সে উসরার জন্যে দান করতে মুসলমানদেরকে আহ্বান করলেন তখন আব্বাস রা. তাঁর সকল সম্পত্তি রাসূল এর সামনে ঢেলে দিলেন । রাসূল রাস্তায়-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর রা. খেলাফতের দায়িত্বে আসলে আব্বাস সব সময়ে পরামর্শদাতা ও সাহযোগী হিসেবে তাঁর পাশে ছিলেন । রাসূল এর খলীফা আবু বকর ও ওমর তাঁর মর্যাদার স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করতেন। এ কারণেই, রমাদার বছর যখন অনাবৃষ্টির কারণে মুসলমানদের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেল । সকল পশুর ওলান শুকিয়ে গেল এবং সকল ফসল মরে গেল । এতই অনাবৃষ্টি যে, মনে হয় যেন উপরিভাগ সব তামা হয়ে গেছে । তখন ওমর রা. মুসলমানদেরকে নিয়ে বৃষ্টির জন্যে দোয়া করতে বের হলেন। কিন্তু এরপরও বৃষ্টি হয়নি।
তিনি এভাবে অনেকবার করলেন, কিন্তু তাঁর দোয়া কবুল হয়নি। তখন তিনি তাঁর সাথীদেরকে বললেন, আমরা আগামী কাল এমন একজনের দ্বারা বৃষ্টির জন্যে প্রার্থনা করব যার দোয়ার কারণে আল্লাহ চাইলে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। পরের দিন সকাল হলে তিনি আব্বাস রা.-এর নিকটে চলে গেলেন। তখন আব্বাস খুব বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে বললেন, হে চাচা! আপনি আমাদের সাথে চলুন, সম্ভবত আল্লাহ আপনার হাতে আমাদেরকে বৃষ্টি দেবেন ।

আব্বাস রা. আল্লাহভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে বের হলেন। তাঁর সামনে আলী বিন আবু তালিব, তাঁর ডানে হাসান রা., বামে হুসাইন। আর পেছনে সকল মুসলমান । তিনি দু' রাকাত নামায পড়ালেন । নামায শেষে ওমর রা. অশ্রু সিক্ত নয়নে রাসূল -এর চাচার হাত ধরে বললেন, হে রাসূলের চাচা! আপনি আমাদের জন্যে দোয়া করুন। তখন আব্বাস রা. আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে আকাশের মালিকের দিকে হাত বাড়ালেন । তিনি উচ্চ আওয়াজে আল্লাহর নিকটে দোয়া করতে শুরু করলেন। আর মানুষ তাঁর সাথে সাথে আমীন বলতে লাগল । তাঁর দোয়া শেষ না হতেই মেষের গর্জন শুরু হয়ে গেল এবং আকাশ থেকে অঝোরে বৃষ্টি শুরু হতে লাগল ৷ আল্লাহ মুসলমানদের থেকে কষ্ট দূর করে দিলেন এবং তাদের বিপদ দূর করে দিলেন । আল্লাহ তায়ালা তাঁর দোয়ার মাধ্যমে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন এবং মানুষকে পানি পান করে পরিতৃপ্ত করলেন । আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকেও সন্তুষ্ট করুন। 

তথ্যসূত্র
১. সিফাতুস্ সফওয়া-১ম খণ্ড, ৫০৬ পৃ.।
২. হায়াতুস্ সাহাবা-১ম খণ্ড, ২৪০ পৃ.।
৩. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-২য় খণ্ড, ২১৮ পৃ. ও ৪র্থ খণ্ড, ২১৫, ৩৩১ পৃ. ও ৭ম খণ্ড, ১৬১ পৃ.।
৪. সিরাতুবনি হিশাম- (সূচিপত্র দ্রষ্টব্য)।
৫. আল ইসাবা-২য় খণ্ড, ২৭১ পৃ.।
৬. তাহযীবুত্‌ তাহযীব-৫ম খণ্ড, ১২২ পৃ.।
৭. আল জারহু ওয়াত্ তাদীল-১৩তম খণ্ড, ২১০ পৃ.।
৮. আল ইসতিআ'ব-৩য় খণ্ড, ৯৪ পৃ.।
৯. আত্ তারিখুল কাবীর-৪র্থ খণ্ড, ২ পৃ.।
১০. আল জাউ বায়না রিজালিস্ সহীহাইন-১ম খণ্ড, ৩৬০ পৃ.
১১. আত্ ত্বাবাকাতুল কুবরা-৪র্থ খণ্ড, ৫ পৃ.। 
১২. উদুল গবাহ্-৩য় খণ্ড, ১৬৪ পৃ. 1 
১৩. তাহযীবুল কামাল-৯ম খণ্ড, ৪০৪ পৃ. 1 
১৪. তাজরীদু আসমায়িস্ সাহাবা-৩১৭ পৃ.। 
১৫. তারিখুল ইসলাম লিয্ যাহাবী-২য় খণ্ড, ৯৮ পৃ. 
১৬. সাম্রাতুয্ যাহাব-১ম খণ্ড, ৩৮ পৃ.। 
১৭. আল মাআরিফ-৭১ ও ৭৪ পৃ.।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[blogger]

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.