হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন হুজাফা আসাহমী
“প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার কপালে চুমু খাওয়া, আর আমি নিজেই সর্বপ্রথম তা শুরু করছি।” [তাঁর সম্মানে হযরত উমর বিন খাত্তাব]-এর বাণী আমাদের এই জীবন-কাহিনীর বীর হলেন রাসূল -এর সম্মানিত সাহাবী যাঁকে আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা আসাহমী বলে ডাকা হতো ৷ কোনো প্রকার কথা বলা ব্যতীত ইতিহাস তাঁকে পাশ কেটে চলে যেত যেমনিভাবে তাঁর গোত্রের অন্য সাধারণ আরবদেরকে পাশ কেটে চলে গেছে। কিন্তু ইসলাম হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাকে তৎকালীন বিশ্বের শক্তিশালী দুই সম্রাটের সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিল। তারা হচ্ছে পারস্য সম্রাট কিরা এবং রোমান সম্রাট কায়সার । আর এই দুই সম্রাটের সাথে সাক্ষাতে আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার সাহসিকতা সবাইকে অবাক করে দিল। যা ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে । যা হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাকে ইসলামের প্রথম যুগ থেকে এখন পর্যন্ত সকল মুসলমানদের অন্তরে স্থান করে দিয়েছে । পারস্যের সম্রাট কিম্রার সাথে ঘটিত ঘটনা যা ষষ্ঠ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল...... যখন নবী করীম তাঁর সাহাবীদের থেকে এক দল লোককে অনারব সম্রাট কিসরার নিকটে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি পত্র দিয়ে প্রেরণ করার সংকল্প করলেন । এটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ও কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ ছিল তা রাসূল অনুমান করতে পেরেছেন। কেননা তারা একটি দূরবর্তী দেশে যাবে আর ওই দেশের সাথে মুসলমানদের কোনো প্রকার শান্তি চুক্তিও নেই..........। তাছাড়া পত্রবাহকরা ওই দেশের ভাষাও জানে না। আর ওই রাজ্যের সংস্কৃতিও তাদের পরিচিত না । সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, পত্রবাহকরা তাদেরকে তাদের নিজস্ব ধর্ম, কর্ম, সম্মান ও নেতৃত্ব ত্যাগ করে এমন এক জাতির ধর্ম গ্রহণ করতে বলবে, যে জাতি কিছু দিন আগেও তাদের অনুসারী ছিল। আর এই সকল কারণে সফরটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, যে এই সফরে যাবে তাকে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে যেতে হবে। কেননা এই সফর থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আর যে ফিরে আসতে পারবে সে যেন নব-জন্মগ্রহণকারী শিশুর মতো আরেকটি জীবন পাবে । এ মহান কাজের কঠিন পরিস্থিতির কথা ভেবে সাহাবায়ে কেরাম যাতে মনোবল না হারান এবং মানসিকভাবে এ মহান কাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য সাহাবীদেরকে উৎসাহিত করতে রাসূল তাদেরকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দিলেন ।
এ ভাষণে তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করলেন। এরপর বললেন: “আমি ইচ্ছা করেছি তোমাদের থেকে কিছু লোককে অনারবদের রাজ্যে প্রেরণ করব। সুতরাং বনী ইসরাইল যেভাবে তাদের নবীদের বিরোধিতা করেছে তোমরা তাদের মতো আমার বিরোধিতা করবে না।” রাসূল -এর সাহাবিগণ বললেন: আপনি যা করতে চাইবেন আমরা তা বাস্ত বায়ন করব। সুতরাং আপনি যেখানে চান আমাদেরকে প্রেরণ করুন। আরব ও অনারবদের রাজ্যে পত্র প্রেরণ করার জন্য রাসূল সাহাবীদের মধ্য থেকে ছয়জনকে বেছে নিলেন। তাদের মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাও ছিলেন। তাঁকে পারস্য সম্রাট কিার নিকটে চিঠি প্রেরণ করার দায়িত্ব দেওয়া হলো ।
আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা তাঁর বাহন ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত করে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান থেকে বিদায় নিলেন। তিনি রাসূল সানাহার-এর মহান আদেশ পালন করতে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। এই বিপদসঙ্কুল পথ কখনো তাঁকে পাহাড়ের উঁচুতে উঠিয়েছে আবার কখনো নিম্নভূমিতে নামিয়েছে। আর তিনি একা একাই এই মরণরাস্তা অতিক্রম করছিলেন, সাথে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউই ছিল না। অবশেষে তিনি পারস্য রাজ্যে গিয়ে পৌঁছলেন । পারস্য রাজভবনের সামনে গিয়ে তিনি সম্রাট কিার নিকটে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এবং সম্রাটের অনুচরকে পত্রের ব্যাপারে অবহিত করলেন । আরব থেকে দূত আগমন করার কথা জেনে সম্রাট তার ভবনকে সাজানোর নির্দেশ দিল। সম্রাটের নির্দেশ অনুযায়ী রাজভবনকে সুন্দর করে সাজানো হলো । সম্রাট তার বিশিষ্ট নেতাদেরকে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান করল। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা সভায় উপস্থিত হলো। এরপর সম্রাট হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাকে রাজকক্ষে প্রবেশ করার অনুমতি দিল।হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা যদি তাহার সাধারণ জুব্বা ও পাগড়ি পরিধান করা বেদুঈনদের বেশে পারস্য সম্রাটের দরবারে প্রবেশ করলেন। কিন্তু তাঁর সাহসিকতা ছিল আকাশচুম্বি, মনোবল ছিল পাহাড়ের মতো অটল। আর তখন তাঁর চেহারা মোবারক ঈমানের নূরে উদ্ভাসিত হচ্ছিল। যখন সম্রাট তাঁকে পত্রটি হস্তান্তর করার জন্য সামনের দিকে আসতে দেখলো, তখন সে তার নিয়োজিত ব্যক্তিদের একজনকে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার হাত থেকে পত্রটি নেওয়ার জন্যে ইশারা করল । কিন্তু তিনি বললেন: না, কেননা রাসূল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন পত্রটি যেন সরাসরি আপনার হাতে হস্তান্তর করি। আর আমি রাসূল -এর নির্দেশ অমান্য করতে পারি না ।
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে পারস্যের সম্রাটের প্রতি। যারা হেদায়েতের ওপর তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক...আছে ।” এতটুকু শুনার পর তার বক্ষে ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠল, তার চেহারা লাল হয়ে গেল, তার ঘাড়ের শিরা-উপশিরা ফুলে উঠল। কেননা রাসূল তার নাম দিয়ে পত্রটি শুরু না করে নিজের নাম দিয়ে শুরু করেছেন। সে লেখকের হাত থেকে পত্রটি ছিনিয়ে নিল এবং তাতে কি আছে তা জানা ব্যতীতই পত্রটি ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। আর চিৎকার করে বলতে লাগল- সে আমার গোলাম হয়ে আমার নিকটে এটি লিখল .....?! তারপর সে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা -কে সভা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিল। তার নির্দেশমতো তাঁকে বের করে দেওয়া হলো ।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন হুজাফা সম্রাটের সভা থেকে বের হয়ে গেলেন। তিনি তখনো জানেন না আল্লাহ তাঁর ভাগ্যে কি লিখে রেখেছেন। তাঁকে কি হত্যা করা হবে না কি ছেড়ে দেওয়া হবে । কিন্তু তিনি মনে মনে বললেন: আল্লাহর শপথ! রাসূল -এর দেওয়া দায়িত্ব পালন করার পর এর পরিণতির ব্যাপারে আমি কোনো কিছুই পরওয়া করি না। এরপর তিনি বাহনে চড়ে মদিনার পথে রওয়ানা দিলেন ।
বাজান তার দুই সৈন্যকে বলে দিলেন- তারা যেন রাসূল -এর অবস্থান ও কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে এবং এই ব্যাপারে তাঁকে অবগত করে ৷ সৈন্য দুই জন তাদের যাত্রা শুরু করে। চলতে চলতে তারা তায়েফে এসে পৌঁছলো। তায়েফে তাদের সাথে কোরাইশের একটি ব্যবসায়ী কাফেলার দেখা হলো। তারা তাদেরকে মুহাম্মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। কাফেলার লোকেরা বলল: সে ইয়াসরিবে আছে। এরপর ব্যবসায়ী কাফেলা আনন্দ-উল্লাস করতে করতে মক্কায় ফিরে গেল। মক্কায় গিয়ে তারা কোরাইশদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে বলল: তোমরা চক্ষু শীতল কর অর্থাৎ- সুসংবাদ গ্রহণ কর, মুহাম্মদের পেছনে পারস্য সম্রাট কিসরা লেগেছে। আর কিার শাস্তিই তোমাদের প্রতিশোধের জন্য যথেষ্ট অন্যদিকে ওই দুই জন সৈন্য রাসূল-এর উদ্দেশে মদিনার দিকে রওয়ানা করে। মদিনায় পৌঁছে তারা রাসূল -এর হাতে পত্রটি হস্তান্তর করল। তারা বলল: আমাদের সম্রাট বাজানকে পারস্য সম্রাট এ আদেশ দিয়েছে- তিনি যেন আপনার নিকটে সৈন্য প্রেরণ করে আপনাকে তার দরবারে হাজির করেন। আর তাই আমরা আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে এসেছি; সুতরাং আপনি যদি বিনা বাক্যে আমাদের সাথে রওয়ানা করেন তাহলে আমরা পারস্য সম্রাটের নিকটে আপনার জন্য সুপারিশ করব। যা আপনার উপকারে আসবে এবং তার শাস্তি থেকে আপনাকে বাঁচাবে। আর যদি আপনি যেতে অস্বীকার করেন তাহলে আপনাকে ও আপনার জাতিকে ধ্বংস করার জন্য পারস্য সম্রাটের কতটুকু ক্ষমতা ও শক্তি আছে, সে সম্পর্কে তো অবশ্যই আপনার জানা আছে ।
তাদের দৃষ্টি রাসূল -এর দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে রইলো। তাদের চেহারায় বিস্ময়ের ভাব ফুটে উঠল । তারা বলল: আপনি জানেন আপনি কি বলছেন? আমরা এটি বাজানের নিকটে লিখব?
রাসূল বললেন: হ্যাঁ, এবং তোমরা তাকে বলবে :
“আমার ধর্ম অতি শীঘ্রই কিসরার রাজ্য যতটুকু পৌঁছেছে ততটুকু পৌঁছে যাবে। সুতরাং তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ কর তাহলে তোমাকে আমি তোমার আয়ত্তে থাকা রাজ্যটি দান করব এবং তোমাকে তোমার গোত্রের বাদশাহ্ বানাব।” তারপর ওই দুই সৈন্য রাসূল -এর নিকট থেকে চলে গেল । তারা বাজানের নিকটে এসে পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করল। বাজান বললেন: মুহাম্মদ যা বলেছে তা যদি সত্য হয় তাহলে তিনি একজন নবী আর যদি মিথ্যা হয় তাহলে আমরা তাকে দেখে নিব। তাঁকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি এর মধ্যে একদিন শিরাওয়াই-এর পত্র তার নিকটে এসে পৌঁছলো। সেই পত্রে শিরাওয়াই বলল: আমি পারস্য সম্রাটকে হত্যা করেছি। আমার জাতির পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যেই আমি তাকে হত্যা করেছি। কেননা সে অনেক সম্মানিত ব্যক্তিদের হত্যা করেছে তাদের মহিলাদেরকে বন্দি করেছে এবং তাদের সম্পদ লুট করেছে। যখনই আমার পত্র তোমার নিকটে পৌঁছবে তখনই তোমার কাছে যারা আছে তাদের থেকে আমার আনুগত্যের স্বীকৃতি নিবে ।
এ পত্রটি পড়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে বাজান ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন এবং তার সাথে ইয়ামানে অবস্থানরত সকল পারস্যবাসীও ইসলাম গ্রহণ করলেন।
রোমের সম্রাট আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তারপর বলল: আমি তোমার সমীপে একটি প্রস্তাব পেশ করছি। হযরত হুজাফা শামিম বললেন: কী প্রস্তাব? সম্রাট বলল: তুমি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ কর। যদি তুমি তা কর আমি তোমাকে ছেড়ে দিব এবং তোমাকে যথেষ্ট সম্মানজনক পুরস্কার প্রদান করব। তখন হযরত হুজাফা ঘৃণা ও দৃঢ়তার সাথে বললেন: হায় আফসোস ! তুমি আমাকে যেদিকে ডাকছো তা করা থেকে হাজারবার মৃত্যুবরণ করা আমার নিকটে অধিক উত্তম । সম্রাট বলল: আমি তোমাকে বিচক্ষণ মনে করছি...... । সুতরাং তুমি যদি আমার কথায় সাড়া দাও তাহলে তোমাকে আমার কাজে অংশীদার করব এবং আমার রাজত্বের ভাগ দিব। এ কথা শুনে লোহার শিকলে বন্দি হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাইফা মৃদু হেসে বললেন: আল্লাহর শপথ! তুমি যদি আমাকে তোমার সমগ্র রাজত্ব দিয়ে দাও এবং আরবে তুমি যা কিছুর মালিক সব দিয়ে দাও তাহলেও আমি মুহাম্মদের ধর্ম থেকে একচুল পরিমাণও নড়ব না । সম্রাট বলল: তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করব ।
তিনি বললেন: তোমার ইচ্ছে। তারপর সম্রাট তাঁকে শুলিতে চড়ানোর নির্দেশ দিল। সম্রাটের নির্দেশ অনুসারে তাঁকে শূলিতে চাড়ানো হলো। সম্রাট তীরন্দাজকে বলল: তোমরা তার হাতের আশপাশে তীর নিক্ষেপ কর। এরপর সম্রাট তাঁকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে আহ্বান করে, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন । সম্রাট আবার বলল: তোমরা তার পায়ের আশপাশে তীর নিক্ষেপ কর। অন্যদিকে সে তাঁকে তার নিজ ধর্ম ত্যাগ করতে আহ্বান করে, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সম্রাট নিরাশ হয়ে তাঁকে শূলি থেকে নামানো আদেশ দিল। সে তার লোকদেরকে বড় একটি পাত্র নিয়ে আসার নির্দেশ দিল। সেই পাত্রটি তেল ঢেলে ভর্তি করা হলো। এরপর তা আগুনের উপরে রেখে উত্তপ্ত করা হলো। তেলগুলো আগুনের তেজে টগবগ করতে লাগল। এরপর সম্রাট মুসলিম বন্দিদের থেকে দুই জন বন্দিকে নিয়ে আসার নির্দেশ দিল। তাদের একজনকে গরম তেলে নিক্ষেপ করল। নিক্ষেপ করার সাথে সাথে তার গোশতগুলো গলে হাড্ডি থেকে আলাদা হয়ে গেল এবং খালি হাড্ডিগুলো ভেসে উঠল। এরপর সম্রাট আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার আহ্বান করে। এবার তিনি আগের থেকেও জোর গলায় তা প্রত্যাখ্যান করেন ।
সম্রাট যখন হতাশ হয়ে গেল তখন তাঁকেও তাঁর সঙ্গীদের মতো গরম তেলে নিক্ষেপ করার আদেশ দিয়ে চলে গেল। সম্রাট চলে যাওয়ার পর হযরত হুজাফা কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁর কান্না দেখে তারা সম্রাটকে গিয়ে বলল: সে তো কাঁদছে....... সম্রাট ধারণা করল তিনি ভয় পেয়েছেন। আর তাই সে তাদেরকে বলল: তাকে আমার নিকটে নিয়ে আস। তারা তাঁকে নিয়ে আসলে সম্রাট আবারও তাঁকে খ্রিস্টান হওয়ার প্রস্তাব দিল, কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান ।
সম্রাট বলল: তোমার ধ্বংস হতো! তাহলে তুমি কেন কেঁদেছ? তিনি বললেন: আমি এ ভেবে কেঁদে ছিলাম যে, আমাকে এখন তেলে নিক্ষেপ করা হলে তো আমি মাত্র একবার মারা যাব, কিন্তু আমার তো ইচ্ছা আমার শরীরে যত পশম আছে তত সম পরিমাণ যদি আমার আত্মা থাকতো তাহলে আমাকে ততবার এ পাত্রে নিক্ষেপ করা হতো। আর আমি ততবার আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতাম । সম্রাট বলল: তুমি কি আমার কপালে চুমু খাবে? তাহলে আমি তোমাকে ছেড়ে দিব ।
তিনি খলীফা উমর রাদিয়ার -এর নিকটে ফিরে এসে তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিলেন। ঘটনাটি শুনে হযরত উমর রাশিয়ায় অনেক বেশি খুশি হলেন। আর বললেন: “প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার কপালে চুমু খাওয়া, আর আমি নিজেই সর্বপ্রথম তা শুরু করছি। ”
২. আস্ সিরাতুন নববিয়্যাতে লি ইবনে হিশাম - (সূচিপত্র দ্রষ্টব্য)।
৩. হায়াতুস্ সাহাবা লি মুহাম্মদ ইউসুফ কান্দাহলভী - (সূচিপত্র)।
৪. তাহযীবুত্ তাহযীব - ৫ম খণ্ড, ১৮৫ পৃ.
৫. ইমতাউল আসমা' - ১ম খণ্ড, ৩০৮, ৪৪৪ পৃ.।
৬. হুসনুস্ সাহাবা - ৩০৫ পৃ. ৷
৭. আল মুহাব্বার - ৭৭ পৃ. ৷
৮. তারীখুল ইসলাম লিয্ যাহাবী - ২য় খণ্ড, ৮৮ পৃ.।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন